জেনেভায় গতকাল রবিবার যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়েই এই আলোচনা। বৈঠকে অংশ নিতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যোগ দিয়েছেন।
বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা চলছে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেনের সীমানা পরিবর্তন বা প্রস্তাবে উল্লেখ করা অঞ্চল ভাগাভাগির বিষয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শুক্রবার ইউক্রেনকে চাপ দেন আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তার দেওয়া ২৮ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এতে ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, সামরিক সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া এবং ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। জি২০ সম্মেলনে যোগ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকা জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ জানান, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৮ দফার বিষয়ে আদৌ পৌঁছানো যাবে কি না, তিনি এ বিষয়ে সন্দিহান।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, দুই প্রেসিডেন্ট- ট্রাম্প ও জেলেনস্কি এক টেবিলে না বসা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে না। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি তার শেষ প্রস্তাব নয়, আরও পরিবর্তনের সুযোগ আছে।’
ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি আলোচনা ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলেও এতে ‘আরও কাজ’ প্রয়োজন এবং কিয়েভের জন্য ভালো কিছু শর্ত যুক্ত হওয়া দরকার। জার্মান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন খসড়াকে ভিত্তি করে তৈরি ইউরোপীয় শান্তি প্রস্তাব ইতোমধ্যেই ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো হয়েছে।
এক্স-এ এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেছেন, যতটা সম্ভব গঠনমূলক উপায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ও যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত আমরা। তিনি বলেন, ‘আমি আজকের বৈঠকের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি এবং আশা করি সব অংশগ্রহণকারী গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। আমাদের সবারই একটি ইতিবাচক ফল দরকার।’
বলপ্রয়োগে সীমানা পরিবর্তন করা যাবে না
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন আলোচনায় যোগ দিয়ে বলেছেন বলেছেন, যেকোনো টেকসই ও ন্যায্য শান্তি পরিকল্পনার প্রথম শর্ত হলো হত্যাযজ্ঞ থামানো, যুদ্ধ বন্ধ করা। কিন্তু এমন শর্ত নয়, যা ভবিষ্যতের সংঘাতের বীজ বপন করে।
তিনি তিনটি মূল অবস্থান তুলে ধরেন। এগুলো হলো
১) সীমান্ত বলপ্রয়োগে পরিবর্তন করা যাবে না
২) ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতায় এমন কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যাবে না, যা দেশটিকে ভবিষ্যতের হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে
৩) ইউরোপীয় ইউনিয়ন শান্তি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে থাকতে হবে, এবং ইউক্রেন তার ভবিষ্যৎ- ইউরোপকে বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে।
বর্তমান পরিকল্পনাকে ‘চরম আত্মসমর্পণ’ আখ্যা
পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হওয়ার পর ইউক্রেনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনের সাধারণ নাগিরকরা একে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন বার্তায় দেখা যাচ্ছে আলোচনায় শর্তগুলোর কিছুটা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ভূখণ্ড ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রন্টলাইনে থাকা ইউক্রেনীয় সেনারা। তারা বলছেন, ‘আমরা যে সীমান্ত রক্ষা করছি, তা যদি শেষে ছেড়েই দিতে হয় তাহলে এত লড়াই, এত আত্মত্যাগের মানে কী?’ সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
মাহফুজ/