যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অপহরণ করে যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক দিনের কিয়েভে সফরে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার স্থান পরিদর্শনের সময় তিনি কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, যদি যেকোনো বিশ্বনেতাকে অপহরণের সুযোগ থাকত, তবে তিনি ‘পুতিনকে হেফাজতে নিয়ে তার যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহি করাতেন।’
প্রসঙ্গত, তার সফরের কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, জন হিলি কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেনশিয়াল প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি, ইউক্রেনে সম্ভাব্য শান্তি রক্ষা মিশনের প্রস্তুতির জন্য ব্রিটেন তার সেনাদের প্রশিক্ষণে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করার ঘোষণা দেন।
জন হিলি আরো বলেন, রুশ প্রেসিডেন্টের যুদ্ধাপরাধের মধ্যে রয়েছে ‘ইউক্রেনে আমার প্রথম দিকের সফরগুলোর একটিতে বুচায় যা দেখেছি এবং ইরপিন শহরে যেসব ইউক্রেনীয় শিশুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে কিছু শিশুকে অপহরণ করা।’
এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী কিয়েভের উপকণ্ঠের শহর বুচা মুক্ত করার পর সেখানে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। জন হিলি ২০২৪ সালের মে মাসে ইউক্রেনে তার প্রথম দিকের সফরগুলোর একটিতে ওই হত্যাকাণ্ডের শিকারদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন।
এরপর ২০২৩ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পুতিনের বিরুদ্ধে ‘শত শত’ ইউক্রেনীয় শিশুকে, যাদের মধ্যে এতিম শিশুও রয়েছে, জোরপূর্বক রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জন হিলি আরও বলেন, ‘এই মানুষটিকে (পুতিন) থামাতেই হবে। এই যুদ্ধ থামাতেই হবে। আর আমাদের দায়িত্ব হলো, আজ ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া এবং ভবিষ্যতের শান্তি নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করা।’
গত বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া দেশটির ওপর একযোগে ২৪২টি ড্রোন ও ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। রাজধানী কিয়েভ ছিল প্রধান লক্ষ্যবস্তু। একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আগুন ধরে যায়, এতে অন্তত ৪ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হন।
সুলতানা দিনা/