ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেকেই আগে আশঙ্কা করেছিলেন, সেখানে সহিংসতা হতে পারে। কিন্তু সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি। তার দাবি, ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মমতা বলেন, ‘দেখুন, বাংলাদেশ কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করেছে। সবাই ভেবেছিল সহিংসতা হবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। ওদের কাছ থেকে শেখা উচিত।’
এ সময় তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ভারতের নির্বাচন কমিশন দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি কটাক্ষ করে কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, বাদ পড়াদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত ও যোগ্য ভোটার। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকেও আরও নাম বাদ যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে তিনি ‘জোচ্চুরি’ বলে আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতেই ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে।
নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা সাতজন কর্মকর্তাকে স্থগিত করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলেন, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়নি। তারা অন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তাদের কেন স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের অপরাধ কী।
মমতার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল অভিযোগ করেন, মমতা বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখাচ্ছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মমতা জামায়াতকে সমর্থন করছেন।
বিজেপি সংসদ সদস্য সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি