ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত ১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে সিলেটে বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা ‘সমর্থকরা আর্জেন্টিনার এই দলকে নিয়ে পাগল’, ইতিহাস গড়ার পর মেসি সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার টমাস টুখেলের ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির হুমকি, ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’ ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় প্রকল্পের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ
Nagad desktop

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের রণকৌশল

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের রণকৌশল
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত সপ্তাহের প্রাইম টাইম ভাষণের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দিকে চলমান পরিস্থিতির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করা। কিন্তু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ববিরোধিতাও।

ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামোসহ দেশটির সামরিক সক্ষমতা বহুলাংশে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি এই যুদ্ধ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি আগামী সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

ফলে তার বার্তার প্রকৃত স্বরূপ অস্পষ্টই থেকে গেছে। ইরানের ওপর বিজয় ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু তা এখনো অর্জিত হয়নি। তার এই সতর্কবার্তার পর বাগাড়ম্বর আরও তীব্র হয়ে ওঠে যে ইরানে বোমা হামলা চালিয়ে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর একটি সুস্পষ্ট প্রভাব ইরানের অভ্যন্তরে পড়েছে। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এমনকি ইরানে থাকা ট্রাম্প সমর্থকরাও একে ভালো চোখে দেখছেন না।

অনেকেই মনে করছেন ইরানি শাসকগোষ্ঠীর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ানোর পরিবর্তে এটি অবরুদ্ধ থাকার অনুভূতিকে আরও দৃঢ় করেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও কমান্ডারকে হত্যা করার পর এই পরিবর্তন এসেছে।
এর ফলে ইরানে এমন এক নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে, যাকে ট্রাম্প ‘কম উগ্রপন্থি এবং অনেক বেশি বিচক্ষণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমর্থনে তেমন কোনো প্রমাণ নেই।

প্রকৃতপক্ষে তেহরানের ক্ষমতার কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কতটা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু দেশে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙন বা আদর্শগত পরিবর্তন ঘটেনি।

প্রেসিডেন্ট পদে বহাল আছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সংসদের নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। আব্বাস আরাগচি পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে চলেছেন।

হামলায় নিহত কমান্ডার ও বহু অফিসারের স্থলে একই আদর্শিক শিবিরের লোকদের আনা হয়েছে, যারা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও বেশি অনমনীয় হয়ে উঠেছেন। এটিকে ক্ষমতা পরিবর্তনের চেয়ে ক্ষমতার একত্রীকরণ বলেই বেশি মনে হচ্ছে। এই একত্রীকরণ কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এই যুদ্ধে ইরানের লক্ষ্য প্রচলিত অর্থে জয়লাভ করা নয় বরং টিকে থাকা।

লড়াইয়ে টিকে থাকা ‘বিকল্প নয়, বরং লক্ষ্য’
বছরের পর বছর ধরে তেহরান এই সহজ নীতিতেই কাজ করে আসছে যে শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকার মধ্যেই সাফল্য নিহিত।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বে ইরান বরাবরই বিশ্বাস করে এসেছে যে একজনের সঙ্গে যুদ্ধ হলে অন্যজনও তাতে জড়িয়ে পড়বে। ইরানের জন্য ‘স্থির থাকা’ কোনো বিকল্প নয় বরং এটিই তার প্রকৃত লক্ষ্য।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো এখনো কার্যকর, দেশটির সরকারি ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং বিরোধী শক্তিগুলো কিছুটা দুর্বল হলেও ভেঙে পড়েনি। এভাবে দেখলে ইরানের অবস্থান এখনো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথগুলোতে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে আধিপত্য বজায় রেখেছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ঠিক এই কারণেই বারবার হামলা সত্ত্বেও ইরান সবকিছু ব্যাহত করার বিপুল ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ইরানের এই সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পিছু হটলে এই আশঙ্কা রয়েছে যে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটিই সত্য প্রমাণিত হবে–‘অধ্যবসায়ের ফল মেলে।’ যদি সে লড়াই চালিয়ে যায়, তবে তাকে ক্রমবর্ধমান খরচের সম্মুখীন হতে হবে এবং চূড়ান্ত বিজয়ের কোনো সুস্পষ্ট পথ থাকবে না।

ট্রাম্পের ভাষণে উভয়সংকট প্রতিফলিত 
 
ট্রাম্পের ভাষণে উভয়সংকট প্রতিফলিত হয়েছে। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিজয় দাবি করে তিনি দুটি পরস্পরবিরোধী চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে নিজের শক্তি প্রদর্শন করতে পারার পাশাপাশি দীর্ঘ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া এড়ানো যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের ভাষণের ঠিক আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এক বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের ‘প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা’ রয়েছে, তবে তা কোনো ছাড় দেওয়া নয়, বরং পরিকল্পিত পদক্ষেপ।

গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ কি করা হচ্ছে? তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি ইসরায়েলের নির্দেশে কাজ করছে না? পেজেশকিয়ানের সরাসরি লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনগোষ্ঠী, যারা এই সংঘাত নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল। ইরান যাতে তার আলোচনার শর্ত পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর এটি একটি প্রচেষ্টা ছিল।

ইরানের শর্তাবলি

এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে ইরান তাদের দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় এই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই চরম বিপর্যস্ত ছিল।

যুদ্ধের পর ইরানের বর্তমান সরকার যদি ক্ষমতায় থাকে, তবে এই সংকটগুলোর সম্মুখীন হয়েই তাকে দেশটি পুনর্গঠন করতে হবে। কিন্তু এই শাসনের টিকে থাকার পরিণতি হবে আরও সুদূরপ্রসারী। বছরের পর বছর ধরে ইরানের নিজস্ব ‘প্রতিরক্ষা সক্ষমতা’ অর্থাৎ বড় ধরনের (যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি) হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি–ইরানের ওপর একটি নিয়ন্ত্রণ হিসেবে কাজ করেছে। সরাসরি সংঘর্ষের পরেও যদি সে অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পায়, তাহলে ভবিষ্যতের হুমকির প্রভাব হ্রাস পাবে। এই পরিবর্তনের প্রভাব আঞ্চলিক সমীকরণে ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। 

আরব দেশগুলোর সমস্যা

প্রাথমিকভাবে যুদ্ধের বিপক্ষে থাকা কিছু আরব দেশ এখন ট্রাম্পকে যুদ্ধ মাঝপথে পরিত্যাগ না করে এর শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে বলে জানা গেছে। অন্যথায় তাদের আরও আত্মবিশ্বাসী ইরানের মুখোমুখি হতে পারে। তাদের মতে, যুদ্ধ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল না আসাটা যুদ্ধের চেয়েও বেশি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুদ্ধের পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে তাদেরই বেশি ভোগান্তি পোহাতে হবে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত কঠিন উভয়সংকটে পড়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি যুদ্ধ থেকে সরে আসেন, তবে তা ইরানের ‘অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখার’ মডেলটিকে সঠিক প্রমাণ করার সুযোগ করে দেবে। আর যদি সে যুদ্ধে থেকে যায়, তবে সে এমন এক যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার কোনো স্পষ্ট শেষ দেখা যাচ্ছে না। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ‘নতুন ইরান’-এর আবির্ভাব ঘটেনি।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও যদি পরিস্থিতি একই থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘বিজয়ের দাবি’কে সেই বাস্তবতার সঙ্গে মেলাতে পারবে কি না, যেখানে তার সেই শত্রু, যাকে সে বদলাতে চেয়েছিল আসলে একই রয়ে গেছে।
 

ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৮ এএম
ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক নতুন এক আর্থিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি যিনি এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।

গত ১২ জুন মাস্কের মহাকাশযান প্রস্তুতকারক এবং মহাকাশ যাত্রা সেবা প্রদানকারী কোম্পানি স্পেসএক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয় প্রতি শেয়ার ১৫০ ডলারে, যা নির্ধারিত তালিকামূল্যের (১৩৫ ডলার) চেয়েও বেশি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে এ প্রক্রিয়ায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে স্পেসএক্স। এর ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

স্পেসএক্স ও টেসলায় থাকা নিজের শেয়ারের মূল্য মিলিয়ে বর্তমানে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

এই বিপুল সম্পদের পরিমাণ বোঝাতে বিশ্লেষকরা একটি উদাহরণ দিয়েছেন। যদি কেউ প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে, দিনে ২৪ ঘণ্টা ও বছরে ৩৬৫ দিন খরচ করেন, তাহলেও ১ ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে ১১৪ বছরের বেশি সময় লাগবে। অর্থাৎ মাস্কের সম্পদ এতটাই বিশাল যে তিনি এখন থেকে টানা ওই হারে অর্থ ব্যয় করলেও প্রায় ২১৪০ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে।

তবে এই সম্পদের বেশিরভাগই কাগুজে সম্পদ (পেপার ওয়েলথ)। অর্থাৎ এটি ব্যাংকে জমা থাকা নগদ অর্থ নয়, বরং টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়নের পরিবর্তনের সঙ্গে এ সম্পদের পরিমাণও ওঠানামা করতে পারে।

