ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা মধুখালীতে দুইদিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর কমল দাদার পাঠশালা এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল লেবাননে ইসরায়েলি হামলয় নিহত ১৬ মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা বৃষ্টি মনোমুগ্ধকর খুনি প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪ ‘দোষ সব আমার, খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নজর সরান’: প্যারাগুয়ে কোচ শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড মিথ্যার চোরাস্রোত বয়ে যায় আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী অনুবাদ হয় না মানুষের স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান প্রেমের এলিজি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত দুবাইগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ রেকর্ড থেকে ৫ কদম দূরে দিবু মার্তিনেস সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য

ভারত সফরে আসছেন পুতিন, কেন এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ?

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৮ এএম
ভারত সফরে আসছেন পুতিন, কেন এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রি মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের ৪-৫ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি এই সফর করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটি হবে তার প্রথম ভারত সফর।

ভারত যখন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, তখন এই সম্মেলন মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার একটি বড় ইঙ্গিত দেবে। ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিরক্ষা খাতে সম্পর্ক ‘একক নির্ভরতা’ নয়, বরং নানা দিক থেকে বিস্তৃত। আর পুতিনের এবারের সফরে বোঝা যাবে, দশকের পুরোনো ঐতিহ্যগত অংশীদারত্বকে নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত মানিয়ে নিতে পারবে কি না।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে দুই দিনের বৈঠকে প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, জ্বালানি, মহাকাশ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য—সব খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ নজর থাকবে পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। এর মধ্যে রাশিয়ার আধুনিক এস-৫০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনার এই দিকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামরিক সম্পর্ক এখনো দুই দেশের অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করেছিল ভারত।

পশ্চিমা দেশগুলোর অনীহার কারণে দশকের পর দশক ধরে ভারতীয় সামরিক ভান্ডারের বেশির ভাগই এসেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরবর্তী সময়ে রাশিয়া থেকে। কিন্তু গত এক দশকে এটা কমে এসেছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্যমতে, ২০০০ সালের শুরু থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ভারতের ৭০ শতাংশের বেশি অস্ত্র সরবরাহ করত রাশিয়া (২০০২ সালে ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছিল)। তবে ২০১৪ সালের পর এই অংশীদারত্ব কমতে শুরু করে এবং সর্বশেষ পাঁচ বছরে এটি ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ৬০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ভারত এখন ফ্রান্স, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়িয়েছে। তবে রাশিয়া এখনো ভারতের শীর্ষ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী হিসেবে রয়ে গেছে। কারণ, ভারতীয় সামরিক বাহিনী এখনো সোভিয়েত বা রুশ সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে। সাবমেরিন থেকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা—সবকিছুই রাশিয়ার। হাইপারসনিক ও পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও রাশিয়া থেকে পাওয়া।

এদিকে, ২০২২ সালে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া ভারতকে ছাড়ে অপরিশোধিত তেল দিতে শুরু করে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগায়। এর ফলে রাশিয়া থেকে আমদানি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তেল ছাড়াও সার, উদ্ভিজ্জ তেল, কয়লা, ধাতু সব ক্ষেত্রেই রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানি বেড়েছে। কিন্তু রাশিয়ায় ভারতের রপ্তানি খুবই কম।

সুলতানা দিনা/

লেবাননে ইসরায়েলি হামলয় নিহত ১৬

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলয় নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানায় যে, তাদের বাহিনী গত রাতে দক্ষিণ লেবানন জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় তীব্র লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে, যা মূলত ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া নতুন চুক্তিটিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

লেবাননে এই চলমান লড়াই নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে ভেস্তে দিতে পারে। কারণ এই চুক্তিতে লেবাননসহ "সব ফ্রন্টে" সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করছে। একই সঙ্গে চুক্তিতে লেবাননের "আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব" নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননেই অবস্থান করবে।

ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার তার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন, যেখানে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার যাওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউস এর পেছনে লজিস্টিক বা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সমস্যার কথা উল্লেখ করলেও, এই ঘোষণাটি মূলত আল-মায়াদিন (হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক মিত্র একটি প্যান-আরব স্যাটেলাইট চ্যানেল)-এর একটি রিপোর্টের পর আসে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ইরান সুইজারল্যান্ডে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাতে বিলম্ব করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে প্যালেস অব ভার্সাই-এ নৈশভোজের সময় ইরানের সঙ্গে এই প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভ্যান্স ইসরায়েলকে একটি স্পষ্ট ও কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, ট্রাম্পই হচ্ছেন ‘এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল।’ সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড
ছবি: রয়টার্স

