মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে যাওয়া বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমানকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি ইতালি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সিসিলির সিগোনেলা ঘাঁটিতে অবতরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জরুরি আবেদন করা হলেও ইতালি সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সরাসরি ফ্রান্সের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ফ্রান্স তাদের আকাশসীমা দিয়ে সরবরাহবাহী বিমান চলাচলের অনুমতি না দিয়ে “খুবই অসহযোগিতা” করেছে।
ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, ইতালির ঘাঁটিগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনী শুধুমাত্র লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কোনো সরাসরি ‘কমব্যাট মিশন’ বা যুদ্ধ অভিযানের জন্য এই ঘাঁটি ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ইতালীয় সরকারের অনুমোদনের পাশাপাশি দেশটির পার্লামেন্টের সম্মতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানায়, “মার্কিন বিমানগুলো যখন অবতরণের অনুমতি চায়, তখন সেগুলো মাঝ-আকাশে উড়ছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে পার্লামেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করা সম্ভব ছিল না, তাই নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
ইতালির প্রভাবশালী দৈনিক ‘কুরিয়ারে ডেলা সেরা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় বেশ কয়েকটি মার্কিন বোমারু বিমান জড়িত ছিল।
এই ঘটনার পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতালির সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত এবং তা পূর্ণ সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করেই অটুট রয়েছে। তবে ইতালি আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নিজস্ব আইন মেনেই প্রতিটি আবেদনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে।
দেশটির বিরোধী দলীয় নেত্রী এলি শ্লেইন অভিযোগ করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ভূখণ্ডকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।”
উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কেবল ইতালিই নয়, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতায় সরাসরি সহযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
স্পেনের বামপন্থী সরকার ইতোমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়া মার্কিন বিমানগুলোর জন্য তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া, গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সও ইসরায়েল অভিমুখে মার্কিন অস্ত্রবাহী কোনো বিমানকে তাদের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর চাউর হয়েছে।
ইউরোপীয় মিত্রদের এমন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কৌশলে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মাহফুজ/