ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি ১৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া: স্বপ্ন বনাম প্রত্যাবর্তন কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া এবার কত দূর যাবে পর্তুগাল? ঘানা-পানামা: বাঁচা-মরার শুরু
Nagad desktop

টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে মানুষের সমর্থন পাব

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১১ এএম
পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে মানুষের সমর্থন পাব
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমানকে ঢাকার বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। তবে পাঁচ দিনের মধ্যে মারা যান তার মা খালেদা জিয়া। বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যদি আমি আমার পরিকল্পনার ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারি, মানুষ আমাকে সমর্থন করবে।’

তিনি সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, খাল খনন, বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন। দেশে ফেরার পর এটাই ছিল বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রথম সাক্ষাৎকার। টাইম ম্যাগাজিন গতকাল বুধবার এটি প্রকাশ করে।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরে ঢাকার বিমানবন্দরে হাজার হাজার সমর্থক তাকে স্বাগত জানায়। তবে পাঁচ দিনের মধ্যেই মারা যান তার মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এই দুই বড় ঘটনা দেশের রাজনীতি ও জনগণের আবেগের সঙ্গে যুক্ত।

তারেক রহমান বলেন, ‘মা আমাকে শিখিয়েছেন, দায়িত্ব থাকলে তা পালন করতে হবে।’ তিনি দেশের আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রার্থী। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নানা সমস্যা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বেশি, টাকার মান কমেছে। বিদেশি মুদ্রা কমে যাওয়ায় আমদানি ও উৎপাদন বাধাগ্রস্ত। বেকারত্ব ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রতিবছর ২০ লাখ নতুন চাকরি খুঁজে বের করতে হয়।

তবে তারেক রহমানকে নিয়ে বিতর্কও আছে। সমালোচকরা বলেন, তিনি শুধু জন্মগত কারণে ক্ষমতায়। সমর্থকরা মনে করেন, তিনি দেশে ফেরেন দেশ রক্ষার জন্য। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বাবা-মায়ের ছেলে বলে এখানে নেই। আমার সমর্থকদের জন্য আমি এখানে। তারাই আমাকে নেতা বানিয়েছেন।’

সাক্ষাৎকারে নিজের দেশে ফেরার উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নিজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুর্নীতির মামলা, শেখ হাসিনার শাসনামল ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তারেক রহমান।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে এমন একজন নেতা হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যিনি রাজকীয় উত্তরসূরি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ নির্বাসনে থেকে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। 

তিনি এখন কেবল একটি দলের নেতা নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন পরিবর্তনের রূপকার। ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতির মতো তিনিও বলছেন, এটি এক ‘নতুন বাংলাদেশ’। যেখানে বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার থাকবে সুরক্ষিত। 

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের মানুষ তাকে যে আস্থা দিয়েছে, সেটাই তার রাজনীতিতে থাকার প্রধান কারণ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি শুধু পারিবারিক পরিচয়ের কারণে রাজনীতিতে নেই, বরং দলের সমর্থকরাই তাকে সামনে এনেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে এগিয়ে থাকা প্রার্থী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ। তবে একই সঙ্গে উঠে এসেছে উদ্বেগও। 

অতীতে বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগ, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক খাম্বা বিতর্ক এখনো তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

তারেক রহমান সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, আগের মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো বাতিল করেছে। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে বিচার হবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে দেশ চালানো যাবে না।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার দুর্বল মান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসংকট এবং যুব বেকারত্ব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না–এ বিষয়টি তারেক রহমানের জন্য বড় পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেছে টাইম ম্যাগাজিন।

দেশে ফেরার পর থেকে নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন তারেক রহমান। তিনি ১২ হাজার মাইল খাল খননের কথা বলেছেন।

ভূমির অবক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানো; ঢাকায় ৫০টি উন্মুক্ত সবুজ স্থান গড়ে তোলা; বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা; প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি কলেজ পুনর্গঠন এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রণয়নসহ নানা পরিকল্পনার কথা তিনি শুনিয়েছেন।

টাইম ম্যাগাজিনকে তিনি বলেন, ‘আমি যা যা পরিকল্পনা করেছি, তার মাত্র ৩০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমি নিশ্চিত, দেশের মানুষ আমাকে সমর্থন দেবে।’

সাক্ষাৎকারে লন্ডনে কাটানো সময় নিয়েও স্মৃতিচারণা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, লন্ডনে তার পছন্দের কাজ ছিল রিচমন্ড পার্কে ঘুরে বেড়ানো, চিন্তায় ডুবে থাকা কিংবা ইতিহাসের বই পড়া। তার প্রিয় সিনেমা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি সম্ভবত আটবার সিনেমাটি দেখিছি।’

