ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশর ঐতিহাসিক জয় পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ হেডফোন লাগিয়ে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু গাজীপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার সিলেটে স্কুলছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু, মরদেহর ময়নাতদন্ত না করতে চিরকুট! রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ: এনবিআরের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? ভূমিকম্পে ক্ষতির বড় কারণ শুধু কম্পন নয়, বরং খারাপ মানের ডিজাইন ও নির্মাণ পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬ নির্দেশনা জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী ঝিনাইদহে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু ডাক সেবায় আসছে অটোমেশন পদ্ধতি: ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী চীনের উসিতে চালু হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিনেমা হল প্রশিক্ষণ মাঠেই থেমে গেল এসআই জীবন রহমানের জীবনযাত্রা তানিয়া বৃষ্টির মৃত্যুর খবরে যা জানা গেল বাড়ি নির্মাণে ঋতুপর্ণাকে অর্থ সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নীরবতার কণ্ঠস্বর ‘ভাসানে উজান’ মুক্তি পেল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ট্র্যাক ‘সির সির’ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মীর নামে মামলা, আটক ৩ টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব বর্তমানে বৈধ সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সংসদ সদস্যের পদ ছাড়ছেন কোয়েল বিচার চাইব কার কাছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক আরও ঝলমলে রঙিন হচ্ছে পাহাড়ি শহর ছোংছিংয়ের রাত আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?
Nagad desktop

যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা অপব্যবহারে শীর্ষে পাকিস্তানিরা

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৩ পিএম
যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা অপব্যবহারে শীর্ষে পাকিস্তানিরা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কতৃপক্ষের দেওয়া নতুন তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা অপব্যবহারের শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানিরা। পাকিস্তানি নাগরিকরা নজিরবিহীন হারে বৈধ ভিসা পথ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করছে।

এসব অভিবাসীরা স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক এবং ভিজিটর ভিসাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের গোপন দরজা বা ‘ব্যাকডোর’ হিসেবে ব্যবহার করছে-এ তথ্য সামনে আসার পর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

জানা গেছে, বিশ্বের অন্য ১৭৫টি দেশকে ছাড়িয়ে পাকিস্তান এখন যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের একক বৃহত্তম উৎসে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে মোট আশ্রয় আবেদনের দশটির মধ্যে একটিই আসছে পাকিস্তানের নাগরিকদের কাছ থেকে, যা ২০২২ সালের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি।

এতদিন নজর ছিল ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের ওপর, কিন্তু এই নতুন তথ্য দেখাচ্ছে— বিমানবন্দর দিয়ে ‘নিঃশব্দে’ প্রবেশ করেই বড় ধরনের অপব্যবহার চলছে।

এই অপব্যবহারের কৌশলটিকে বলা হচ্ছে ‘ভিসা সুইচিং’ বা ভিসা পরিবর্তন। হাজার হাজার ব্যক্তি পর্যটন, উচ্চশিক্ষা বা অস্থায়ী দক্ষ কাজের কথা বলে সাময়িক ভিসা নিয়ে সফলভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করছেন। কিন্তু সীমান্ত পার হওয়ার অল্প কিছুদিন পরই তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করছেন।

বৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে এই ব্যক্তিরা ইংলিশ চ্যানেলের বিপদ এড়ালেও, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের আশ্রয় অবকাঠামোর ওপর একই ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন। 

এই শোষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে। ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বব্যাপী একটি মর্যাদাপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু এখন এটি ক্রমশ অভিবাসনের বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে আগত ৫ হাজার ৮৮৮ জন পাকিস্তানি নাগরিক পরবর্তীতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এই সংখ্যাটি বিস্ময়করভাবে ভারত ও বাংলাদেশের সম্মিলিত ছাত্র-থেকে-আশ্রয় দাবির সংখ্যার চেয়েও অধিক। এই প্যাটার্নটি একটি পরিকল্পিত অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। 

প্রথমে পাকিস্তানিরা প্রাথমিক ভিসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি জমা দিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ নিশ্চিত করে, এরপর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নিপীড়নের অজুহাতে আশ্রয়ের আবেদন ঠুকে দেয়। তারা জানে যে, আবেদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তারা বছরের পর বছর যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ পাবে।

এই প্রবণতা শুধু ছাত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ওয়ার্ক ভিসা এবং ভিজিটর ভিসা থেকে উদ্ভূত আশ্রয় দাবির ক্ষেত্রেও পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ব্রিটিশ মাটিতে পা রাখতে এই পথগুলো ব্যবহার করছে। 

