মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে স্পেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্পেনের পার্লামেন্টারি কমিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিটা রোবেলস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকা ও ইসরায়েল এককভাবে বিশ্বব্যবস্থা বা বৈশ্বিক নিয়মকানুন নির্ধারণ করতে পারে না।
রোবেলস বলেন, “অন্য কোনো দেশ বা মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যে বিশ্বে কী ধরনের শান্তি বা নিয়ম থাকবে। দুটি দেশ মিলে পুরো বিশ্বকে তাদের ব্যক্তিগত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে—এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।”
তিনি এই যুদ্ধকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্পেন তার আকাশসীমা এবং রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, ওয়াশিংটন কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা সময়সীমা উল্লেখ না করেই ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল, যা স্পেন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তার মতে, এই যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী—তা রাজনৈতিক নাকি অর্থনৈতিক নাকি অন্যকিছু—সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নয়। এর ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী এবং অননুমেয় হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তবে রোবেলস এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, স্পেনের এই অবস্থান ন্যাটোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বা ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং স্পেন এখনই তার ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে না।
উল্লেখ্য যে, গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের এই অবস্থানের কারণে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে গতকাল সোমবার স্পেনের অর্থনীতি মন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো জানিয়েছেন যে, যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে স্পেনের এই অনড় অবস্থান বর্তমানে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এক গভীর বিভাজনকে সামনে নিয়ে এসেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মাহফুজ/