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় টাইমস স্কয়ারে হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় টাইমস স্কয়ারে হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ ‘জে’–এর উদ্বোধনী ম্যাচে বুধবার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া।

এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফুটবল ভক্তদের উৎসবমুখর জমায়েতটি হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিউ ইয়র্কের অন্যতম এই আইকনিক স্থানে জড়ো হওয়া সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই দেশের সমর্থকরা একে অপরকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছেন এবং অঙ্গভঙ্গি করছেন।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরু উদ্যাপন করতে টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া ও ফ্রান্সের হাজার হাজার সমর্থক সমবেত হয়েছিলেন। শুরুতে পরিবেশটি উৎসবমুখর ছিল; ভক্তরা পতাকা ওড়াচ্ছিলেন এবং জাতীয় সংগীত গাইছিলেন।

কিন্তু আর্জেন্টিনার একদল সমর্থকের সঙ্গে আলজেরীয় সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে যায়।

পুলিশ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয় যাতে নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে এই সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এসএন/

জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু: ইউনিসেফ

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু: ইউনিসেফ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি শিশু জলবায়ুজনিত অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে  রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের কিছু অঞ্চলে এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের এ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদনে বিশ্বের প্রায় ২৪০ কোটি শিশুর বসবাসের স্থানের সাথে মিল রয়েছে এমন আটটি জলবায়ুজনিত প্রভাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই আটটি প্রভাব হলো: উপকূলীয় বন্যা, নদীভিত্তিক বন্যা, খরা, ক্রান্তীয় ঝড়, তাপপ্রবাহ (অন্তত টানা তিন দিন উচ্চ তাপমাত্রা, তবে দেশভেদে ভিন্ন হয়), চরম তাপমাত্রা, দাবানল ও বালুঝড়।

প্রতিবেদনটিতে মূলত ১১০ কোটি শিশুর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যারা অন্তত তিনটি ঝুঁকির সম্মুখীন। এর মধ্যে অধিকাংশ স্থানে মিল পাওয়া যায় এমন তিন ঝুঁকি হলো- খরা, চরম তাপমাত্রা (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে) এবং তাপপ্রবাহ। এই তিনটির যৌথ প্রভাবে প্রায় ২৯ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে নাইজেরিয়ার ৭ কোটি ৪০ লাখ, পাকিস্তানের ৩ কোটি ৪০ লাখ এবং ভারতের ৩ কোটি ২০ লাখ শিশু।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ বছরে এই ‘তিনটি বা তার বেশি’ ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় সব শিশু অন্তত একটি ঝুঁকির মুখে। ২০০ কোটি শিশু অন্তত দুটি ঝুঁকির মুখে, যেখানে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু অন্তত চারটি ঝুঁকির সম্মুখীন। সাতটি বা এর বেশি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা ১ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার শিশুই রয়েছে মিয়ানমারে।

ইউনিসেফের প্রধান ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ক্ষেত্রে শিশুরাই সবার আগে রয়েছে।’

শিশুদের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কোথায়- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক টম স্লেমেকার বলেন, ‘এর সংক্ষিপ্ত কোনো  উত্তর নেই।’

স্লেমেকার বলেন, ‘তবে সব অঞ্চল সমান নয়। কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আমরা দেখতে পাই। এগুলো মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বেশি কেন্দ্রীভূত।’

বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের মতো যেসব দেশে শিশু জনসংখ্যা বেশি, সেসব দেশ অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুর সংখ্যার দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তবে শতকরা হারের হিসাবে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো, বিশেষ করে সাহেল অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক ক্ষেত্রে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সীমিত সক্ষমতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটি বর্তমানে মানবিক সংকটে রয়েছে। সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্যের প্রাপ্যতা সীমিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাদের ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু অন্তত তিনটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ৩৯টি দ্বীপরাষ্ট্র। এসব দেশের সামনে সীমিত মিঠাপানির উৎস, আমদানি নির্ভরতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের পর সহজে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ না থাকার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

স্টারবাকসের বিতর্কিত প্রচারণা, ইতিহাস পাঠে কর্মীদের জন্য অর্ধদিবস বন্ধ সব শাখা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
স্টারবাকসের বিতর্কিত প্রচারণা, ইতিহাস পাঠে কর্মীদের জন্য অর্ধদিবস বন্ধ সব শাখা
ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিল রেখে একটি প্রচারণা চালায় স্টারবাকস। এ কারণে স্টারবাকস সেখানে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী সপ্তাহে দেশজুড়ে স্টারবাকসের সব শাখা অর্ধেক বেলা (হাফডে) বন্ধ রাখা হবে। বন্ধের সময়ে কর্মীরা দেশের ইতিহাস এবং সামাজিক সংবেদনশীলতা বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

