ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আলোচনায়— এবার রাজনীতিতে নয়, হোয়াইট হাউসের ভেতরেই চলছে তার নতুন নির্মাণযজ্ঞ। সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে প্রেসিডেন্ট ভবনের পূর্বাংশ ‘ইস্ট উইং’-এ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।
সাবেক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এখানে তৈরি হবে বিশাল এক বলরুম— যা হবে শতাধিক বছরের মধ্যে হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে বড় স্থাপনা সংযোজন।
এএফপির সাংবাদিকদের চোখে ধরা পড়ে, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ইস্ট উইংয়ের দেয়াল ভাঙা হচ্ছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ইট-পাথর আর লোহার রডের টুকরো।
সোমবার কলেজ বেসবল খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ট্রাম্প বলেন, “ওই পাশে অনেক নির্মাণকাজ চলছে, মাঝে মধ্যে তোমরা হয়ত আওয়াজ শুনতে পাবে।”
পরে নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে নতুন, বড়, সুন্দর বলরুম নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।”
৭৯ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের দাবি, ইস্ট উইং সম্পূর্ণ আধুনিকায়নের পর আগের চেয়ে আরও দৃষ্টিনন্দন হবে। সাধারণত এই অংশেই যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিদের অফিস থাকে।
নতুন বলরুমটির আয়তন হবে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট, যেখানে একসঙ্গে ১,০০০ অতিথির আয়োজন করা যাবে। ট্রাম্প বলেন, বড় রাষ্ট্রীয় ভোজ বা অনুষ্ঠান এখন তাঁবুতে করতে হয়— তাই স্থায়ী বলরুমের প্রয়োজন ছিল।
গত সপ্তাহে তিনি বলরুমের দাতাদের সম্মানে হোয়াইট হাউসে এক জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজের আয়োজন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অ্যামাজন, অ্যাপল, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, পালান্টির ও প্রতিরক্ষা ঠিকাদার লকহিড মার্টিনের কর্মকর্তারা।
এছাড়া অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম ‘জেমিনি’র প্রতিষ্ঠাতা যমজ ভাই ক্যামেরন ও টাইলার উইঙ্কলভস— যাদের কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয়েছিল বিখ্যাত চলচ্চিত্র দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক।
ট্রাম্প বলেন, “হোয়াইট হাউস বলরুমটি সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে উদার দেশপ্রেমিকরা, মহান আমেরিকান কোম্পানিগুলো, আর আমি নিজে। এই বলরুম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ব্যবহার করবে আমেরিকানরা।”
দ্বিতীয় মেয়াদে এটি ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সংস্কার প্রকল্প। এর আগে তিনি ওভাল অফিসে সোনালি সাজসজ্জা যুক্ত করেছেন, রোজ গার্ডেনের অংশ পাকা করেছেন এবং হোয়াইট হাউসের সামগ্রিক অবয়ব বদলে দিয়েছেন।
সম্প্রতি তিনি ওয়াশিংটনে একটি বিশাল বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনাও উন্মোচন করেছেন, যা ইতিমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছে ‘আর্ক দে ট্রাম্প’ নামে।
মেহেদী/