দুই বছর পর ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে বেথলেহেম শহরে হলো বড়দিন উদযাপন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বেথলেহেমে বড়দিন উদযাপন স্থগিত রাখা হয়েছিল গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে। সেখানে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। প্রসঙ্গত যিশুর জন্মস্থান হিসেবে ধরা হয় বেথলেহেমকে।
একই সময়ে বেথলেহেম ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযানের তীব্রতাও বৃদ্ধি পায়, দুই স্থান মিলিয়ে গত দুই বছরে ইসরায়েলিদের হাতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা থেকে ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানরাও রেহাই পাননি।
অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজায় যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তবে ইসরায়েল এখনো গাজায় হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। এতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
ফলে ম্যানজার স্কয়ারে উৎসবের আবহ কিছুটা মন হালকা করলেও যুদ্ধের বাস্তবতা পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিল না। বড়দিনের আগের দিন হয় ওই উদযাপন। পুরো আয়োজনই ছিল আবেগঘন। উদযাপন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েলি বাহিনী কাছের দেইশেহ ও আইদা শরণার্থী শিবির থেকে তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করে। সামরিক অভিযানও চলতে থাকে।
সম্প্রতি গাজা সফর শেষে ফেরা জেরুজালেমের লাতিন প্যাট্রিয়ার্ক পিয়েরবাতিস্তা পিজ্জাবাল্লা ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘গাজায় আমি সম্পূর্ণ ধ্বংস দেখেছি। কিন্তু সেই ধ্বংসের মাঝেও আমি জীবনের প্রতি এক গভীর আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেছি। শূন্যতার মাঝেও মানুষ আনন্দ ও উদযাপনের কারণ খুঁজে নিয়েছে। তারা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, মানবসৃষ্ট ধ্বংস সত্ত্বেও আমরা ফিরে এসে আবার গড়ে তুলতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গাজা ও বেথলেহেম, দু-জায়গাতেই উদযাপন করতে পারব। আমরা ফিরে আসব এবং সবকিছু নতুন করে গড়ে তুলব।’
ফিলিস্তিনি ও বিদেশি দর্শনার্থী মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ এই বড়দিনের উৎসব উদযাপনে অংশ নেন। অঞ্চলটিতে খ্রিষ্টান জীবনের অন্যতম বড় প্রতীক হয়ে উঠেছে এই অনুষ্ঠান। যদিও ইসরায়েলি দখলদারত্বসহ নানাবিধ কারণে পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। সূত্র: আল-জাজিরা