ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জামায়াত কর্মীর কোমরে মিলল তিনটি বিদেশি পিস্তল ৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী নোংরা পানিতে সয়লাব খুলনার প্রবেশদ্বার সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪ গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য হাবিপ্রবির গবেষণায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে লিচুর ক্ষতিরোধ সম্ভব দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লোডশেডিং ও বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার পর্যটনে ধস খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার: যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় সরকার, সোচ্চার শ্রমিক-কর্মচারীরা বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধিতে রডের দাম টনে বাড়তে পারে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার জীবনসংগ্রামে লোকগানের বরপুত্র অনিল হাজারিকা বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে চট্টগ্রামে শিক্ষকের ৮ হাজার পদ শূন্য সাক্ষাৎকার শেষ না করেই চলে গেলেন ট্রাম্প ১০ কার্যদিবস পর কমল সূচক, লেনদেনেও ভাটা বরিশাল বিভাগে কমেছে ইলিশের উৎপাদন ৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল শির উ. কোরিয়া সফরের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চমৎকার ফুল ক্রোসান্দ্রা স্বাস্থ্য খাতে সংকট: বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয় না ৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা
Nagad desktop

সিডনির বন্ডাই বিচের হামলাকারীরা আসলে ভারতীয়?

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম
আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫১ এএম
সিডনির বন্ডাই বিচের হামলাকারীরা আসলে ভারতীয়?
অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে হামলাকারী সাজিদ আকরাম (বাঁয়ে) ও তার ছেলে নাভিদ। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে এক ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হানুক্কাতে দুই বন্দুকধারীর এলোপাথারি গুলিবর্ষণে এক হামলাকারীসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পিতা-পুত্র কোন দেশ থেকে অভিবাসী হয়েছিলেন, তা এখনো গোপন রেখেছে অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ।

তবে তাদের নামের কারণে শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে তারা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। তবে এবার ভিন্ন কথা জানালো ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভারতের তেলেঙ্গানা পুলিশের বরাতে এনডিটিভি জানায়, হামলাকারী সাজিদ আকরাম ও তার পুত্র নাভিদ আকরাম আসলে ভারতের হায়দরাবাদের বাসিন্দা!

হামলার সময় ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম। আর তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরাম গুরুতর আহত অবস্থায় এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তেলেঙ্গানার পুলিশ মহাপরিচালক জানায়, সাজিদ আকরাম হায়দরাবাদের বাসিন্দা ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। এরপর গত ২৭ বছর ধরে তিনি সেখানেই বসবাস করেছেন। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে তিনি ভারতে থাকা তার পরিবারের সঙ্গে খুব কমই যোগাযোগ রাখতেন।

পুলিশের দাবি, সাজিদের কথিত উগ্রবাদী হওয়ার সঙ্গে ভারতের কোনো আদর্শিক বা সাংগঠনিক সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে বহু বছর আগে হায়দরাবাদের আত্মীয়দের সঙ্গে সাজিদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

এমনকি ২০১৭ সালে তার বাবার মৃত্যুর সময়ও তিনি জানাজায় অংশ নেননি। সর্বশেষ তিনি ২০২২ সালে হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন।

সাজিদ আকরাম অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত ভেনেরা গ্রোসোকে বিয়ে করেন। পরিবারটি স্থায়ীভাবে সেখানেই বসবাস করছিল। তবে সাজিদ ভারতীয় পাসপোর্টই বহাল রেখেছিলেন। আর তার ছেলে-মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়ায় তারা অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট বহন করেন।

এদিকে, বন্ডাই বিচে হামলার ঘটনাটিকে ‘ইসলামিক স্টেট অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বয়স বা শারীরিক সক্ষমতার তোয়াক্কা না করে শুধু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াতে আগ্রহী ছিলেন।

এদিকে, হামলার এক মাস আগে সাজিদ ও তার ছেলে নাভিদ ফিলিপাইনের আইএস-অধ্যুষিত একটি অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। ফিলিপাইনের অভিবাসন দপ্তর জানিয়েছে, তারা গত ১ নভেম্বর দেশটিতে প্রবেশ করে ২৮ নভেম্বর ফিরে যান। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এই সফরের উদ্দেশ্য ও গন্তব্য নিয়ে এখন তদন্ত চালাচ্ছে।

সুলতানা দিনা/

৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোতে গড়ে তোলা আটক কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ ছাড়া আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। গত রবিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতি সভায় দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর ইন্ডিয়া টুডে অনলাইনের

বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করা তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

শুভেন্দু জানান, রাজ্যের যে ৫৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় এখনো কোনো বেড়া নেই, তার মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার অংশে বেড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) ইতোমধ্যে জমি হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএসএফের কাছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করেছি এবং উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেক করিডরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, চিকেনস নেক নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পথ, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

সরকারের পুশব্যাক অভিযানের বিষয়টি তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যেসব অবৈধ অভিবাসী ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় পড়েন না, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম মেনে তাদের সরাসরি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গায় এই ধরনের নিয়ম কার্যকর করা হলেও পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। যার ফলে অবৈধ অভিবাসীরা জনগণের করের টাকায় রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এখানে থেকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।

শুভেন্দু বলেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর আটক কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৮৩৬ জন বহিষ্কারের অপেক্ষায় আছেন।

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে বহু নথিপত্রহীন অভিবাসী ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় রাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ঘটা এই অনুপ্রবেশের বিষয়টিই সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সফল নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি ছিল।

একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যে ইতোমধ্যে আদমশুমারিসংক্রান্ত কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হবে। শুভেন্দু অধিকারীর তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ এই আদমশুমারির কাজ সম্পূর্ণ হবে এবং এর পর পরই নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ শুরু করা হবে।

এআই নিয়ে ব্যস্ত বিশ্ব গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইউনান প্রদেশের বাওশান শহরে অবস্থিত একটি রেয়ার আর্থ (বিরল মাটি) খনি

লিথিয়াম থেকে শুরু করে বিরল খনিজ–কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় খনি, পরিশোধনাগার ও বন্দরের ওপর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে চীন। আমদানি-নির্ভরতার কারণে ভারত এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রধান আলোচনার বিষয় এআই। বৃহৎ ভাষাভিত্তিক মডেলগুলো ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ক্ষেত্রের বিশ্লেষণ উন্নত করতে উন্নত এআইভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। বিশ্বের আরেকটি বড় মনোযোগের ক্ষেত্র হলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বায়ু ও পানিদূষণ কমানোর লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক পরিবহনব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সেগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। অর্থাৎ খনিজ উত্তোলনের খনি থেকে শুরু করে সেগুলো প্রক্রিয়াজাতকারী পরিশোধনাগার এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহকারী নৌপথ–সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়েই এই লড়াই।

লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিরল খনিজের বিশেষ শ্রেণিগুলো এআইয়ের বিকাশের ভিত্তি। একই সঙ্গে অণুইলেকট্রনিকস, ব্যাটারি এবং অর্ধপরিবাহী শিল্পের মূল উপাদানও এগুলো।

সময়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের তালিকা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলা হয়, কারণ এআইয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তির হার্ডওয়্যার অবকাঠামো এই সম্পদগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

এসব খনিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ কোনো দেশের জন্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেই নয়, বরং অস্ত্র উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কৌশলগত সুবিধা এনে দেয়। 

পরবর্তী বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা গবেষণাগারে জেতা যাবে না। নতুন আবিষ্কার বা সবচেয়ে আগ্রাসী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও এককভাবে বিজয়ী হবে না। বিজয়ী হবে সেই দেশ বা প্রতিষ্ঠান, যারা খনি, পরিশোধনাগার ও বন্দরগুলোর ওপর সবচেয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। আর বর্তমানে সেই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মালিকানা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের বিরল খনিজের চাহিদা পূরণে সক্ষম সম্পদের ক্রমবর্ধমান অংশ অধিগ্রহণ করছে।

২০২৪ সালে এই ধরনের অধিগ্রহণ গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। অন্তত ১০টি চুক্তির মূল্য ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০২৫ সালে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি অর্থ ব্যয় করে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার খনি এবং পরিশোধনাগার কিনে নেয়। এতে তাদের বিদ্যমান প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আফ্রিকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস জানায়, চীন বর্তমানে বিশ্বের মোট গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। বিরল খনিজ উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিশোধনের প্রায় ৮৭ শতাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে।

২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চীনের খনিজ অধিগ্রহণের পরিমাণ ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনায় কেনা ২ বিলিয়ন ডলারের একটি লিথিয়াম খনি এবং বতসোয়ানায় কেনা ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারের একটি তামার খনি।