জানা গেছে, ২০২৪ সালে মোট আশ্রয় আবেদনের ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশই এসেছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে, যারা শুরুতে এই বৈধ ও সাময়িক পথ ব্যবহার করে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিল।

সুলতানা দিনা/

‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় টিম বনাম ডিপ্লোম্যাটিক কোর টিমের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ‍জুন) অনুষ্ঠিত এই বিশেষ ম্যাচে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক নিজে মাঠে নেমে খেলায় অংশগ্রহণ করেন। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রীতি ম্যাচটিতে বাংলাদেশে কর্মরত তিউনিশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইটালি, সুইডেন ও ইরানের কূটনীতিকরা অংশ নেন। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে লড়েন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকারা ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ।

খেলা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমানে সামাজিক মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও সচেতনতামূলক বিষয়গুলো আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ ফুটবল দরজায় কড়া নাড়ছে। আমরা বিশ্বের কাছে জানান দিতে চাই যে, আমরা একটি ফুটবলপ্রেমী জাতি। স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির (ক্রীড়া কূটনীতি) মাধ্যমে আমরা বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চাই।’

আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও দেশের মানুষের মাঝে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনার কোনো কমতি নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করছে না, তবুও আমাদের উদ্দীপনার কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমান সরকার ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শূন্য থেকে শুরু করতে চাই। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। রাতারাতি বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা দেশের খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়ন করব।’

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়া কূটনীতিকে আরও বেগবান করতে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মো: আমিনুল হক বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে  একটি ডেডিকেটেড ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি উইং’ খোলা হয়েছে এবং এর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এই উইংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ক্রীড়া বিনিময় কর্মসূচি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

তোফায়েল/এসএন

পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে ছয়জন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যকে হত্যা এবং আরও আট জনকে অপহরণ করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার সংগঠনটির  বেশ কয়েকজন সদস্য পেশোয়ার শহরের একটি চেকপোস্টে হামলা চালায়। এতে তারা আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও মর্টার শেল ব্যবহার করে।

আরেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির (এফসি) ছয় সদস্য শহিদ ও চার জন আহত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোওয়া প্রদেশে সামনের সারির নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত আধাসামরিক বাহিনীটির সদস্যদের ওপর এই হামলা চালানো হয়।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘জঙ্গিরা এফসি’র আট সদস্যকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে।’

টিটিপি তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চ্যানেলে অপহৃত ব্যক্তিদের একটি ছবি প্রকাশ করেছে এবং এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পশ্চিমাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে। 

ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত মাসে খাইবার পাখতুনখোওয়ায় একাধিক হামলায় ২৬ জন নিহত হয়।

জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। সূত্র: এএফপি 

নাঈম/

সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর। প্রতিবাদীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এতে গত কয়েক দিনে অন্তত ৩০ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি তাদের। তবে প্রশাসনের দাবি, নিহতের সংখ্যা ১১ এবং আহত হয়েছেন ৭০ জন।

আর্থিক দুরবস্থা ও প্রশাসনিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিল স্থানীয় নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। সম্প্রতি সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় রাওয়ালকোটে। সেখানে প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রতিবাদীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ওই ব্যবসায়ী নিহত হন। এর পর গত শুক্রবার জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রশাসন।

কর্তৃপক্ষের দাবি, অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিষেধাজ্ঞার পরও রবিবার একটি হাসপাতালের মর্গের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েকজন প্রতিবাদী। ওই মর্গে পুলিশের গুলিতে নিহত আরেক বিক্ষোভকারীর মরদেহ রাখা ছিল।

অঞ্চলটির পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সর্দার ওয়াহিদ খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে ছয়জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। 

পুলিশের দাবি, প্রতিবাদীরাও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি চালায় এবং বোমা নিক্ষেপ করে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের সহিংসতায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৭০ জন আহত হয়েছেন। তবে জেএএসি ও বিক্ষোভকারীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা ৩০ এবং আহত হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাওয়ালকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চলছে তল্লাশি অভিযান। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরেই মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জনঅসন্তোষ বাড়ছিল। বাসিন্দারা প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিরও সমালোচনা করে আসছিলেন। এ পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে সেই আহ্বানের মধ্যেই গত ৫ জুন থেকে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে অঞ্চলটি। সূত্র: আনন্দবাজার

