যুক্তরাজ্যের সরকারি মানচিত্রে এবার স্থান পেল ‘স্টেট অব প্যালেস্টাইন’ বা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নাম। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘোষণা আসার পরপরই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দেশটি। খবর স্কাই নিউজের।
ব্রিটিস সরকার রাষ্ট্রটির স্বীকৃতি ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে 'অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল নাম হালনাগাদ করা হয়। এরই মধ্যে দেশটির পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথের মানচিত্রের বন্ধনীতে পশ্চিম তীর এবং গাজার সঙ্গে ফিলিস্তিন নাম উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া, উন্নয়ন অফিসের মানচিত্রসহ ভ্রমণ নির্দেশিকা, দূতাবাসের তালিকা ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নথিতেও এখন স্পষ্টভাবে লেখা আছে ‘স্টেট অব প্যালেস্টাইন’। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এটি যুক্তরাজ্যের অবস্থানের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এক বিবৃতিতে বলন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যে আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ।’
শুধু তাই নয়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন।
ফিলিস্তিন স্বীকৃতির দৌড়ে যুক্তরাজ্য একা নয়। এর আগে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। চলতি বছরের শুরুতেই স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়েও একই সিদ্ধান্ত নেয়।
জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ধারাবাহিক পদক্ষেপ আরও গতিশীল হয়েছে। এর একদিন আগে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এরপর ফ্রান্স, বেলজিয়াম, মাল্টা ও লুক্সেমবার্গ,অ্যান্ডোরা, মোনাকোসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কয়েকটি দেশ শিগগিরই একই পথে হাঁটবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ স্বীকৃতির বিপক্ষে অবস্থান করছে। ওয়াশিংটনের যুক্তি হলো-ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। ফলে পশ্চিমা ব্লকের ভেতরে এ বিষয়ে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সুলতানা দিনা/