ইরানে অন্যায় যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের প্রধান জোসেফ (জো) কেন্ট।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রথম এবং সবচেয়ে সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করলেন।
আজ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করা এক চিঠিতে কেন্ট এই বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত জানান।
কেন্ট তার চিঠিতে সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ ছিল না।
তিনি লিখেছেন, ‘‘আমি আমার বিবেককে বিসর্জন দিয়ে চলমান ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। ইরানের কাছ থেকে আমাদের জাতির কোনো আসন্ন ঝুঁকি ছিল না এবং এটি স্পষ্ট যে ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী লবির চাপেই আমরা এই যুদ্ধ শুরু করেছি।’’
ইরান যুদ্ধের সবশেষ জানতে পড়ুন: ইরান যুদ্ধের ১৮তম দিন
ট্রাম্পকে মিথ্যা বলে যুদ্ধে নামিয়েছে ইসরায়েল: জো কেন্ট
কেন্ট তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন যে, তিনি ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচার করা ‘মূল্যবোধ এবং পররাষ্ট্রনীতি’র একজন সমর্থক ছিলেন এবং ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেগুলো বাস্তবায়নও করেছিলেন।
কেন্ট চিঠিতে বলেন, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প আধুনিক যুগের যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ভালো বুঝতেন যে, কীভাবে দেশকে অন্তহীন যুদ্ধে না জড়িয়েও সামরিক শক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই পরিস্থিতি বদলে গেছে দাবি করে তিনি লিখেন, ‘‘ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রভাবশালী সদস্যরা একটি সুপরিকল্পিত ‘ভুল তথ্য প্রচারের অভিযান’শুরু করে। এটি আপনার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধের উন্মাদনা ছড়িয়ে দিয়েছে।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আপনাকে এটা বিশ্বাস করাতে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক আসন্ন হুমকি এবং এখনই হামলা করলে দ্রুত বিজয় অর্জন সম্ভব। এটি একটি ডাহা মিথ্যা ছিল। ঠিক একই কৌশল ব্যবহার করে ইসরায়েলিরা আমাদের সেই ভয়াবহ ইরাক যুদ্ধে টেনে নিয়ে গিয়েছিল।’’
বর্তমান মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো দেশে যুদ্ধ শুরু করতে হলে সেই দেশের পক্ষ থেকে সরাসরি এবং তাৎক্ষণিক হুমকির প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। কেন্টের এই দাবি তাই আইনি ও নৈতিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। হোয়াইট হাউস এবং ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অফিস থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জন্য এই পদত্যাগের খবরটি ছিল অনেকটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। কেন্টকে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসী গ্যাবার্ডের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।
উল্লেখ্য যে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তুলসী গ্যাবার্ড নিজেকে অনেকটা আড়ালে রেখেছেন। যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো ছাড়া তাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি এবং তিনি এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য বিবৃতিও দেননি। জো কেন্টের এই পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে চলমান উত্তেজনা ও মতভেদকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এল। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/