জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিতে ইউরোপের আকাশসীমা এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দ্য মিডঅল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন।
গাজায় গণহত্যা চালানোর অপরাধে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। এ অবস্থায় গ্রেপ্তার এড়াতে ইউরোপীয় দেশগুলোর আকাশসীমা এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন নেতানিয়াহু।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগে তার এই ভিন্নধর্মী ভ্রমণ রুট আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দ্য মিডঅল ইস্ট আই বলছে, নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে ইউরোপের আকাশসীমা এড়িয়ে একটি অস্বাভাবিক রুট বেছে নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থেকে বাঁচতেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে যাত্রা করার সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি উড়োজাহাজ ‘উইংস অব জায়ন’ ইউরোপীয় আকাশসীমা এড়িয়ে উড্ডয়ন করে।
গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। যদিও এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে দখলদার ইসরায়েল।
ইউরোপের বেশ কয়েকটি আইসিসি সদস্য রাষ্ট্র প্রকাশ্যে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে তাকে আটক করবে। ফলে বিমানকে জোর করে নামানোর পরিস্থিতি এড়াতেই ইউরোপের আকাশসীমা এড়িয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
প্রচলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রগামী ইসরায়েলি ফ্লাইটগুলো মধ্য ইউরোপের উপর দিয়ে যায়, যার মধ্যে ফ্রান্সের আকাশসীমাও রয়েছে। কিন্তু এবার নেতানিয়াহুর বিমান দক্ষিণমুখী একটি পথ ধরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালী হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশ করে। এতে ভ্রমণপথ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার (৩৭৩ মাইল) দীর্ঘ হয়েছে।
সুলতানা দিনা/