ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সামাজিক মাধ্যমকে এক পোস্টে বলেছেন, ‘ইরান এবং হিজবুল্লাহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল, আর আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী- তবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই এখনও শেষ হয়নি।’
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েল আপাতত হামলা বন্ধ রেখেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান যদি আবারও আক্রমণ করে, তবে তার জবাব দেওয়া হবে চরম ও ধ্বংসাত্মক শক্তি দিয়ে।’
উদ্বেগজনক একটি সপ্তাহ শেষে উভয় পক্ষই যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কিছুটা পিছিয়ে এসেছে, ঠিক তখনই নেতানিয়াহুর এই হুঁশিয়ারি বার্তা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা হামলা বন্ধ রেখেছি, কারণ তেহরানের সন্ত্রাসী সরকারকে আমরা হামলা করার পর তারা আমাদের ওপর আক্রমণ চালানো বন্ধ করেছে। তবে ইরান যদি আবারও আমাদের ওপর হামলা করার ভুল করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেব।’
তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে, পরমাণু বোমা দিয়ে আমাদের ধ্বংস করার ইরানি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমরা একটি ঐতিহাসিক ও আগাম হামলা চালিয়েছি। আমরা সেই তাৎক্ষণিক হুমকি নস্যাৎ করেছি- এবং আমরা অত্যাচারী খামেনিকেও নির্মূল করেছি।’
নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।’
হিজবুল্লাহর প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ হাজার হাজার সন্ত্রাসী নিয়ে গ্যালিলিতে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল এবং একই সাথে দেড় লাখ ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট দিয়ে ইসরায়েলের শহরগুলো ধ্বংস করার ছক করেছিল। আমরা সেই হুমকিও রুখে দিয়েছি এবং নাসরুল্লাহকে নির্মূল করেছি।’
তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী এখনও বোফোর্ট রিজ এলাকায় হিজবুল্লাহর মাটির নিচের সুড়ঙ্গ ও অবকাঠামো ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমেই এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জবাবে ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। বৈরুতের সেই হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহু কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি।
তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি ভূখণ্ডে গুলি চালানোর পর, আমি আইডিএফকে (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) বৈরুতে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে এবং হিজবুল্লাহর অপারেটিভদের নির্মূল করার নির্দেশ দিই। এরপর ইরান যখন ইসরায়েলে আক্রমণ করল, আমি আইডিএফকে ইরানজুড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার নির্দেশ দিই।’
পোস্টে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে চমৎকার আলোচনার প্রেক্ষিতে, গভীর প্রশংসা ও সম্মানের সঙ্গেই ইসরায়েল তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে‘’
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য মূলত আমেরিকার সঙ্গে ইসরায়েলের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে সামাল দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেন যে, ইসরায়েল যদি যুদ্ধ এভাবে বাড়াতে থাকে, তবে তারা আমেরিকার সমর্থন হারাতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/অমিয়/