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে চীন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তারা গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজের প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্রয়োজন হলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কাছে রপ্তানি সীমিত করা বা অন্য সরবরাহকারীদের বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল। শুল্কযুদ্ধের উত্তপ্ত পরিবেশে চীন এমন কিছু বিরল খনিজের সরবরাহ সীমিত করেছিল, যেগুলোর ওপর মার্কিন উৎপাদন শিল্প ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

চীনের এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দেয়, কীভাবে কৌশলগত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একই ধরনের বাস্তবতা দেখা গেছে, যখন ইরান হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ, তা নয়। বরং তারা এই নির্ভরতা কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রভাব কমাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য জোট গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ভ্যান্সের ওই বৈঠকে ভারত ও জাপানসহ ৫৫টি দেশ অংশ নেয়।

তিনি বলেন, ‘সস্তা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ দিয়ে আমাদের বাজার সয়লাব করে দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করার সমস্যা আমরা দূর করতে চাই।’ যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ খনিজের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ এবং এর জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার প্রাথমিক তহবিল বরাদ্দ করেছে। 

ভারতের জন্য এই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। ইরান যুদ্ধ এবং তেল-গ্যাস আমদানিতে সংকট ভারতের সরকারকে জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য করেছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং ঝুঁকিসংক্রান্ত অতিরিক্ত খরচ এর প্রধান কারণ।

এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নয়, বরং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরও জরুরি। কিন্তু সেই রূপান্তর নির্ভর করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের স্থিতিশীল সরবরাহের ওপর, যা ভারতের নিয়ন্ত্রণে নেই। সূত্র: এনডিটিভি

খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার: যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার: যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর ১০০ দিন পার হয়ে গেলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এখনো তাদের এই শীর্ষ নেতাকে দাফন করতে পারেনি। 

যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানি রাজনীতিতে এই দীর্ঘ বিলম্ব এখন অন্যতম সংবেদনশীল ও নজিরবিহীন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একই হামলায় নিহত অন্যান্য সামরিক কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাফন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ খামেনির জন্য একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো তা হয়নি। তেহরানের পৌর কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে তার দাফন সম্পন্ন এবং কয়েক দিনব্যাপী দোয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে এই দীর্ঘ বিলম্ব শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারেই মানায় না। কারণ ইসলামে মৃতদেহ দ্রুত দাফন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সমসাময়িক আলেমরাও মনে করেন, মৃতদেহের প্রতি অসম্মান হওয়ার ঝুঁকি থাকলে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়িয়ে চলা উচিত। দাফন না হওয়ায় খামেনির মরদেহের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। একই হামলায় নিহত অন্য কর্মকর্তাদের মরদেহ কয়েক সপ্তাহ পর উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের মরদেহ ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। তবে খামেনির মরদেহের বর্তমান অবস্থা বা অবস্থান নিয়ে কর্মকর্তারা কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

নিরাপত্তা উদ্বেগ ও নিখোঁজ উত্তরসূরি

দাফনের এই অমীমাংসিত প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় রহস্য। খামেনির উত্তরসূরি আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি। বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে যে হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে, সেটির পর তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তিনি সামান্য আঘাত পেলেও সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তা সত্ত্বেও তার গুরুতর আহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

মোজতবা খামেনি সুস্থ ও সক্রিয় থাকলে তিনি নিঃসন্দেহে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবেন। ফলে তার যেকোনো বড় পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স বা জনসমক্ষে আসা একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই বাস্তবতা নতুন নেতার জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কারণ একজন সর্বোচ্চ নেতার জানাজা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা প্রদর্শনেরও একটি বড় মাধ্যম। এমন একটি বড় ইভেন্টে নতুন উত্তরসূরির অনুপস্থিতি যেমন ব্যাখ্যা করা কঠিন, ঠিক তেমনি তার উপস্থিতি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা হয়তো দেশের প্রশাসন এই মুহূর্তে নিতে চাচ্ছে না।

জানাজার রাজনৈতিক দিক

এই বিলম্বের পেছনে একটি রাজনৈতিক মাত্রাও রয়েছে। ইরান বরাবরই এই ধরনের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করে থাকে। এর বড় উদাহরণ ছিল রেভল্যুশনারি গার্ডসের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির জানাজা। তার মরদেহটি কেরমানে দাফন করার আগে বাগদাদ, নাজাফ, কারবালা, মাশহাদ, তেহরান এবং কোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছিল, ওই অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। পরে সেই ছবিগুলো সরকারের প্রচারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। যদিও কেরমানে দাফনের সময় হুড়োহুড়িতে ৫৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি তখন আড়ালে পড়ে গিয়েছিল। কর্মকর্তারা খামেনির জন্যও ঠিক একই ধরনের এক বিশাল জনসমাগমের আশা করছেন। তবে যুদ্ধ-পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে এত বড় একটি আয়োজন করা লজিস্টিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

