জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের শেষের দিকে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে একটি চরম মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৩২ লাখ মানুষ—অর্থাৎ ৬ লাখ থেকে ১০ লাখ ইরানি পরিবার—জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর-এর কর্মকর্তা আয়াকি ইতো এক বিবৃতিতে বলেছেন, “খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, তাদের অধিকাংশ তেহরান এবং অন্যান্য বড় শহরগুলো থেকে নিরাপত্তার খোঁজে দেশটির উত্তরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকাগুলোর দিকে পালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা ও যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান সত্ত্বেও মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানে তাদের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই হামলায় দেশজুড়ে প্রায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে, তারা ইরানি নেতা এবং সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে ইরানের দাবি, স্কুল ও হাসপাতালের মতো হাজার হাজার বেসামরিক স্থাপনা এই হামলার শিকার হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান বৃহস্পতিবার আল জাজিরাকে বলেছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শহর এলাকায় হামলা তীব্র হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং মেডিকেল টিমগুলো তাদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, “হতাহতদের অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিক।” এছাড়া ৩০টিরও বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবারও রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় একটি এলাকায় সাম্প্রতিক হামলায় বেশ কিছু বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন। সেখানকার পরিস্থিতিকে তিনি ‘ভয়াবহ দুর্যোগের চেয়েও বেশি কিছু’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন করা মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্য করে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এছাড়া তেহরান গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/