মাস্কের সম্পদের ব্যাপ্তি বোঝার আরেকটি উপায় হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির সঙ্গে এর তুলনা করা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পুরো অর্থনীতির চেয়েও বেশি সম্পদের মালিক এখন ইলন মাস্ক।

এদিকে ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদের পরিমাণ গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। এমনকি তার সম্পদ বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটের সম্পদের প্রায় সাত গুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় টাইমস স্কয়ারে হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় টাইমস স্কয়ারে হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ ‘জে’–এর উদ্বোধনী ম্যাচে বুধবার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া।

এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফুটবল ভক্তদের উৎসবমুখর জমায়েতটি হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিউ ইয়র্কের অন্যতম এই আইকনিক স্থানে জড়ো হওয়া সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই দেশের সমর্থকরা একে অপরকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছেন এবং অঙ্গভঙ্গি করছেন।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরু উদ্যাপন করতে টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া ও ফ্রান্সের হাজার হাজার সমর্থক সমবেত হয়েছিলেন। শুরুতে পরিবেশটি উৎসবমুখর ছিল; ভক্তরা পতাকা ওড়াচ্ছিলেন এবং জাতীয় সংগীত গাইছিলেন।

কিন্তু আর্জেন্টিনার একদল সমর্থকের সঙ্গে আলজেরীয় সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে যায়।

পুলিশ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয় যাতে নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে এই সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এসএন/

জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু: ইউনিসেফ

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু: ইউনিসেফ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি শিশু জলবায়ুজনিত অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে  রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের কিছু অঞ্চলে এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের এ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদনে বিশ্বের প্রায় ২৪০ কোটি শিশুর বসবাসের স্থানের সাথে মিল রয়েছে এমন আটটি জলবায়ুজনিত প্রভাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই আটটি প্রভাব হলো: উপকূলীয় বন্যা, নদীভিত্তিক বন্যা, খরা, ক্রান্তীয় ঝড়, তাপপ্রবাহ (অন্তত টানা তিন দিন উচ্চ তাপমাত্রা, তবে দেশভেদে ভিন্ন হয়), চরম তাপমাত্রা, দাবানল ও বালুঝড়।

প্রতিবেদনটিতে মূলত ১১০ কোটি শিশুর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যারা অন্তত তিনটি ঝুঁকির সম্মুখীন। এর মধ্যে অধিকাংশ স্থানে মিল পাওয়া যায় এমন তিন ঝুঁকি হলো- খরা, চরম তাপমাত্রা (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে) এবং তাপপ্রবাহ। এই তিনটির যৌথ প্রভাবে প্রায় ২৯ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে নাইজেরিয়ার ৭ কোটি ৪০ লাখ, পাকিস্তানের ৩ কোটি ৪০ লাখ এবং ভারতের ৩ কোটি ২০ লাখ শিশু।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ বছরে এই ‘তিনটি বা তার বেশি’ ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় সব শিশু অন্তত একটি ঝুঁকির মুখে। ২০০ কোটি শিশু অন্তত দুটি ঝুঁকির মুখে, যেখানে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু অন্তত চারটি ঝুঁকির সম্মুখীন। সাতটি বা এর বেশি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা ১ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার শিশুই রয়েছে মিয়ানমারে।

ইউনিসেফের প্রধান ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ক্ষেত্রে শিশুরাই সবার আগে রয়েছে।’

শিশুদের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কোথায়- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক টম স্লেমেকার বলেন, ‘এর সংক্ষিপ্ত কোনো  উত্তর নেই।’

স্লেমেকার বলেন, ‘তবে সব অঞ্চল সমান নয়। কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আমরা দেখতে পাই। এগুলো মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বেশি কেন্দ্রীভূত।’

বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের মতো যেসব দেশে শিশু জনসংখ্যা বেশি, সেসব দেশ অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুর সংখ্যার দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তবে শতকরা হারের হিসাবে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো, বিশেষ করে সাহেল অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক ক্ষেত্রে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সীমিত সক্ষমতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটি বর্তমানে মানবিক সংকটে রয়েছে। সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্যের প্রাপ্যতা সীমিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাদের ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু অন্তত তিনটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ৩৯টি দ্বীপরাষ্ট্র। এসব দেশের সামনে সীমিত মিঠাপানির উৎস, আমদানি নির্ভরতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের পর সহজে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ না থাকার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

