মায়ানমারের পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থিত একটি রাজ্যের গ্রামীণ বাজারে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুটি স্থানীয় সূত্র এ তথ্য জানায়। গত মঙ্গলবার এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মায়ানমার গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত। এই অভ্যুত্থান গণতন্ত্রকামী কর্মী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র প্রতিরোধের জন্ম দিয়েছে, যারা দীর্ঘকাল ধরে দেশটির সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
পশ্চিম উপকূলীয় রাখাইন রাজ্য বর্তমানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। এই অঞ্চলটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, জান্তা বাহিনী এলাকাটি অবরোধ করে রেখেছে এবং সেখানে নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে।
আরাকান আর্মি এবং একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর মতে, মঙ্গলবার জান্তার বিমান বাহিনী রাজ্যের রাজধানী সিত্তওয়ে থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত পুন্নাগিউন শহরের 'ইয়ো এনগু' গ্রামে হামলা চালায়।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মায়ানমার সামরিক বাহিনীর কোনো মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আরাকান আর্মির বিবৃতিতে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে (০৭৩০ জিএমটি) একটি বাজারে হওয়া এই হামলায় নিহত ১৭ জন 'নিরীহ বেসামরিক নাগরিকের' নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছেন।
পুন্নাগিউন ইয়ুথস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান পিয়া ফো নাইং বলেন, 'আমাদের তালিকায় ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।'
হামলার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ সেখানকার পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, 'অবস্থা সত্যিই ভয়াবহ ছিল, চার-পাঁচটি ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং অনেক ভবন ধ্বংস হয়েছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'কেউ কেউ কাঁদছিলেন, আবার অনেক মৃতদেহ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল। আমরা যখন পৌঁছাই তখন কিছু ঘরবাড়ি জ্বলছিল, তাই অনেকে প্রাণভয়ে পালাচ্ছিলেন।'
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে সহায়তা সংস্থাগুলো নিয়মিত সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।
গত বছর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে বলেছিল যে, যুদ্ধের পাশাপাশি সামরিক অবরোধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তায় ব্যাপক কাটছাঁট এই রাজ্যে 'ক্ষুধা ও অপুষ্টির নাটকীয় বৃদ্ধি' ঘটিয়েছে।
যদিও এই রাজ্যে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে, তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধেও অপহরণ, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড রয়েছে।
আরাকান আর্মি বর্তমানে জান্তা শাসনের বিরোধিতাকারী অন্যতম শক্তিশালী গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে- যারা সিত্তওয়েসহ রাখাইনের কয়েকটি অবরুদ্ধ অবস্থানে জান্তা সৈন্যদের হটিয়ে দিয়েছে।
তবে চীন ও রাশিয়ার তৈরি যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে বিমান হামলা এবং আকাশপথে রসদ সরবরাহের কারণে জান্তা বাহিনী এখনও তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
সুমন/