নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বড় ধাক্কা খেলেন হুমায়ুন কবীর। বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাঁতের অভিযোগে তার দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র ৫ প্রার্থী তৃণমূলে যোগ দিলেন। পশ্চিম বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের এই প্রার্থীরা এখন তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নেমেছেন। ভেস্তে গেল হুমায়ুনের সংখ্যালঘু ভোট কাটবার কৌশল।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক দুদিন আগে বড়সড় রাজনৈতিক ভাঙনের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। আগামী বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ। কয়েক ঘণ্টা পরেই শেষ হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারের সময়সীমা। তার ঠিক আগেই নাটকীয়ভাবে হুমায়ুন কবীরের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন ৫ জন প্রার্থী। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এই গণ-দলবদলের ফলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের ঠিক মুখে এটি হুমায়ুন কবীরের জন্য এক বিশাল বড় ধাক্কা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে দুর্গাপুরে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দলবদল সম্পন্ন হয়। পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী তথা জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা তুলে নেন রানিগঞ্জের প্রার্থী রাহুল ঘোষ, দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের রুবিনা বেগম, বারাবনির অদ্বৈত দাস এবং পাণ্ডবেশ্বরের জুবেদ শেখ। এর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম কেন্দ্রের প্রার্থী যাদব দাসও এদিন তৃণমূল শিবিরে যোগ দেন। উল্লেখ্য, পশ্চিম বর্ধমান জেলার ৮টি আসনের মধ্যে ৪ জন প্রার্থীই দল ছাড়ায় জেলা জুড়ে হুমায়ুনের দল কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল।
দলত্যাগী প্রার্থীরা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। সম্প্রতি একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক হাজার কোটি টাকার ‘ডিল’ (চুক্তি) করেছেন হুমায়ুন কবীর। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে দলের প্রার্থীদের মধ্যে তা তীব্র আস্থার সংকট তৈরি করেছে। রুবিনা বেগম ও রাহুল ঘোষদের অভিযোগ, বাবরি মসজিদ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে হুমায়ুন মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি পর্দার আড়ালে বিজেপির স্বার্থ রক্ষা করছেন।
তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে এক অভিনব আবেদন জানিয়েছেন। যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পেরিয়ে গেছে, তাই ব্যালটে তাদের নাম ও প্রতীক চিহ্ন থাকবে। এই পরিস্থিতিতে তারা লিফলেট বিলি করে মানুষকে বলছেন, “আমাদের ভোট দেবেন না। আম জনতা পার্টির ভোট মানেই বিজেপির হাত শক্ত করা। তাই প্রকৃত উন্নয়নের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীদের জয়ী করুন।” জুবেদ শেখ স্পষ্ট জানান, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হুমায়ুনের আঁতাঁতের খবর পাওয়ার পর তাদের আর ওই দলে থাকা সম্ভব ছিল না।
তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এই ঘটনাকে বিজেপির চক্রান্তের পরাজয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু ও মহিলা ভোট কাটতেই বিজেপি এই দলটিকে মাঠে নামিয়েছিল। কিন্তু কর্মীরা সত্য বুঝতে পেরে তৃণমূলের উন্নয়নকে বেছে নিয়েছেন। আম জনতা পার্টি সূত্রের খবর, এই ভিডিও বিতর্কের পর থেকে রাজ্য জুড়ে তাদের প্রায় ৭০ জন প্রার্থী দল ছেড়েছেন। ভোটের শেষ লগ্নে এই বিশাল রক্তক্ষরণ হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।
সূত্র: আনন্দবাজার, এই সময়