আপাতত ইরান এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পরও দেশটিতে নতুন উত্তরসূরি নির্বাচন করা হলেও তাকে জনগণের সামনে আনা হয়নি। সাবেক নেতাকে এক ঐতিহাসিক বিদায় জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আর এই সবকিছু নিয়েই এখন চারদিকে নানা প্রশ্ন উঠছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

সাক্ষাৎকার শেষ না করেই চলে গেলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
সাক্ষাৎকার শেষ না করেই চলে গেলেন ট্রাম্প
উপস্থাপক ও সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় মেজাজ হারিয়ে মাঝপথে উঠে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি ও ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় নিয়ে তুমুল বিতর্কের জেরে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সাক্ষাৎকার মাঝপথেই বর্জন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। উইসকনসিনে গত শুক্রবার নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি গত রবিবার প্রচারিত হয়।

এনবিসির অভিজ্ঞ সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট আকস্মিকভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক প্রাইমারি ভোটের গণনা নিয়ে পুনরায় কারচুপির অভিযোগ তোলেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ দিন পরও ভোট গণনা শেষ না হওয়াকে তিনি ‘নির্বাচনে প্রতারণা হচ্ছে’ বলে দাবি করেন।

জবাবে ওয়েলকার বলেন, ‘এটি ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাভাবিক নির্বাচনি প্রক্রিয়া।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ওই রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ভালো করতে পারছেন না। যদিও বর্তমান জনমত জরিপ অনুযায়ী, নভেম্বরের মূল নির্বাচনে উত্তীর্ণ ডেমোক্র্যাট ফ্রন্টরানার জাভিয়ের বেসেরা ও রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ স্টিভ হিলটনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্বাভাস রয়েছে।

ওয়েলকারকে ‘প্রতারক’ ও ‘বোকা’ আখ্যা

গভর্নর নির্বাচনে জালিয়াতির পক্ষে ওয়েলকার যখন প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো প্রমাণ জানতে চান, তখন ট্রাম্প উল্টো এই বর্ষীয়ান সাংবাদিককে ‘প্রতারক’ বলে অভিযুক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা প্রতারক, ঠিক যেমন আপনি প্রতারক, আপনার সংবাদমাধ্যম প্রতারক। এবং মিট দ্য প্রেসও প্রতারক।’

ওয়েলকার তখন নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করেন এবং আরও প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি হয় প্রতারক, না হয় বোকা। এসব ফালতু জিনিস নিয়ে আপনি সরাসরি তাদের সুবিধা করে দিচ্ছেন। আপনি ভালো করেই জানেন যে এই নির্বাচনগুলোতে কারচুপি হয়েছে। আপনার নেটওয়ার্কও জানে যে সেগুলোতে কারচুপি হয়েছে।’

এরপর ট্রাম্প অতীতে বারবার বলা সেই মিথ্যা দাবিটি আবারও তোলেন, ‘২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনিই জয়ী হয়েছিলেন।’

ওয়েলকার পরে আরও প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে ট্রাম্প এনবিসিকে ‘প্রতারক’ বলা বজায় রাখেন ও সাক্ষাৎকারটি শেষ করে দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন এখানেই ইতি টানি, কারণ আমার যথেষ্ট হয়েছে।’ এই বলে তিনি নিজের মাইক্রোফোন খুলে ফেলেন এবং বলেন, ‘ধন্যবাদ, ডার্লিং। ভালো সময় কাটুক।’

ওয়েলকার যখন ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন যে তিনি এই সাক্ষাৎকারের জন্য উইসকনসিনে এসেছেন, তখন ট্রাম্প উত্তর দেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে এক ঘণ্টা ধরে বৃষ্টিতে বসে আছি। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছিল ও আমি আপনাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি। আপনার উচিত নিজের সংবাদমাধ্যমকে সংশোধন করা।’

৬ জানুয়ারির দাঙ্গাকারীদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গ

সাক্ষাৎকারের শুরুর দিকেও ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। ওয়েলকার তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অপরাধ স্বীকার করা ব্যক্তিরা ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-উইপোনাইজেশন’ তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন কি না।

কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন, দাঙ্গাকারীদের আসলে এফবিআই অ্যাজেন্টরাই মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ভয়েই তারা অপরাধ স্বীকারের চুক্তি (প্লে ডিল) করেছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি জানেন কেন তারা দোষ স্বীকার করেছে? কারণ তাদের বলা হয়েছিল তারা ১৫ বছরের জন্য জেলে যাচ্ছে... কারণ তারা ভয় পেয়েছিল। তারা ভেঙে পড়েছিল। তাদের একটি ভবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’

তবে এ ধরনের ব্যক্তিরা করদাতাদের অর্থ সহায়তা পাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো জবাব দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

ট্রাম্পের এভাবে সাক্ষাৎকার ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে এনবিসি নিউজের এক প্রতিনিধির কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি গার্ডিয়ানের অনুরোধে কোনো সাড়া দেননি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

শির উ. কোরিয়া সফরের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
শির উ. কোরিয়া সফরের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ
২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো গতকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া গেছেন শি জিনপিং –সংগৃহীত

দুই দিনের সফরে গতকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তার এই সফরকে অনেকেই বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। বেইজিংয়ের কাছে উত্তর কোরিয়া এমন এক প্রতিবেশী, যাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, আবার হারানোর ঝুঁকিও নেওয়া যায় না।

কোরিয়া যুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের স্মারক হিসেবে চীন ও উত্তর কোরিয়া দুই দেশের সম্পর্ককে প্রায়ই ‘রক্তের বন্ধন’ বলে বর্ণনা করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস বেড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ধারণা, শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে বেইজিংয়ের অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা বেইজিংকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর শি জিনপিং সম্ভবত নিশ্চিত হতে চান যে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পুরোপুরি মস্কোর প্রভাব বলয়ে চলে যাচ্ছেন না।
রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সামরিক সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে পুতিনের পিয়ংইয়ং সফরের সময় দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে।

এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার সেনারা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করেছে এবং দেশটি রাশিয়াকে গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে তারা জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়েছে।

চীনের আশঙ্কা হলো, যদি রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে, তাহলে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব কমে যাবে।
সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে গত বছর শি জিনপিং কিম জং উনকে বেইজিংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে কিমকে নিজের পাশে এবং পুতিনের কাছাকাছি অবস্থানে রাখা হয়েছিল।

ছয় বছর পর এটি ছিল শি ও কিমের প্রথম আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক। শি দুই দেশকে ‘ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু ও অভিন্ন ভাগ্যের সহযাত্রী’ বলে অভিহিত করেন।

চীন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে না। এতে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে, যা বেইজিংয়ের জন্য অস্বস্তিকর।

তবে চীন আবার সরাসরি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয় না। ২০২২ সালে চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ভেটো দেয়। চীনের ধারণা, অতিরিক্ত চাপ দিলে উত্তর কোরিয়া আরও বেশি রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়বে।

যদিও কিম জং উন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন, তবু তিনি চীনকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেন না। গত বছর চীনের রপ্তানি উত্তর কোরিয়ায় প্রায় ২৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ বছর দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো উত্তর কোরিয়াকে আবার চীনের প্রভাব বলয়ে ফিরিয়ে আনার বেইজিংয়ের পরিকল্পনার অংশ।

শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফরের মূল উদ্দেশ্য–উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের রাজনৈতিক প্রভাব পুনরায় শক্তিশালী করা, পিয়ংইয়ং-মস্কো ঘনিষ্ঠতার ফলে চীনের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা, কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।

শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর মূলত বন্ধুত্বের প্রদর্শনের চেয়ে কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ। উত্তর কোরিয়া চীনের জন্য একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি নিরাপত্তা বাফার, অন্যদিকে একটি অপ্রত্যাশিত ও ঝুঁকিপূর্ণ মিত্র। তাই বেইজিং চাইছে কিম জং উনকে নিজের প্রভাব বলয়ের মধ্যে রাখতে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার কারণে চীন কোনো নতুন আঞ্চলিক সংকটে জড়াতে চায় না। এ কারণেই শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফরকে অনেক বিশ্লেষক ‘বন্ধুত্ব নয়, প্রভাব ধরে রাখার কূটনীতি’ হিসেবে দেখছেন। সূত্র: বিবিসি