স্টারবাকসের বিতর্কিত প্রচারণা, ইতিহাস পাঠে কর্মীদের জন্য অর্ধদিবস বন্ধ সব শাখা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
স্টারবাকসের বিতর্কিত প্রচারণা, ইতিহাস পাঠে কর্মীদের জন্য অর্ধদিবস বন্ধ সব শাখা
ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিল রেখে একটি প্রচারণা চালায় স্টারবাকস। এ কারণে স্টারবাকস সেখানে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী সপ্তাহে দেশজুড়ে স্টারবাকসের সব শাখা অর্ধেক বেলা (হাফডে) বন্ধ রাখা হবে। বন্ধের সময়ে কর্মীরা দেশের ইতিহাস এবং সামাজিক সংবেদনশীলতা বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

স্টারবাকস কোরিয়া একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপের প্রচারণা চালু করেছিল, যার নাম ছিল “ট্যাঙ্ক ডে”। তবে এই প্রচারণা ১৯৮০ সালের গুয়াংজু গণ-অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর সময় চালু হওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই অভ্যুত্থান দমনে সামরিক বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৬৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যদিও অনেকের মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় লাইসেন্স চুক্তির আওতায় স্টারবাকস পরিচালনাকারী শিনসেগে গ্রুপ এ ঘটনার পর দেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান চুং ইয়ং-জিনও কর্মীদের সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

আগামী বুধবার (১৭ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা থেকে তিন ঘণ্টার জন্য দেশজুড়ে স্টারবাকসের সব শাখা বন্ধ থাকবে। এরপর সেগুলো পরদিন পর্যন্ত আর খোলা হবে না। সোমবার (১৫ জুন) সব কর্মীকে ইতিহাস সচেতনতা ও সামাজিক সংবেদনশীলতা বিষয়ে ভিডিওভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

১৯৯৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাত্রা শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী একযোগে স্টারবাকস সব শাখা বন্ধ করছে  কোরিয়া।

বিতর্কিত প্রচারণাটি ছিল স্টারবাকসের “ট্যাঙ্ক সিরিজ” টাম্বলারকে কেন্দ্র করে। প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে জানায়, এটি ১৫ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলা বিভিন্ন পণ্যের প্রচারণার একটি অংশ মাত্র। পরে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।

গত মাসে বিতর্কের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে “অমানবিক ও লজ্জাজনক আচরণ” বলে আখ্যা দেন। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন স্টারবাকস শাখার সামনে বিক্ষোভ হয় এবং বয়কটের আহ্বানের ফলে বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে জানা যায়।

গওয়াংজু অভ্যুত্থান দমনের সময় শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, সেনাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে মারধর, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগও পরে তদন্তে প্রমাণিত হয়। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করে এবং ১৯৮৭ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে সামরিক শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমালোচকদের দাবি, প্রচারণায় ব্যবহৃত কিছু স্লোগানও ১৯৮৭ সালের গণতন্ত্র আন্দোলনের স্মৃতির সঙ্গে মিলে যায়। শিনসেগে গ্রুপ জানিয়েছে, বিপণন স্লোগান তৈরিতে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহার করা হয়েছিল।

সামরিক শাসক  ১৯৮৮ সালে ক্ষমতা ছাড়েন। পরে রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পান। ২০২১ সালে ৯০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে গওয়াংজুতে নারীদের ওপর সংঘটিত যৌন সহিংসতার ঘটনায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়। এছাড়া তার নাতি  নিহতদের স্বজনদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তার দাদাকে “পাপী ও হত্যাকারী” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।সূত্র: বিবিসি 

খাদিজা রুমি/ 

ভারতে ২২ জুন পর্যন্ত জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' ব্লক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
ভারতে ২২ জুন পর্যন্ত জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' ব্লক
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম। আগামী ২২ জুন পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল টেস্টিং অ্যাজেন্সি।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের আসন্ন মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET-UG 2026-এর পুনঃপরীক্ষা) কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের প্রতারিত করতে এবং ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়াতে একটি চক্র এই প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যবহার করছিল। এই 'চিটিং র‍্যাকেট' বা প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা বন্ধ করতে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মূল কারণ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ:পুনঃপরীক্ষা রক্ষা:

এর আগে গত মে মাসে হওয়া পরীক্ষাটি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল করা হয়েছিল। আগামী ২১ জুন সেই পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতেই ২২ জুন পর্যন্ত অ্যাপটি ব্লক রাখার নির্দেশ দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। 

ব্লক করার পাশাপাশি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের 'মেসেজ এডিটিং' (বার্তা সংশোধন) ফিচারটিও নিষ্ক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, অতীতে অনেকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পুরনো মেসেজ এডিট করে প্রশ্নপত্র বসিয়ে ভুয়া 'প্রশ্ন ফাঁসের' প্রমাণ সাজাতো, যা সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করত।

ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানিয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং একটি নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/