বিমান বাহিনীর পুরাতন যুদ্ধবিমানের রিপ্লেসমেন্টজনিত সংকট মেটাতে তুরস্ক এবার কাতারের ব্যবহৃত ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (MEE) সূত্র মারফত এই তথ্য জানা গেছে।
তুরস্কের বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমানের বহর দ্রুত পুরোনো হয়ে যাওয়ায় আঙ্কারা বিকল্পের সন্ধানে নেমেছে। মূলত, ২০৩০ সালের গোড়ার দিকে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘‘কান’’ (KAAN) পরিষেবা শুরু করার আগে সামরিক সক্ষমতার এই শূন্যস্থান পূরণ করাই তাদের লক্ষ্য।
এর আগে গত জুলাই মাসে, তুরস্ক ৪০টি ইউরোফাইটার জেট কেনার জন্য যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছিল। তবে, মূল্য নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে।
আঙ্কারার মতে, যুক্তরাজ্যের প্রাথমিক প্রস্তাবের দাম অনেক বেশি। এমনকি এই চুক্তি যদি সম্পন্নও হয়, তবুও বিমানগুলো হাতে পেতে বেশ কয়েক বছর লেগে যেতে পারে, অথচ তুরস্কের নতুন বিমানের প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরি।
কাতার দ্রুত এ সমস্যার সমাধান দিতে পারে। কারণ, তারা ইতোমধ্যেই চব্বিশটি ট্রাঞ্চ থ্রি-এ (Tranche 3A) ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে।
এই বিষয়ে অবগত আঞ্চলিক সূত্রগুলো MEE-কে জানিয়েছে, তুরস্ক ও কাতারের মধ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্তের দিকে, যদিও আলোচনা এখনও চলমান।
একটি কাতারি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত মঙ্গলবার তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েশার গুলের এবং বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জিয়া জামাল কাডিওগ্লু সম্ভাব্য বিমান ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে দোহা সফর করেছেন।
তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও আলাদাভাবে ঘোষণা করেছে যে একই দিনে মন্ত্রী গুলের কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাউদ বিন আবদুলরহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ইউরোফাইটার কনসোর্টিয়ামের সমর্থন
তবে, যে কোনো বিক্রির জন্য বিমানটির নির্মাতা ইউরোফাইটার কনসোর্টিয়ামের অনুমোদন প্রয়োজন, যার অংশীদার হলো যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং ফ্রান্স। আঞ্চলিক সূত্রগুলো MEE-কে জানিয়েছে, কনসোর্টিয়াম এই চুক্তিকে সমর্থন করছে। তারা তুরস্ককে একটি বড় সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে দেখছে, যারা পরবর্তীতে বিমানের আধুনিকীকরণ এবং উন্নত রাডার সিস্টেমে সজ্জিত অতিরিক্ত ট্রাঞ্চ ফোর (Tranche 4) জেট কেনার আগ্রহ দেখাতে পারে।
কাতারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো বিবৃতি জারি করেনি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ (S-400) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে তার এফ-৩৫ (F-35) কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল। এই ঘটনার ফলেই আঙ্কারা আধুনিক যুদ্ধবিমানের তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে।
যদিও তুর্কি বিমান বাহিনী এফ-১৬, ইউরোফাইটার, এমনকি এফ-৩৫ সহ যেকোনো সহজলভ্য বিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবুও তুরস্কের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সংস্থা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মনে করেন, আঙ্কারার আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।
এই পক্ষের সমর্থকরা যুক্তি দেন যে, ‘‘কান’’ বিমান পরিষেবা শুরু না হওয়া পর্যন্ত ব্যয়বহুল ‘‘আপাতকালীন’’ (Stopgap) সামরিক সরঞ্জাম না কিনে, তুরস্কের উচিত হবে উদীয়মান দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার বিদ্যমান এফ-১৬ বহরের আধুনিকীকরণের ওপর মনোযোগ দেওয়া।
একটি তুর্কি প্রতিরক্ষা কনসোর্টিয়ামের লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের শেষের দিকে প্রথম ‘‘কান’’ জেট সরবরাহ করা, তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, সরবরাহ সম্ভবত ২০৩০ সালের কাছাকাছি সময়ে শুরু হবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মাহফুজ/