ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘আমরা সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি’, মোদিকে জর্জিয়া মেলোনি সিলেটে একদিনে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নাটোরে বলাৎকার মামলায় ২ জন কারাগারে ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম চাঁদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত ১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় ভাঙচুর সিলেটে বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা ‘সমর্থকরা আর্জেন্টিনার এই দলকে নিয়ে পাগল’, ইতিহাস গড়ার পর মেসি সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ইরানি কৌশলেই উপসাগর থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার টমাস টুখেলের ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির হুমকি, ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’ ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় প্রকল্পের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা
Nagad desktop

দ্রুতগতিতে দুর্বল হচ্ছে আটলান্টিকের স্রোত

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০২ এএম
দ্রুতগতিতে দুর্বল হচ্ছে আটলান্টিকের স্রোত
ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ স্রোতব্যবস্থা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। নতুন গবেষণা বলছে, এটি অবসান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের যে মডেলগুলো স্রোতের গতি ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, গবেষণায় সেগুলোই এখন আরও বেশি বাস্তবসম্মত বলে প্রমাণিত হচ্ছে। এই ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ এই স্রোত থমকে গেলে ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন (আমক) হলো পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী একটি প্রধান ব্যবস্থা। এটি বিশ্বজুড়ে উষ্ণ ও শীতল পানি প্রবাহিত করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। জলবায়ু সংকটের কারণে এটি এরই মধ্যে গত ১ হাজার ৬০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ২০২১ সালে বিজ্ঞানীরা এর বিপজ্জনক সীমায় পৌঁছানোর প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করেছিলেন। অতীতে পৃথিবীতে এই স্রোত ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ভবিষ্যতের জলবায়ু বুঝতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেন। কিন্তু এই জটিল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এসব মডেলের ফলাফল ভিন্ন ভিন্ন। কিছু মডেল বলছে, ২১০০ সালের মধ্যে এটি আর ধীর হবে না। আবার কিছু মডেল বলছে, এটি প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যেতে পারে। এমনকি জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে শূন্যে নামালেও এই ধীরগতি হতে পারে।

নতুন এই গবেষণায় বাস্তব সমুদ্র পর্যবেক্ষণের তথ্যের সঙ্গে মডেলগুলো মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এতে অনিশ্চয়তা অনেক কমে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে এই স্রোত ৪২ শতাংশ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। গতির এই হ্রাস পাওয়া মানেই হলো এই স্রোতব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এই আমক স্রোত উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের গরম পানি ইউরোপ ও সুমেরু অঞ্চলে নিয়ে যায়। সেখানে পানি ঠাণ্ডা হয়ে নিচে নেমে যায় এবং ফিরতি পথে গভীর স্রোত তৈরি করে। এই প্রক্রিয়া বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়লে উষ্ণমণ্ডলীয় বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আসবে, যার ওপর লাখ লাখ মানুষের খাদ্য উৎপাদন নির্ভরশীল। এর ফলে পশ্চিম ইউরোপে চরম শীত ও গ্রীষ্মকালীন খরা দেখা দেবে। পাশাপাশি আটলান্টিক উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার বেড়ে যেতে পারে।

ফ্রান্সের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনরিয়ার বিজ্ঞানী ডক্টর ভ্যালেন্টিন পোর্টম্যান এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, আমক আগের ধারণার তুলনায় বেশি দুর্বল হবে। এর মানে এটি এখন বিপজ্জনক সীমার আরও কাছাকাছি।’

জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক স্টেফান রাহমস্টর্ফ এই ফলাফলকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব মডেল এই স্রোতের ভয়াবহ দুর্বলতা দেখিয়েছিল, দুঃখজনকভাবে সেগুলোই এখন বাস্তব হিসেবে ধরা দিচ্ছে।’

গত ৩৫ বছর ধরে এই স্রোত নিয়ে গবেষণা করা রাহমস্টর্ফ আশঙ্কা করছেন, চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝিতেই আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যাব যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। তিনি বলেন, ‘আগে যখন এর পতনের ঝুঁকি ৫ শতাংশ ছিল, তখনই আমরা একে বিপজ্জনক বলেছিলাম। এখন এই ঝুঁকি ৫০ শতাংশের বেশি। গত ১ লাখ বছরে পৃথিবীতে যত বড় বড় জলবায়ু পরিবর্তন হয়েছে, তার মূলে ছিল এই আটলান্টিক স্রোতের পরিবর্তন।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আর্কটিক অঞ্চলে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে সমুদ্রের পানি আগের মতো দ্রুত ঠাণ্ডা হচ্ছে না। গরম পানি কম ঘন হওয়ায় এটি ধীরে নিচে নামে। এতে উপরিভাগে বেশি বৃষ্টির পানি জমা হয়, যা পানির ঘনত্ব আরও কমায়। ফলে নিচে নামার গতি আরও কমে গিয়ে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তৈরি হয়, যা আমককে আরও দুর্বল করে।

