ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে আইডিএফ ভয়াবহ আক্রমণাত্মক স্থল অভিযান শুরু করেছে। ইসরায়েলি সেনাদের ভয়াবহ হামলায় গাজা ছেড়ে পালাচ্ছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি।
এরমধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা সিটির টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে গাজা সিটি পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ফিলিস্তিনি টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথরিটি জানিয়েছে, উত্তর গাজার প্রধান লাইনে ইসরায়েলি দখলদাররা হামলা চালানোর পর ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, বার্তাসংস্থা এপির সাংবাদিকরা ইসরায়েলি হামলার পর সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে গাজার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারেনি।
এদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। তাদের বোমা ও গুলিবর্ষণের কারণে হাজারো মানুষ শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন হয়তো আর কখনো ফিরে যেতে পারবেন না। জাতিসংঘ মহাসচিব এই হামলাকে “ভয়ংকর” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আরেকদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ নিজের এক্স একাউন্টের এক পোস্টে লিখেছেন, “গাজা জ্বলছে”।
ইতোমধ্যে আসবাবপত্র বোঝাই ভ্যান, গাধার গাড়ি আর হাতে সামান্য মালপত্র নিয়ে চারপাশে ধ্বংসস্তূপ আর কালো ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে মানুষজন উপকূলীয় আল-রাশিদ সড়ক ধরে দক্ষিণে ছুটছেন।
প্রথম দিকে অনেকেই ইসরায়েলের দখল পরিকল্পনা জানা সত্ত্বেও থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বহুতল ভবন, বাড়িঘর আর অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ায় তারা এখন দক্ষিণে পালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেখানেও নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা নেই।
গত মঙ্গলবার একদিনেই ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনী নিহত হন এবং এদিন অন্তত ১৭টি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, উপকূলীয় সড়ক ধরে পালানোর সময় একদল মানুষের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে পূর্ব গাজার তুফফাহ এলাকার আইবাকি মসজিদকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।
একইসঙ্গে উত্তরে, দক্ষিণে ও পূর্বে বিস্ফোরক বোঝাই রোবট দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় সেনারা। এ মাসের শুরুতে মানবাধিকার সংগঠন ইউরোমেড মনিটর জানায়, সেখানে অন্তত ১৫টি এমন রোবট মোতায়েন করা হয়েছে, প্রতিটি দিয়ে প্রায় ২০টি বাড়ি ধ্বংস করা সম্ভব।
আল জাজিরা বলছে, প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি যুদ্ধের প্রথম ধাপ শেষে ধ্বংসস্তূপে ভরা গাজা সিটিতে ফিরে এসেছিলেন। তবে এখন কতজন রয়ে গেছেন তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ শহর ছেড়েছেন। অপরদিকে গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানায়, সমান সংখ্যক মানুষ শহরের কেন্দ্র ও পশ্চিম অংশে আশ্রয় নিয়েছেন, আর ১ লাখ ৯০ হাজার সম্পূর্ণভাবে গাজা সিটি ছেড়েছেন।
সুলতানা দিনা/