নির্বাচনের সময় একে অপরকে আক্রমণ ও তীব্র কটাক্ষ করার দীর্ঘ কয়েক মাস পর অবশেষে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে তাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট বা সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শী মামদানি চলতি মাসের শুরুতে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে ৯ পয়েন্ট ব্যবধানে হারিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনের আগে নিউইয়র্কের বাইরে তিনি তেমন পরিচিত না থাকলেও বর্তমানে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে একটি আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন।
এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘‘কমিউনিস্ট মেয়র’’ নিজেই এই বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন এবং এই বৈঠকটি ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে নবনির্বাচিত মেয়রের মুখপাত্র ডোরা পেকেক জানিয়েছেন, নতুন প্রশাসনের জন্য প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক রীতি। তিনি বলেন, জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সুরক্ষা এবং নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর এজেন্ডা নিয়ে আলোচনার জন্য মামদানি ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করবেন। উল্লেখ্য, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে দশ লাখেরও বেশি নিউইয়র্কবাসী এসব এজেন্ডার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
মামদানির পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট বিল ডি ব্লাসিও এবং বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস অতীতে হোয়াইট হাউসে অন্যান্য মেয়রদের সঙ্গে দলগত বৈঠকে অংশ নিলেও, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এভাবে একান্তে ওভাল অফিসে বৈঠক করার সুযোগ পাননি।
গত জুনে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মামদানির জয়ের পর থেকেই দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং দ্রুত উঠে আসা এই তরুণ রাজনীতিকের মধ্যে তিক্ততা বাড়তে থাকে। ট্রাম্প মামদানিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘‘কমিউনিস্ট ভবিষ্যৎ’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তার বিজয়ের কারণে আমেরিকার বৃহত্তম এই শহরে ফেডারেল অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। নির্বাচনের আগের সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প, যিনি নিজেও একজন নিউ ইয়র্কার, বারবার মামদানিকে একজন চরমপন্থী হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি জীবনে কার্যত একদিনও কাজ করেননি। এমনকি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে একটি অস্বাভাবিক পদক্ষেপে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কুওমোকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, যিনি স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছিলেন।
নির্বাচনের দিন বিজয়ী ভাষণে মামদানি ট্রাম্পকে টিটকারি দিয়ে তার টেলিভিশনের ‘‘ভলিউম বাড়াতে’’ বলেছিলেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যাল-এ পাল্টা জবাব দিয়ে লেখেন, ‘‘...এবং এভাবেই শুরু হলো!’’
আমেরিকার অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউ ইয়র্কে জীবনযাত্রার খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালানো সাবেক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান মামদানি জুনে প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। দেশজুড়ে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মুখে তিনি নিউইয়র্ককে ‘‘অভিবাসীদের শহর’’ হিসেবে টিকিয়ে রাখার শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতির জন্য তিনি অতিরিক্ত আইনজীবী নিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/