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে শুক্রবার (১৯জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যে আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা আর হচ্ছে না। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র গত রাতে জানান যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করার পূর্বপরিকল্পিত সফর থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মূলত এর পরপরই সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। যুদ্ধ বন্ধে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি–পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড সফর করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

শুক্রবার (১৯জুন) এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে একটি পূর্বপরিকল্পিত সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, ইরানের সাথে একটি নতুন দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখেও ভ্যান্স এই চুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখান। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আলোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে
কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে। ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে।

শুক্রবার (১৯ জুন) কাতারের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চলাকালীন গোড়ালির এক ভয়াবহ চোটের শিকার হন তিনি। যার ফলে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব সাসুওলোতে খেলা এই মিডফিল্ডারের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এই চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে তার অন্তত তিন মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে এই ফুটবল মহোৎসবের বাকি অংশ কেবল দর্শক হয়েই কাটাতে হবে তাকে।

ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর এক মারাত্মক ট্যাকেলের শিকার হন কোনে। ফাউলটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে রেফারি মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। চোট পাওয়ার পর মাঠে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখা যায় কোনেকে। পরবর্তীতে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

কোণের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নাথান সালিবা। মাঠে নেমেই এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তিনি, যা চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ফ্রি-কিক গোল। গোলটি করার পর সালিবা কোণের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি সম্মান ও এই গোলটি তাঁকে উৎসর্গ করেন।

ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, কাতারের খেলোয়াড় মাদিবো ম্যাচ শেষে কানাডার ড্রেসিংরুমে এসে কোণের কাছে তার এই মারাত্মক ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। 

পাপ্পু/নাঈম

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি একপ্রকার মুছে গিয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর আবারও এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। সম্প্রতি চীনে তৈরি পাকিস্তানের নতুন ‘হাঙ্গর-ক্লাস’ সাবমেরিন করাচিতে পৌঁছেছে। এই সাবমেরিন মোতায়েনের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে ইসলামাবাদ। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের নতুন এই সাবমেরিনের নাম রাখা হয়েছে পিএনএস হাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের তৎকালীন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ সাবমেরিনটি ভারতের ‘আইএনএস খুকরি’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে সেটিই ছিল প্রথম কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনা। যুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তবে সেই ঘটনার ঐতিহাসিক প্রতীকী গুরুত্বকে সামনে রেখেই নতুন এই সাবমেরিন বহরের নামকরণ করা হয়েছে। পাকিস্তান মোট ৮টি হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে প্রথমটি গত সপ্তাহে করাচিতে এসে পৌঁছায়।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের ফ্লোটিলা এসকর্ট কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানান, এই নতুন হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনটি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বহুদূর বাড়িয়ে দেবে। এটি পাকিস্তানকে নিজের উপকূলীয় আরব সাগর ছাড়িয়ে দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরেও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার শক্তি জোগাবে। এই সাবমেরিনগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রোপালশন’ প্রযুক্তি। এর ফলে সাবমেরিনগুলো ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বারবার পানির ওপরে না উঠে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে এদের সহজে ট্র্যাক করা বা শনাক্ত করা যায় না। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তানের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

পাকিস্তানের এই বঙ্গোপসাগরীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে আসে। ১৯৭১ সালের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের প্রথম আগমন।

পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২০ থেকে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশের বিমান বাহিনীপ্রধান চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফর করে দেশটির তৈরি জেএফ-১৭ ফাইটার জেট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশ যৌথ নৌ মহড়া ‘আমান-২৫’-এ অংশ নেয়। এ ছাড়া করাচি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে। সূত্রমতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ মহড়ার বিষয়গুলো রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই তৎপরতা ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের পূর্ব নৌ কমান্ড এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগতভাবে ভারতের একটি শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গেও ঢাকার সম্পর্কের নতুন উষ্ণতা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নৌবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, যার কাছে রয়েছে পারমাণবিক সাবমেরিন এবং দুটি বিমানবাহী রণতরি। ফলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের কৌশলগত আঙিনায় তাদের এই নিয়মিত উপস্থিতি দিল্লির জন্য একটি স্থায়ী অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে