ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও মদসহ ২ মাদককারবারি আটক গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও ভারতীয় মদসহ দুই মাদককারবারি আটক গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, যুবক নিহত কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা রায়পুরে হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানের বর্জ্যে দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২
Nagad desktop

উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধে নামছে না কেন?

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধে নামছে না কেন?
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপে বাপকো তেল শোধনাগারে হামলার পর ধোঁয়া উঠছে। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এখন আর কেবল নির্দিষ্ট সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই। তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েল ইরানের বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পারস’-এ হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কাতারের ‘রাস লাফান’ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হেনেছে। ধারাবাহিক এই উসকানি সত্ত্বেও কাতারসহ প্রতিবেশী দেশগুলো এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এই ধৈর্য কতদিন টিকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

হামলার লক্ষ্যবস্তু যখন অসামরিক অবকাঠামো
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরান এর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে। তারা শুধু ইসরায়েলকে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায়। উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও বিমানবন্দর, হোটেল, আবাসিক এলাকায় হামলা চালায় ইরান। এ ছাড়া জ্বালানি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে আমিরাত ও বাহরাইনের বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও এসব দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রয়েছে।

কৌশলগত নীরবতার কারণ
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো সিনা তুসি এই পরিস্থিতিকে ঝুঁকি ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশের সমন্বয় হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর দৃষ্টিতে এটি তাদের যুদ্ধ নয়। প্রতিশোধ নিতে গেলে তারা আরও বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতির শঙ্কাই বেশি।’

এই দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত জ্বালানি রপ্তানি, সামুদ্রিক পরিবহন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নির্ভরশীল। ইরান ইতোমধ্যে দেখিয়েছে, তারা এই খাতগুলো ব্যাহত করার সক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করে ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক রব জেইস্ট পিনফোল্ডের পর্যবেক্ষণ ভিন্ন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়াতে আরব দেশগুলোর মধ্যে একধরনের অনীহা কাজ করছে। অনেক নেতার ধারণা, ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের তিক্ত স্মৃতি এখনো তাদের তাড়া করে ফেরে। সে সময়ে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর সৃষ্ট শূন্যতা পুরো অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি কেউ চায় না। 

যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরতা ও নিরাপত্তার সমীকরণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু করার ধরনে অসন্তুষ্ট হলেও উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য এখনো ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে। 

পিনফোল্ডের মতে, ‘রাজনৈতিক স্তরে তারা আমেরিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেও সামরিক ক্ষেত্রে এই সম্পর্কটি এখন প্রকৃত অর্থে পরীক্ষিত হচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্র তার অভিযানের উদ্দেশ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা থেকে শুরু করে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলছে। তবে আরব নেতারা মনে করেন, কূটনীতিই এই সংঘাত অবসানের একমাত্র উপায়। 

ইরান সব দেশের ওপর সমান তীব্রতায় হামলা চালাচ্ছে না। এটি দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের ভিন্নতাকেই প্রতিফলিত করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যেহেতু ২০২০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে, তাই তারা বেশি হামলার শিকার হচ্ছে। বিপরীতে ওমানের ওপর হামলা অনেক কম। ওমান দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পশ্চিমের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এমনকি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানানো একমাত্র উপসাগরীয় দেশ ছিল ওমান। 

দুবাই পাবলিক পলিসি রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মোহাম্মদ বাহারুন সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে তার বিরুদ্ধে একটি সম্প্রসারণশীল জোট গঠনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। হামলা চালিয়ে ইরান তাদের শত্রুতে পরিণত করছে। এমন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা কেউ চায় না।’ সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে আরব দেশগুলো জাতিসংঘের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রতিশোধের সীমা কোথায়?
এখন প্রশ্ন হলো, আরব দেশগুলো ঠিক কতক্ষণ এই পরিস্থিতি সহ্য করবে? রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) ফেলো ড. এইচ এ হেলিয়ার মনে করেন, জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা হলে রাজনৈতিক হিসাব দ্রুত পাল্টে যেতে পারে। ইরান হুমকি দিয়েছে, তাদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে আরব অংশীদারদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। 