এই ব্যবস্থা খুবই জটিল ও প্রাকৃতিকভাবে নানা পরিবর্তনের শিকার। তাই সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। তবে বিজ্ঞানীরা এখন বড় ধরনের দুর্বলতা আসার সম্ভাবনা দেখছেন, যা আগামী কয়েক দশকে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বাস্তব তথ্য দিয়ে মডেল যাচাইয়ের চারটি পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘রিজ রিগ্রেশন’ পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো ফল দিয়েছে, যা আগে জলবায়ু গবেষণায় খুব কম ব্যবহার করা হয়েছে।

আমককে মডেল করা কঠিন, কারণ এটি আটলান্টিক জুড়ে পানির ঘনত্বের সূক্ষ্ম পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে। এই পার্থক্য তৈরি হয় মূলত লবণাক্ততার পরিবর্তনের কারণে। নতুন বিশ্লেষণে এমন মডেল শনাক্ত করা হয়েছে, যা দক্ষিণ আটলান্টিকের পৃষ্ঠের লবণাক্ততা ভালোভাবে তুলে ধরে। এ কারণে গবেষণাটি ‘খুবই বিশ্বাসযোগ্য’ বলে মত দেন রাহমস্টর্ফ।

তিনি আরও বলেন, ‘২১০০ সালে আমকের ধীরগতি নতুন এই হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ মডেলগুলো গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলার পানিকে হিসাবের মধ্যে নেয় না। এই পানি সমুদ্রের লবণাক্ততা কমিয়ে দেয়।’ তার মতে, বাস্তব পরিস্থিতি সম্ভবত আরও খারাপ হতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

‘আমরা সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি’, মোদিকে জর্জিয়া মেলোনি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
‘আমরা সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি’, মোদিকে জর্জিয়া মেলোনি
ছবি: এনডিটিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথন সবার নজর কেড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবির জন্য লাইনে দাঁড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মেলোনি একে অপরকে অভিবাদন জানাচ্ছেন ও করমর্দন করছেন।

ভিডিওর অডিও খুব একটা পরিষ্কার না হলেও, মনে হচ্ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের জনপ্রিয়তার বিষয়টি মেলোনির কাছে উল্লেখ করছিলেন।

এর জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি।’

এই ঘটনাটি ঘটেছে প্রধানমন্ত্রী মোদির রোম সফরের প্রায় এক মাস পর, যেখানে তিনি মেলোনিকে ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া ‘মেলোডি’ শব্দের সূত্র ধরে এক প্যাকেট পার্লে-এর ‘মেলোডি’ টফি উপহার দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ‘মিষ্টি’ উপহারের ভিডিওটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে মেলোনি লিখেছিলেন, ‘উপহারের জন্য ধন্যবাদ’।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং চকোলেটে ভরপুর এই ক্যান্ডির প্যাকেটটি হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মেলোনি দুজনেই হাসছেন এবং ইন্টারনেট ট্রেন্ডটি উপভোগ করছেন। ভিডিও ক্লিপটিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি উপহার হিসেবে খুব চমৎকার একটি টফি নিয়ে এসেছেন’। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

ইরানি কৌশলেই উপসাগর থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ইরানি কৌশলেই উপসাগর থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: রয়টার্স

ইরানের কৌশল ব্যবহার করেই এবার উপসাগর থেকে তেল বের করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্যাটেলাইট চিত্র ও আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত মে মাসের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালীর কাছে অত্যন্ত গোপনে মার্কিন তত্ত্বাবধানে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছে।

এই অপারেশনে এ পর্যন্ত অন্তত ৯২টি তেলবাহী জাহাজ অংশ নিয়েছে এবং প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমানের 'সোহার' বন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'ফুজিরাহ' উপকূলের কাছে এই গোপন তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

হামলা এড়াতে এবং নিজেদের আড়াল করতে মার্কিন ড্রোন ও হেলিকপ্টারের পাহারায় তেলবাহী ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের আগেই একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে জড়ো হয়। এরপর জাহাজের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে এবং বাতি নিভিয়ে রাতের অন্ধকারে একে একে প্রণালী পার হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই গোপন অপারেশনের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা সম্ভব হলেও অন্ধকার রাতে ট্র্যাকিং সিস্টেম ছাড়া জাহাজ চলাচলের কারণে পারস্য উপসাগরে বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে সম্প্রতি মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি ও হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমঝোতা চলায় এই গোপন অপারেশন শিগগিরই বন্ধ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৮ এএম
ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক নতুন এক আর্থিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি যিনি এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।

গত ১২ জুন মাস্কের মহাকাশযান প্রস্তুতকারক এবং মহাকাশ যাত্রা সেবা প্রদানকারী কোম্পানি স্পেসএক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয় প্রতি শেয়ার ১৫০ ডলারে, যা নির্ধারিত তালিকামূল্যের (১৩৫ ডলার) চেয়েও বেশি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে এ প্রক্রিয়ায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে স্পেসএক্স। এর ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

স্পেসএক্স ও টেসলায় থাকা নিজের শেয়ারের মূল্য মিলিয়ে বর্তমানে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