স্টারবাকস কোরিয়া একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপের প্রচারণা চালু করেছিল, যার নাম ছিল “ট্যাঙ্ক ডে”। তবে এই প্রচারণা ১৯৮০ সালের গুয়াংজু গণ-অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর সময় চালু হওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই অভ্যুত্থান দমনে সামরিক বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৬৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যদিও অনেকের মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় লাইসেন্স চুক্তির আওতায় স্টারবাকস পরিচালনাকারী শিনসেগে গ্রুপ এ ঘটনার পর দেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান চুং ইয়ং-জিনও কর্মীদের সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

আগামী বুধবার (১৭ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা থেকে তিন ঘণ্টার জন্য দেশজুড়ে স্টারবাকসের সব শাখা বন্ধ থাকবে। এরপর সেগুলো পরদিন পর্যন্ত আর খোলা হবে না। সোমবার (১৫ জুন) সব কর্মীকে ইতিহাস সচেতনতা ও সামাজিক সংবেদনশীলতা বিষয়ে ভিডিওভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

১৯৯৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাত্রা শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী একযোগে স্টারবাকস সব শাখা বন্ধ করছে  কোরিয়া।

বিতর্কিত প্রচারণাটি ছিল স্টারবাকসের “ট্যাঙ্ক সিরিজ” টাম্বলারকে কেন্দ্র করে। প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে জানায়, এটি ১৫ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলা বিভিন্ন পণ্যের প্রচারণার একটি অংশ মাত্র। পরে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।

গত মাসে বিতর্কের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে “অমানবিক ও লজ্জাজনক আচরণ” বলে আখ্যা দেন। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন স্টারবাকস শাখার সামনে বিক্ষোভ হয় এবং বয়কটের আহ্বানের ফলে বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে জানা যায়।

গওয়াংজু অভ্যুত্থান দমনের সময় শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, সেনাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে মারধর, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগও পরে তদন্তে প্রমাণিত হয়। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করে এবং ১৯৮৭ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে সামরিক শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমালোচকদের দাবি, প্রচারণায় ব্যবহৃত কিছু স্লোগানও ১৯৮৭ সালের গণতন্ত্র আন্দোলনের স্মৃতির সঙ্গে মিলে যায়। শিনসেগে গ্রুপ জানিয়েছে, বিপণন স্লোগান তৈরিতে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহার করা হয়েছিল।

সামরিক শাসক  ১৯৮৮ সালে ক্ষমতা ছাড়েন। পরে রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পান। ২০২১ সালে ৯০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে গওয়াংজুতে নারীদের ওপর সংঘটিত যৌন সহিংসতার ঘটনায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়। এছাড়া তার নাতি  নিহতদের স্বজনদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তার দাদাকে “পাপী ও হত্যাকারী” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।সূত্র: বিবিসি 

খাদিজা রুমি/ 

ভারতে ২২ জুন পর্যন্ত জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' ব্লক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
ভারতে ২২ জুন পর্যন্ত জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' ব্লক
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম। আগামী ২২ জুন পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল টেস্টিং অ্যাজেন্সি।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের আসন্ন মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET-UG 2026-এর পুনঃপরীক্ষা) কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের প্রতারিত করতে এবং ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়াতে একটি চক্র এই প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যবহার করছিল। এই 'চিটিং র‍্যাকেট' বা প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা বন্ধ করতে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মূল কারণ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ:পুনঃপরীক্ষা রক্ষা:

এর আগে গত মে মাসে হওয়া পরীক্ষাটি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল করা হয়েছিল। আগামী ২১ জুন সেই পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতেই ২২ জুন পর্যন্ত অ্যাপটি ব্লক রাখার নির্দেশ দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। 

ব্লক করার পাশাপাশি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের 'মেসেজ এডিটিং' (বার্তা সংশোধন) ফিচারটিও নিষ্ক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, অতীতে অনেকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পুরনো মেসেজ এডিট করে প্রশ্নপত্র বসিয়ে ভুয়া 'প্রশ্ন ফাঁসের' প্রমাণ সাজাতো, যা সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করত।

ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানিয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং একটি নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নেই সুনামির আশঙ্কা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নেই সুনামির আশঙ্কা
ছবি: প্রতীকী

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

দেশের ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সুলাওয়েসি প্রদেশের পালু শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার।

গভীরতা কম হওয়ায় ওই অঞ্চলে বেশ তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে।

কম্পনটি এক মিনিটেরও বেশি সময় স্থায়ী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

তাৎক্ষণিক বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে পালু শহরের কিছু ভবনের ছাদ ধসে পড়ার মতো আংশিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। বিএমকেজি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই ভূমিকম্পে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।

২০১৮ সালে এই পালু শহরেই একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে মঙ্গলবারের এই কম্পন স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে সেই পুরোনো আতঙ্ক নতুন করে ফিরিয়ে আনে। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/অমিয়/