অমিয়/

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েল জানিয়েছে, উভয় দেশের মধ্যে চলমান শত্রুতা আপাতত থেমে গেছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছিল।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কড়া সতর্কবার্তা দেন যে, তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালালে ইসরায়েল ওয়াশিংটনের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এরপরই ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার এ ধরনের ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ বা আল্টিমেটামের খবর নাকচ করেছেন। 

তিনি দাবি করেন, দুই নেতার মধ্যে হওয়া আলোচনাটি ছিল সহযোগিতামূলক। কিন্তু সাংবাদিকরা বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেইটার বলেন, তাদের বন্ধুত্ব প্রায় ৪০ বছরের। কখনো কখনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যেও মতবিরোধ হতে পারে। আলোচনার সময় কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হতেই পারে, কিন্তু সেটিই স্বাভাবিক বিষয়।

ইসরায়েলি এই কূটনীতিক আরও বলেন, ট্রাম্পের অনুরোধে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের তীব্রতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প ভালো করেই জানেন, ইসরায়েল নিজেদের ভূখণ্ডে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা সহ্য করবে না। অবশ্যই পাল্টা জবাব দেবে।

তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতা রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া অনেক গভীর।

নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের বিরক্তি

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্প ক্রমেই বিরক্ত হয়ে উঠছেন। এর আগে তিনি ইসরায়েল ও ইরান- উভয় দেশকেই হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, শান্তির লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে নিতে হবে এবং অজ্ঞতা বা বোকামি যেন শান্তির পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করছি।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রয়োজন অনুযায়ী যতদিন দরকার অভিযান চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিল। এছাড়া নতুন করে ইরানে নির্মিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের পর পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের কড়া বার্তা

অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারাও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আধাসরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে এক সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তেহরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালাতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আস্থার ঘাটতি ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি এবং বাস্তবে তার বারবার লঙ্ঘনের যে সমীকরণ ছিল, আমরা তা ভেঙে দিয়েছি। যতদিন আপনারা আস্থা তৈরির প্রকৃত ইচ্ছা দেখাতে ব্যর্থ হবেন, ইরানের প্রতিক্রিয়াও ঠিক তেমনই হবে। সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/

দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত
ছবি; সংগৃহীত

সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনার পর বিশ্বের প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ব্রাজিল সরকার।

সরকারি উদ্যোগে তৈরি এই ভ্যাকসিনটি গত বছরের নভেম্বরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনুমোদন পায় এবং চলতি বছরেই প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম এক ডোজের টিকা। 

সাধারণত ডেঙ্গু হলে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র‍্যাশ দেখা দেয়, যা কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক বা প্রাণঘাতী হতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে যে ৫ লাখ ১ হাজার ৪৪ জনকে এই টিকা দেওয়া হয়, এর মধ্যে ৩ হাজার ৭০৩ জনের শরীরে ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ৪২ জনের শরীরে তুলনামূলক তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

গুরুতর অসুস্থ তিনজনের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। এর মধ্যে একজন ৫৮ বছর বয়সী পুরুষ এবং একজন ৪৮ বছর বয়সী নারী। এছাড়া ৩৮ বছর বয়সী এক নারী আইসিইউতে ভর্তি হলেও পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে পাদিলহা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘টিকা দেওয়ার কারণেই এই তিনটি গুরুতর ঘটনা বা মৃত্যু ঘটেছে- এমনটি নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট তথ্য এখনও আমাদের কাছে নেই। তবে এটি আমাদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।’

তিনি জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকাদান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে ১৪টি রাজ্যে ১৬ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের ওপর যখন এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, তখন এ ধরনের কোনো অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এমনকি পরীক্ষার সময় এই ভ্যাকসিনটি ডেঙ্গুর মারাত্মক রূপ প্রতিরোধে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বর্তমানে বাজারে থাকা একমাত্র ডেঙ্গু ভ্যাকসিন (TAK-003) নিতে দুটি ডোজ প্রয়োজন হয় এবং একটি ডোজ থেকে পরবর্তী ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান রাখতে হয়। সেই তুলনায় এক ডোজের ভ্যাকসিন গণ-টিকাদান কর্মসূচিকে অনেক সহজ ও দ্রুত করতে পারে।

২০২৪ সালে ব্রাজিলে ডেঙ্গুতে রেকর্ড ছয় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যা সে বছর বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক। তবে গত বছর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/