আরেকটি পরিস্থিতি যা আরব দেশগুলোর ধারণা বদলে দিতে পারে, তা হলো প্রক্সি যুদ্ধ। পিনফোল্ডের মতে, ‘যদি হুতিরা সরাসরি হামলা শুরু করে, তবে একটি নতুন রণাঙ্গন তৈরি হবে। তখন উপসাগরীয় দেশগুলো একে কেবল মার্কিন যুদ্ধ হিসেবে দেখবে না, নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে গণ্য করবে।’ 

ইরানের এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে আরব দেশগুলো শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে পূর্ণ সমর্থন দিতে বাধ্য হতে পারে। 

পিনফোল্ডের ভাষায়, ‘শুরুতে তারা যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোকেই অধিকতর যুক্তিযুক্ত মনে করতে পারে।’ সূত্র: বিবিসি

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েল জানিয়েছে, উভয় দেশের মধ্যে চলমান শত্রুতা আপাতত থেমে গেছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছিল।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কড়া সতর্কবার্তা দেন যে, তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালালে ইসরায়েল ওয়াশিংটনের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এরপরই ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার এ ধরনের ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ বা আল্টিমেটামের খবর নাকচ করেছেন। 

তিনি দাবি করেন, দুই নেতার মধ্যে হওয়া আলোচনাটি ছিল সহযোগিতামূলক। কিন্তু সাংবাদিকরা বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেইটার বলেন, তাদের বন্ধুত্ব প্রায় ৪০ বছরের। কখনো কখনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যেও মতবিরোধ হতে পারে। আলোচনার সময় কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হতেই পারে, কিন্তু সেটিই স্বাভাবিক বিষয়।

ইসরায়েলি এই কূটনীতিক আরও বলেন, ট্রাম্পের অনুরোধে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের তীব্রতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প ভালো করেই জানেন, ইসরায়েল নিজেদের ভূখণ্ডে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা সহ্য করবে না। অবশ্যই পাল্টা জবাব দেবে।

তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতা রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া অনেক গভীর।

নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের বিরক্তি

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্প ক্রমেই বিরক্ত হয়ে উঠছেন। এর আগে তিনি ইসরায়েল ও ইরান- উভয় দেশকেই হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, শান্তির লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে নিতে হবে এবং অজ্ঞতা বা বোকামি যেন শান্তির পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করছি।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রয়োজন অনুযায়ী যতদিন দরকার অভিযান চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিল। এছাড়া নতুন করে ইরানে নির্মিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের পর পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের কড়া বার্তা

অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারাও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আধাসরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে এক সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তেহরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালাতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আস্থার ঘাটতি ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি এবং বাস্তবে তার বারবার লঙ্ঘনের যে সমীকরণ ছিল, আমরা তা ভেঙে দিয়েছি। যতদিন আপনারা আস্থা তৈরির প্রকৃত ইচ্ছা দেখাতে ব্যর্থ হবেন, ইরানের প্রতিক্রিয়াও ঠিক তেমনই হবে। সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/

দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত
ছবি; সংগৃহীত

সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনার পর বিশ্বের প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ব্রাজিল সরকার।

সরকারি উদ্যোগে তৈরি এই ভ্যাকসিনটি গত বছরের নভেম্বরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনুমোদন পায় এবং চলতি বছরেই প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম এক ডোজের টিকা। 

সাধারণত ডেঙ্গু হলে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র‍্যাশ দেখা দেয়, যা কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক বা প্রাণঘাতী হতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে যে ৫ লাখ ১ হাজার ৪৪ জনকে এই টিকা দেওয়া হয়, এর মধ্যে ৩ হাজার ৭০৩ জনের শরীরে ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ৪২ জনের শরীরে তুলনামূলক তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

গুরুতর অসুস্থ তিনজনের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। এর মধ্যে একজন ৫৮ বছর বয়সী পুরুষ এবং একজন ৪৮ বছর বয়সী নারী। এছাড়া ৩৮ বছর বয়সী এক নারী আইসিইউতে ভর্তি হলেও পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে পাদিলহা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘টিকা দেওয়ার কারণেই এই তিনটি গুরুতর ঘটনা বা মৃত্যু ঘটেছে- এমনটি নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট তথ্য এখনও আমাদের কাছে নেই। তবে এটি আমাদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।’

