তাইওয়ানের নিকটবর্তী একটি দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের জাপানের পরিকল্পনাকে “ইচ্ছাকৃতভাবে আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি” ও “সামরিক সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা” বলে আখ্যা দিয়েছে চীন। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হওয়ার মধ্যে সোমবার এমন মন্তব্য করেছে বেইজিং।
সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, তাইওয়ানের ওপর কোনো কাল্পনিক চীনা হামলা হলে টোকিও সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো দেশটিকে এবং গোটা অঞ্চলকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, বেইজিং “নিজেদের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সক্ষম।”
গতকাল রবিবার জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল থেকে মাত্র ৬৮ মাইল দূরে ইয়োনাগুনি দ্বীপে মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট স্থাপনের কাজ “স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে চলেছে।”
মাও নিং বলেন, এ পদক্ষেপ “অত্যন্ত বিপজ্জনক” এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত—বিশেষত প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে।
তার মন্তব্যের জবাবে চীন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা প্রকাশ, জাপানি সামুদ্রিক খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা, জাপানি সিনেমা মুক্তি বন্ধ এবং নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্ক হতে বলাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাপানকে সতর্ক করে বলেছিল, তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে টোকিওকে “চূর্ণ করে দেওয়া হবে।”
বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি। তবে তাইওয়ানের সরকার বলছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ শুধু তার জনগণই নির্ধারণ করবে।
আজ সোমবার তাইপেতে আইনপ্রণেতাদের কাছে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া উ বলেন, জাপান একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। তিনি ইয়োনাগুনির তাইওয়ানের নিকটবর্তী অবস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “জাপানের সামরিক স্থাপনা শক্তিশালী করার পদক্ষেপ তাইওয়ান প্রণালীর নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক।”
“জাপানের তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো ভূখণ্ডগত দাবি বা শত্রুতা নেই—এ কারণে বিষয়টি আমাদের জাতীয় স্বার্থের পক্ষেও ইতিবাচক।”
রবিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েনের লক্ষ্য ইয়োনাগুনিকে সুরক্ষা দেওয়া। তিনি যোগ করেন, “আমাদের বিশ্বাস, এসব ব্যবস্থা নেওয়া হলে জাপানের ওপর সশস্ত্র হামলার সম্ভাবনা বরং কমে যাবে।” সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/