তালেবান প্রশাসনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাবুলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বিরল আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের জিম্মি প্রতিক্রিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত অ্যাডাম বোহলার এবং আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ, তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদারের কার্যালয় তাদের বৈঠকের পর জানায়, “অ্যাডাম বোহলার আফগানিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আটক নাগরিকদের বিষয়ে কথা বলেছেন এবং বলেছেন যে, উভয় দেশই বন্দি বিনিময় করবে।”
এই বৈঠক সম্পর্কে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতি আসেনি।
ওয়াশিংটন অনুযায়ী, কাবুলে একটি টেলিযোগাযোগ সংস্থায় কাজ করা একজন আমেরিকান নাগরিক এবং ব্যবসায়ী মাহমুদ হাবিবী হলেন সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল আমেরিকান বন্দি। যুক্তরাষ্ট্র তাকে খুঁজে বের করার তথ্যের জন্য ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তবে, তালেবান কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালে তার নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।
তালেবান গুয়ান্তানামো বে-তে আটক শেষ আফগান নাগরিক মুহাম্মদ রহিমকে মুক্তি দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তাকে ২০০৮ সাল থেকে বিনা অভিযোগে আটক রাখা হয়েছে।
আরেকজন আমেরিকান, বিমান সংস্থার মেকানিক জর্জ গ্লেজম্যান, বোহলারের মার্চে কাবুল সফরের সময় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আটক থাকার পর মুক্তি পান।
কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া সেই চুক্তিকে তালেবান একটি “মানবিক” পদক্ষেপ এবং “সদিচ্ছার লক্ষণ” হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
এর আগে, জানুয়ারি ২০২৫-এ, দুই পক্ষ একটি বন্দি বিনিময় করেছিল, যেখানে আমেরিকান নাগরিক রায়ান কর্বেট এবং উইলিয়াম ওয়ালেস ম্যাকেন্টির বিনিময়ে আফগান নাগরিক খান মোহাম্মদকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ একে অপরের দেশে কারারুদ্ধ নাগরিকদের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতেও সম্মত হয়েছে।
২০ বছরের মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর ২০২১ সালে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসা তালেবান প্রশাসনকে ওয়াশিংটন স্বীকৃতি দেয়নি। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/