যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, যেসব টিভি চ্যানেল তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে, তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এমন একটি সময় তার এ মন্তব্য সামনে এল যখন প্রখ্যাত মার্কিন টিভি ব্যক্তিত্ব জিমি কিমেলের অনুষ্ঠান স্থগিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির বিনোদন অঙ্গন ও রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে।
জিমি কিমেল ডানপন্থি অধিকারকর্মী চার্লি কার্কের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে মন্তব্য করেন। মূলত কার্কের হত্যাকারীকে ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইনের সমর্থকরা কীভাবে তুলে ধরছে, সে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস করেন। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল। পরে ডিজনি মালিকানাধীন এবিসি নেটওয়ার্কের সিদ্ধান্ত অনুসারে স্থগিত করা হয় কিমেলের অনুষ্ঠান।
খবরটি সামনে আসার পরপরই তোলপাড় শুরু হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে পুরো বিষয়টিকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ট্রাম্প শিবির ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এসব ডামাডোলের মধ্যেই ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর ছিল। সেখান থেকে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সারির ৯৭ শতাংশ নেটওয়ার্ক (গণমাধ্যম ও টিভি চ্যানেল) আমার বিরুদ্ধে কথা বলে। আর এই ৯৭ শতাংশ নেতিবাচকতার পরও আমি সহজে বিজয়ী হই। আমি সাতটি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের সব কয়টিতে বিজয়ী হয়েছি। তারা শুধুই আমার বিরুদ্ধে খারাপ বলে। হ্যাঁ, তারা লাইসেন্স পেয়েছে, তবে আমি মনে করি, তাদের সে লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া উচিত।’
তবে ট্রাম্প ৯৭ শতাংশ গণমাধ্যম ও টিভি নেটওয়ার্ক তার বিরুদ্ধে কথা বলে এমনটা দাবি করলেও এটির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি বা কারা কারা এটি বলে সে বিস্তারিতও উত্থাপন করেননি।
এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট টিভি নেটওয়ার্কের লাইসেন্স ইস্যুতে যে মন্তব্য করেছেন, তা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মানুসারে স্থানীয় টিভি স্টেশনের অনুমতি নিতে হলেও বড় বড় টিভি ও রেডিও নেটওয়ার্কের এফসিসির লাইসেন্সের প্রয়োজন পড়ে না। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান