সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তার নাম জামিল লিমন। অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় তার এক রুমমেটকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ এক পিএইচডির শিক্ষার্থীকে শুক্রবার টাম্পা বে-র একটি সেতু থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, হিলসবরো কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক সংবাদ সম্মেলনে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে।
এদিকে একই ঘটনায় নিখোঁজ অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে উদ্ধারে অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান ডেপুটি জোসেফ মাউরেরের মতে, পারিবারিক সহিংসতার একটি ঘটনার খবরে লিমনের বাড়িতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ডাকা হলে, শুক্রবার সকালে তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শেরিফের কার্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২৬ বছর বয়সী ইউএসএফ-এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবুঘারবিহ এখন মারধর, অবৈধভাবে আটক, প্রমাণ বিকৃত করা, মৃত্যুর খবর জানাতে ব্যর্থতা এবং বেআইনিভাবে মরদেহ সরানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল শেষবারের মতো দুই শিক্ষার্থীকে পৃথক স্থানে দেখা যায়। ওইদিন সকালে ক্যাম্পাসের কাছাকাছি আবাসিক এলাকায় জামিল লিমনকে এবং পরে নাহিদা বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন।
জামিল লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। নাহিদা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীর অবস্থান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন
অমিয়/