ইরানের ওপর মার্কিন কোনো হামলা হলে ব্রিটেনের সহায়তা করার সম্ভাবনা কম। তবে গত সপ্তাহে কাতারে আরএএফ (RAF) টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করার মাধ্যমে এই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, তেহরান যদি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয়, তবে আঞ্চলিক মিত্রদের সাহায্য করতে ব্রিটেন ইচ্ছুক। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
আন্তর্জাতিক আইনের ব্রিটিশ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইরানের ওপর আগেভাগে কোনো আক্রমণ চালানো সম্ভবত যুক্তিসঙ্গত হবে না। তবে কাতার বা অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের আত্মরক্ষার প্রয়োজনে ব্রিটিশ বাহিনী এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
গত সপ্তাহে লিঙ্কনশায়ার থেকে আরএএফ-এর ‘১২ নম্বর স্কোয়াড্রন’ (যা কাতারি বিমানবাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ টাইফুন যুদ্ধবিমানের ইউনিট) মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইরান সরকারের ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে বিশাল সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
ব্রিটিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্কোয়াড্রনটির এই অগ্রিম মোতায়েন ছিল কাতারের অনুরোধে। এর উদ্দেশ্য হলো কাতারকে রক্ষা করা, যেখানে এই অঞ্চলের বৃহত্তম মার্কিন বিমানঘাঁটি অবস্থিত। মূলত ইরানের যেকোনো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দিতেই এই পদক্ষেপ।
চলতি মাসের শুরুতে ইরান সতর্ক করেছিল যে, ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের সমর্থনে ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি দেশটিতে বোমা হামলা চালান, তবে তারা পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিগুলোতে অল্প সংখ্যক ব্রিটিশ কর্মীও নিয়োজিত থাকেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার চীন সফরকালে কিয়ার স্টারমার ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার জল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর পরিবর্তে তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরান যাতে পারমাণবিক কর্মসূচি সফল করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। আমরা সবাই এ বিষয়ে একমত এবং মিত্রদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছি। আমার এবং আমাদের মিত্রদের প্রধান লক্ষ্য এখন এটাই।
তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো স্বীকার করেছে যে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মূলত নিজের জন্য বিকল্প পথ খোলা রাখছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিল ও অক্টোবরে ইরান যখন ইসরায়েলে দুই দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তখন ইসরায়েলের আত্মরক্ষায় ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ সহায়তা করেছিল। এপ্রিলে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ইরানের বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছিল, যদিও অক্টোবরে আরএএফ-এর ভূমিকা ছিল নগণ্য।
টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো মূলত কাতার বা অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল থেকে রক্ষা করার কাজে ব্যবহৃত হবে। তবে ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ওড়ায়, যা যুদ্ধবিমানের পক্ষে প্রতিহত করা সম্ভব নয়। এগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট (Patriot) বা থাড (Thaad)-এর মতো বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই ধ্বংস করা সম্ভব।
কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক স্থাপনা। এখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে এবং এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর। এই মাসের শুরুর দিকে এখানে প্রায় ১০০ জন ব্রিটিশ আরএএফ কর্মী ছিলেন, তবে উত্তজনা বাড়ার পর তাদের বেশিরভাগকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সাফোকের লেকেনহিথ থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলো জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলোর কাজ ইরানে হামলা চালানো নয়, বরং জর্ডান, ইসরায়েল বা উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা প্রতিহত করা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান