জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ বা কনস্ক্রিপশন আইন পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও স্কুল ধর্মঘট হয়েছে। গত ৫ ডিসেম্বর সকালে বুন্ডেস্ট্যাগে নতুন আইন নিয়ে ভোট চলাকালে জার্মানির ৯০টির বেশি শহরে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের দাবি, এদিন অন্তত ৫৫ হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন, যাদের বড় অংশই ছিল স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর রেশ ধরে গত কয়েকদিনেও জার্মানিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা সামরিকীকরণ নয় বরং চান শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। তাদের মতে, যুদ্ধ ও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার পেছনে মূল কারণ পুঁজিবাদী সংকট এবং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। সেনাবাহিনীতে ব্যয় বাড়ানো মানেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া।
নতুন আইনের আওতায় আপাতত ১৮ বছর বয়সী সব পুরুষকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হবে। পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক না পাওয়া গেলে ‘চাহিদাভিত্তিক বাধ্যতামূলক নিয়োগ’ চালুর পথ খুলে যাবে। তবে সাম্প্রতিক জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক পাওয়া নাও যেতে পারে। এই বাস্তবতায় সরকার তরুণদের আকৃষ্ট করতে বেতন বাড়ানো, ড্রাইভিং লাইসেন্সে ভর্তুকিসহ নানা আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।
আন্দোলনকারীরা এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, অর্থের লোভ দেখিয়ে তরুণদের যুদ্ধে পাঠানো গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, ভালো প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আখেন, ফ্রাইবুর্গ, ক্যাসেল, স্টুটগার্ট, রোস্টকসহ বিভিন্ন শহরে কয়েক দশ থেকে শুরু করে হাজারো শিক্ষার্থী একযোগে বিক্ষোভে অংশ নেন। কোথাও কোথাও সমাবেশের পর আলোচনা সভা ও মতবিনিময়ও হয়।
আয়োজকদের মতে, এবারের কর্মসূচি আগের বড় আন্দোলনের মতো বিশাল না হলেও দেশজুড়ে একসঙ্গে এতগুলো শহরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে জার্মান তরুণদের বড় একটি অংশ সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। তারা এই আন্দোলন আগামী দিনেও চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী বাস্তবতায় ইউরোপজুড়ে সামরিক কেনাকাটা ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে জার্মানি তাদের তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে চায়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দেশটির তরুণরা।
মাহফুজ/