তিনি জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকাদান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে ১৪টি রাজ্যে ১৬ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের ওপর যখন এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, তখন এ ধরনের কোনো অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এমনকি পরীক্ষার সময় এই ভ্যাকসিনটি ডেঙ্গুর মারাত্মক রূপ প্রতিরোধে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বর্তমানে বাজারে থাকা একমাত্র ডেঙ্গু ভ্যাকসিন (TAK-003) নিতে দুটি ডোজ প্রয়োজন হয় এবং একটি ডোজ থেকে পরবর্তী ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান রাখতে হয়। সেই তুলনায় এক ডোজের ভ্যাকসিন গণ-টিকাদান কর্মসূচিকে অনেক সহজ ও দ্রুত করতে পারে।

২০২৪ সালে ব্রাজিলে ডেঙ্গুতে রেকর্ড ছয় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যা সে বছর বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক। তবে গত বছর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণা করেছে, অভিবাসন জালিয়াতি বা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে ১৭ জন মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত মার্কিন ইতিহাসে নাগরিকত্ব বাতিলের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রশাসন তাদের নজিরবিহীন ‘নাগরিকত্ব বাতিল’ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করছে।

নাগরিকত্ব বাতিলের এ অভিযানে যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধসহ সহিংস বা গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অন্যরা প্রতারণা বা অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত।

দেশের বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে করা মামলায় বিচার বিভাগের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অন্যতম শর্ত হলো ‘সৎ নৈতিক চরিত্র’। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন করেছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী, যৌন অপরাধী ও প্রতারকদের মতো অপরাধী অভিবাসীরা তাদের অতীত অপরাধের তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। এখন থেকে এ ধরনের সব ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ শূন্য-সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।’

অন্যদিকে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা মুলিন বলেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিল ও অপরাধী বিদেশিদের অপসারণে আইনের আওতায় থাকা সব পথ ব্যবহার করবে। কারণ মার্কিন নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার, যা সততার সঙ্গে অর্জন করতে হয়। কেউ যদি এখানে এসে আইন ভঙ্গ করেন এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেন, তাহলে তিনি সেই অধিকার হারাবেন।’

উল্লেখ্য, মার্কিন আইনে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে জন্ম নেওয়া এমন নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রয়েছে। বৈধ ও অবৈধ- উভয় ধরনের অভিবাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের এ উদ্যোগ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে।

২০২৫ সালে বিচার বিভাগ এমন নাগরিকদের নতুন কয়েকটি শ্রেণি নির্ধারণ করে, যাদের বিরুদ্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মে মাসেও এক ডজনের বেশি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়, যা তখনকার সময়ে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ছিল। যদিও ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিচার বিভাগ গড়ে বছরে মাত্র ১১টি মামলা করেছিল, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল কোনো ব্যক্তির মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা। সূত্র: সিবিএস নিউজ

থিও/অমিয়/

হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। সোমবার (৮ জুন) দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনাটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের আক্রমণ, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে- তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি।

উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী একটি প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এই প্রণালীতে পশ্চিমা ও ইসরায়েলপন্থি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর অবরোধ তৈরি করায় মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী সেখানে নিয়মিত টহল দেয়। এই চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়, যা এই অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে
ছবি: আল জাজিরা

ইরান ও ইসরায়েল চালানো পারস্পরিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ হয়েছে, তবে দুটি দেশই হুমকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ইরান হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলেও সতর্ক করে দিয়েছে যে, লেবাননসহ অন্যান্য স্থানে ইসরায়েল যদি আরও আগ্রাসন চালায়, তবে পুনরায় হামলা শুরু হবে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা থেকে বিরত থাকবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল তেহরানে আঘাত হানার পর হামলা বন্ধ করেছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে। 

তিনি ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ভুল করে এবং আমাদের ওপর পুনরায় হামলা করে, তবে আমরা তার জবাব দেব।

এতে অঞ্চলটিতে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হতে পারে।

সোমবার বিকেলে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে অঞ্চলজুড়ে বিমানবন্দরগুলো পুনরায় খোলার অনুমতি দিয়েছে। তবে তেল আবিব এবং তেহরান জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা দ্রুত সামরিক পদক্ষেপে ফিরতে প্রস্তুত।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছি, কিন্তু লেবাননে আমাদের অভিযান পূর্ণ শক্তিতে চলবে।

ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আমাদের বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তা অনেক বেশি কঠোর হবে। সূত্র: আল জাজিরা

থিও/অমিয়/