বার্লিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইএসওএইচআর এবং সৌদি গণমাধ্যমের খবর পর্যালোচনা করা সংগঠন ‘রিপ্রাইভ’ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে দেশটিতে জেলে ও অভিবাসী শ্রমিকসহ ৩৪৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—যা গত কয়েক বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।
মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই বিদেশি শ্রমিক। বিশেষ করে—মিসরীয়, সোমালি ও ইথিওপিয়ার নাগরিক। জীবিকার সন্ধানে তারা সৌদি আরবে গিয়ে দেশটির কঠোর বিচারব্যবস্থায় আটকে পড়েন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) সিএনএন জানায়, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া এসব মানুষের মধ্যে বেশির ভাগের বিরুদ্ধেই প্রাণঘাতী নয় এমন মাদক-সম্পর্কিত অভিযোগ ছিল।
শর্ম আল-শেখ উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ২৮ বছর বয়সী মিসরীয় জেলে মোহাম্মদ সাদ। মাসের পর মাস খোঁজ করেও তার সন্ধান পায়নি সাদের পরিবার। এক বছর পর জানা যায়, মাদক পাচারের অভিযোগে সাদ সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলীয় তাবুক কারাগারে আটক রয়েছেন।
শুধু তাই নয়, আট বছর বন্দী থাকার পর গত ২১ অক্টোবর সাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও এ বিষয়ে তার পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। পরিবার খবরটি জানতে পারে তারা সঙ্গে কারাগারে থাকা আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে।এমনকি সাদকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে-সে বিষয়েও পরিবারের কাছে কোনো তথ্য নেই।
জানা গেছে, বর্তমানে সৌদি আরবের তাবুক কারাগারে আরও বেশ কয়েকজন বিদেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় আছেন। তাদের একজন মিসরের ২৭ বছর বয়সী মৎস্যজীবী এসসাম আল-শাজলি। তার বিরুদ্ধে অ্যামফিটামিন ও অল্প পরিমাণে ‘হেরোইনসদৃশ’ পদার্থ বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তার পরিবার দাবি করেছে, নৌকায় কী ছিল, শাজলি সে সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
এদিকে, বিনা দোষে মৃত্যুদণ্ডের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে সৌদি সরকার। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধিদের পাঠানো এক চিঠির জবাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—কোনো গোপনীয়তা নেই, তিন ধাপের বিচারপ্রক্রিয়া মানা হয়, বিদেশিদের কনস্যুলার সহায়তাও দেওয়া হয় এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের দেহ নিজ দেশের দূতাবাসে হস্তান্তর করা হয়।
তবে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার ও অধিকারকর্মীর দাবি, বিচারের ক্ষেত্রে অনেক সময় আইনজীবীর সহায়তা নিতে দেওয়া হয় না। আর দেওয়া হলেও বিচারের ফল বদলায় না।
তাবুক কারাগার থেকে পাওয়া বিবরণে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীরা প্রতিদিন সকালে আশঙ্কায় থাকেন—সেদিন তাদের নাম ডাকা হবে কি না।
রিপ্রাইভের মধ্যপ্রাচ্যে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কাজ করা একটি দলের প্রধান জিদ বায়সিউনি বলেন, "এটি মিথ্যা ও নির্মমতার এক ব্যবস্থা। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবকিছুই গোপন ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। তাই ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য অপেক্ষা আর আতঙ্ক ছাড়া কোনো পথই খোলা নেই।"
সুলতানা দিনা/