এই বিপুল সম্পদের পরিমাণ বোঝাতে বিশ্লেষকরা একটি উদাহরণ দিয়েছেন। যদি কেউ প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে, দিনে ২৪ ঘণ্টা ও বছরে ৩৬৫ দিন খরচ করেন, তাহলেও ১ ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে ১১৪ বছরের বেশি সময় লাগবে। অর্থাৎ মাস্কের সম্পদ এতটাই বিশাল যে তিনি এখন থেকে টানা ওই হারে অর্থ ব্যয় করলেও প্রায় ২১৪০ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে।

তবে এই সম্পদের বেশিরভাগই কাগুজে সম্পদ (পেপার ওয়েলথ)। অর্থাৎ এটি ব্যাংকে জমা থাকা নগদ অর্থ নয়, বরং টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়নের পরিবর্তনের সঙ্গে এ সম্পদের পরিমাণও ওঠানামা করতে পারে।

মাস্কের সম্পদের ব্যাপ্তি বোঝার আরেকটি উপায় হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির সঙ্গে এর তুলনা করা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পুরো অর্থনীতির চেয়েও বেশি সম্পদের মালিক এখন ইলন মাস্ক।

এদিকে ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদের পরিমাণ গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। এমনকি তার সম্পদ বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটের সম্পদের প্রায় সাত গুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় টাইমস স্কয়ারে হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় টাইমস স্কয়ারে হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ ‘জে’–এর উদ্বোধনী ম্যাচে বুধবার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া।

এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফুটবল ভক্তদের উৎসবমুখর জমায়েতটি হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিউ ইয়র্কের অন্যতম এই আইকনিক স্থানে জড়ো হওয়া সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই দেশের সমর্থকরা একে অপরকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছেন এবং অঙ্গভঙ্গি করছেন।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরু উদ্যাপন করতে টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া ও ফ্রান্সের হাজার হাজার সমর্থক সমবেত হয়েছিলেন। শুরুতে পরিবেশটি উৎসবমুখর ছিল; ভক্তরা পতাকা ওড়াচ্ছিলেন এবং জাতীয় সংগীত গাইছিলেন।

কিন্তু আর্জেন্টিনার একদল সমর্থকের সঙ্গে আলজেরীয় সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে যায়।

পুলিশ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয় যাতে নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে এই সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এসএন/

জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু: ইউনিসেফ

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু: ইউনিসেফ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি শিশু জলবায়ুজনিত অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে  রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের কিছু অঞ্চলে এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের এ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদনে বিশ্বের প্রায় ২৪০ কোটি শিশুর বসবাসের স্থানের সাথে মিল রয়েছে এমন আটটি জলবায়ুজনিত প্রভাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই আটটি প্রভাব হলো: উপকূলীয় বন্যা, নদীভিত্তিক বন্যা, খরা, ক্রান্তীয় ঝড়, তাপপ্রবাহ (অন্তত টানা তিন দিন উচ্চ তাপমাত্রা, তবে দেশভেদে ভিন্ন হয়), চরম তাপমাত্রা, দাবানল ও বালুঝড়।

প্রতিবেদনটিতে মূলত ১১০ কোটি শিশুর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যারা অন্তত তিনটি ঝুঁকির সম্মুখীন। এর মধ্যে অধিকাংশ স্থানে মিল পাওয়া যায় এমন তিন ঝুঁকি হলো- খরা, চরম তাপমাত্রা (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে) এবং তাপপ্রবাহ। এই তিনটির যৌথ প্রভাবে প্রায় ২৯ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে নাইজেরিয়ার ৭ কোটি ৪০ লাখ, পাকিস্তানের ৩ কোটি ৪০ লাখ এবং ভারতের ৩ কোটি ২০ লাখ শিশু।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ বছরে এই ‘তিনটি বা তার বেশি’ ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় সব শিশু অন্তত একটি ঝুঁকির মুখে। ২০০ কোটি শিশু অন্তত দুটি ঝুঁকির মুখে, যেখানে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু অন্তত চারটি ঝুঁকির সম্মুখীন। সাতটি বা এর বেশি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা ১ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার শিশুই রয়েছে মিয়ানমারে।

ইউনিসেফের প্রধান ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ক্ষেত্রে শিশুরাই সবার আগে রয়েছে।’

শিশুদের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কোথায়- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক টম স্লেমেকার বলেন, ‘এর সংক্ষিপ্ত কোনো  উত্তর নেই।’

স্লেমেকার বলেন, ‘তবে সব অঞ্চল সমান নয়। কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আমরা দেখতে পাই। এগুলো মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বেশি কেন্দ্রীভূত।’

বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের মতো যেসব দেশে শিশু জনসংখ্যা বেশি, সেসব দেশ অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুর সংখ্যার দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তবে শতকরা হারের হিসাবে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো, বিশেষ করে সাহেল অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক ক্ষেত্রে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সীমিত সক্ষমতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটি বর্তমানে মানবিক সংকটে রয়েছে। সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্যের প্রাপ্যতা সীমিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাদের ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু অন্তত তিনটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ৩৯টি দ্বীপরাষ্ট্র। এসব দেশের সামনে সীমিত মিঠাপানির উৎস, আমদানি নির্ভরতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের পর সহজে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ না থাকার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/