ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন একটি শান্তি কাঠামো তৈরি করেছে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা—এমন খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। যদিও প্রস্তাবটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এ ধরনের কোনো নথির বিষয়ে অবহিত নন বলে জানিয়েছেন।
তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের কথিত এই পাল্টা প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রস্তাবের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
ইউরোপের প্রস্তাবিত কাঠামোর মূল পয়েন্টগুলো
• শান্তিকালীন সময়ে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ ৮ লাখ সদস্যে সীমিত থাকবে।
• ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা রাখা হবে—তবে ন্যাটো সদস্যদের সর্বসম্মতির বিষয়টিকে শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে নেই।
• ন্যাটো ইউক্রেনে স্থায়ীভাবে সেনা মোতায়েন করবে না—এ প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে।
• যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর মতো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে, অর্থাৎ ইউক্রেনের ওপর হামলা হলে তা ন্যাটোর ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
• চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বয়ে নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
• ইউক্রেন অঙ্গীকার করবে যে দখলকৃত ভূখণ্ড সামরিক পথে পুনরুদ্ধার করবে না, বরং আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে এর সমাধান খুঁজবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
• ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ৬ লাখে সীমিত করার শর্ত।
• ইউক্রেনকে সংবিধানে ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার অঙ্গীকার যুক্ত করতে হবে এবং ন্যাটোকেও এটিকে নিজেদের নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
• ন্যাটোর ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন না করার প্রতিশ্রুতি।
• চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন।
• ক্রিমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলকে “ডি-ফ্যাক্টো রুশ” এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং রাশিয়ার দখলকৃত সীমান্ত রেখা স্থায়ীভাবে জমাট বাঁধা।
বড় পার্থক্য কোথায়?
ইউরোপীয় প্রস্তাব ইউক্রেনের ন্যাটো স্বপ্ন পুরোপুরি বন্ধ না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ন্যাটো সদস্যপদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল নিয়ে ইউরোপ আলোচনা-নির্ভর সমাধানের কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবে এসব অঞ্চল কার্যত রাশিয়ার বলে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল।
শান্তি প্রতিষ্ঠার দুই পরিকল্পনার এ গুরুত্বপূর্ণ অমিল ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/