তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক নীল মসজিদে সম্প্রতি সফর করেছেন পোপ লিও। ইসলাম ও মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানাতে তিনি মসজিদে জুতা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে সেখানে তিনি প্রার্থনা করেননি।
তুরস্কে চার দিনের সফরে এটি ছিল কোনও মুসলিম উপাসনালয়ে তার প্রথম প্রবেশ। ব্রিটিশ বার্র্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত ,অটোমান সুলতান আহমেদ প্রথমের নির্মিত ১৭শ শতকের এই নীল-টাইলসচিত্রিত মসজিদের বিপরীতে অবস্থিত হায়া সোফিয়া। আগের পোপদের সফরের ধারাবাহিকতা ভেঙে এবার লিও সেখানে যাননি। বাইজেন্টাইন যুগের গির্জাটি পতনের পর ৫০০ বছরের বেশি সময় মসজিদ ছিল। গণতান্ত্রিক তুরস্ক এটি জাদুঘর করলেও ২০২০ সালে আবার মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তে ২০১৪ সালে সেখানে সফরকারী পোপ ফ্রান্সিস বলেছিলেন, তিনি ‘অত্যন্ত মর্মাহত’।
এদিকে, হায়া সোফিয়া পরিদর্শন না করা নিয়ে ভ্যাটিকান কোনও মন্তব্য করেনি।
এই সফরে পোপ লিও প্রবেশের আগে স্বল্প ঝুঁকে সম্মান জানান। এরপর মসজিদের ইমাম ও ইস্তাম্বুলের মুফতির সঙ্গে তিনি ঘুরে দেখেন ১০ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতার এই বিশাল স্থাপনা। সাদা মোজায় হাঁটতে হাঁটতে ২০ মিনিটের সফরে তিনি হাসিমুখে কথা বলেন মসজিদের প্রধান মুয়াজ্জিন আসকিন মুসা তুঞ্চার সঙ্গে।
ভ্যাটিকান শুরুতে ধারণা করেছিল, পোপ প্রার্থনার জন্য থামবেন এবং তুরস্কের রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় দপ্তর দিয়ানেত-এর প্রধান তাকে স্বাগত জানাবেন। তবে এ দুটির কোনোটিই ঘটেনি। তবু তিন ঘণ্টা পর ভ্যাটিকান এক বিবৃতিতে দাবি করা হয় যে, প্রার্থনাও হয়েছে, স্বাগতও জানানো হয়েছে। পরে জানানো হয়, বিবৃতিটি ভুল করে পাঠানো হয়েছিল।
মুয়াজ্জিন তুঞ্চা সাংবাদিকদের জানান, সফরের সময় তিনি পোপকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তিনি প্রার্থনা করতে চান কি না। লিও জানান, তিনি শুধু মসজিদটি ঘুরে দেখতে চান। সফর শেষে ভ্যাটিকান জানায়, লিও ধ্যান ও মনোযোগের চেতনায়, স্থানটি ও প্রার্থনারত মানুষের বিশ্বাসের প্রতি গভীর সম্মান রেখে সফর সম্পন্ন করেছেন।
ভ্রমণের শেষ দিকে পোপ এক মজার মুহূর্তও তৈরি করেন। তাকে এমন এক দরজা দিয়ে বের করা হচ্ছিল, যেখানে লেখা ছিল ‘নো এক্সিট’। লিও হাসতে হাসতে বলেন, ‘এখানে তো লেখা আছে বের হওয়া নিষেধ।’ জবাবে তুঞ্চা বলেন, ‘আপনাকে বের হতেও হবে না, চাইলে এখানেই থাকতে পারেন।’
এদিকে রবিবার (৩০ নভেম্বর) পর্যন্ত পোপের তুরস্ক সফর চলবে। এর মধ্যে রয়েছে লেবানন সফরও। গত মে মাসে পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিশ্বমঞ্চে তুলনামূলকভাবে অখ্যাত ছিলেন। তাই এই সফরে তার বক্তব্য ও আচরণ বিশ্বজুড়ে গভীর নজর কেড়েছে।
প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মুসলিমপ্রধান তুরস্ককে বেছে নেওয়ার কারণ ১ হাজার ৭০০ বছর আগে এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল খ্রিষ্টধর্মের গুরুত্বপূর্ণ নাইসিন কাউন্সিল। যেখানে গঠিত হয় নিকাইন ক্রিড। যা এখনও বিশ্বের অধিকাংশ খ্রিষ্টান অনুসরণ করেন।
গত শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের খ্রিষ্টান নেতাদের সঙ্গে ওই কাউন্সিল স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পোপ লিও ধর্মের নামে সহিংসতা নিন্দা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের ২৬০ কোটি খ্রিষ্টানের আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ না হওয়া ‘এক ধরনের কেলেঙ্কারি’।
সুলতানা দিনা/