পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনির চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কিছু বিরল খনিজ উপহার দেন।
তার আগে ৮ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শাহবাজ শরীফ এবং আসিম মুনির মার্কিন সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস (USSM) এর সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিগুলো অ্যান্টিমনি, তামা, সোনা, টাংস্টেন এবং বিরল মাটির উপাদান সহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিসহ পাকিস্তানে প্রক্রিয়াকরণ সুবিধার পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট। শাহবাজ শরীফের কার্যালয় জানায়, প্রথম পর্যায়ে এই মার্কিন বিনিয়োগে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নতুন একপর্যায়ে প্রবেশ করেছে। উভয় দেশ এখন বিরল খনিজ রপ্তানিসংক্রান্ত এক চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দ্য ডনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস কোম্পানি (ইউএসএসএম) সেই চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে খনিজ পদার্থের প্রথম চালান পাঠিয়েছে পাকিস্তান।
এদিকে, পাকিস্তানের বিরল খনিজ পদার্থ প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনাও করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।
ওয়াশিংটনের একটি সূত্র ডনকে জানিয়েছে, চালানটি বৈশ্বিক ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল’ বা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ চেইনে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ—যা বর্তমানে শিল্পোন্নয়ন ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য খাত হিসেবে বিবেচিত।
পাকিস্তানের সামরিক প্রকৌশল সংস্থার (ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন) সহযোগিতায় প্রস্তুত করা চালানটিতে আছে অ্যান্টিমনি, তামা কনসেনট্রেট এবং বিরল মাটির উপাদান নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়াম।
এক বিবৃতিতে ইউএসএসএম এই সরবরাহকে পাকিস্তান–যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারত্বের একটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই সমঝোতা স্মারক খনিজ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াকরণ থেকে শুরু করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে শোধনাগার স্থাপন পর্যন্ত সম্পূর্ণ খনিজমূল্য শৃঙ্খলে সহযোগিতার একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে।
ডন জানায়, এই চুক্তি বৈশ্বিক খনিজ বাজারে পাকিস্তানের অবস্থান বেশ শক্তিশালী করবে। এতে দেশটির রাজস্ব আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বিরল খনিজ পদার্থ আছে বলে ধারণা করা হয়। ফলে পাকিস্তানকে বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত কৌশলগত। এতে তারা গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালে অধিকতর প্রবেশাধিকার পাবে এবং বর্তমানে বৈশ্বিক খনিজ বাজার নিয়ন্ত্রণকারী বাইরের শক্তির (যেমন চীন) ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, পাকিস্তানের খনিজ কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের একটি কৌশলগত ভিত্তি প্রতিফলিত করে। এই চুক্তিগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক শক্তিশালী করতে পারে।
একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের অধীনে দীর্ঘদিনের চীনা বিনিয়োগে ভারসাম্য সৃষ্টি করবে। চুক্তিটি শিল্প, প্রতিরক্ষা এবং পরিষ্কার-শক্তি প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত এই খনিজগুলোর একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিতার পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকেও তুলে ধরে।
সুলতানা দিনা/