ইউক্রেনের আকাশে রাতের পর রাত শত শত রুশ ড্রোনের হামলা ঠেকাতে সহায়তা করছে নতুন ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এগুলো মূলত বেসরকারি বিমান প্রতিরক্ষা কোম্পানির।
ইউক্রেন গত বছর একটি পাইলট কর্মসূচি চালু করে, যার মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব এয়ার ডিফেন্স ইউনিট গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ২০টি কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এই কোম্পানিগুলোর একটি কারমাইন স্কাই, জানিয়েছে, তারা গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে, যার মধ্যে রয়েছে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং এম২ ব্রাউনিং হেভি মেশিনগানযুক্ত স্বয়ংক্রিয় টারেট।
রাশিয়া প্রতি মাসে হাজার হাজার স্বল্পমূল্যের, দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। যদিও বেশির ভাগ ড্রোন প্রতিহত করা হয়, তার পরও যেগুলো লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়, সেগুলো সামরিক স্থাপনা, কারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ক্ষতি করছে। গত শীতে এসব হামলার কারণে লাখো মানুষ তাপ ও বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হয়।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুসলান জানান, কারমাইন স্কাইয়ের একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে কর্মীরা রুশ ড্রোন শনাক্ত করে। অপারেটররা আরামদায়ক চেয়ারে বসে গেমপ্যাড দিয়ে লক্ষ্য খোঁজেন। ঘরটি ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন, দেয়াল ঢাকা ছিল ক্যামোফ্লাজ নেটে।
তিনি বলেন, কোম্পানিটি খারকিভ অঞ্চলসহ আরও কয়েকটি এলাকায় কাজ করছে। তবে নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। রুসলান জানান, ‘আমরা শুধু রাষ্ট্রের প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সহায়তা করছি। রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলগত, আর আমরা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করি।’
এই কোম্পানিগুলোকে কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয় এবং তারা ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে। লক্ষ্য নির্ধারণ ও গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সামরিক কর্তৃপক্ষই নেয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ গত মাসে প্রাথমিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, খারকিভ অঞ্চলে একটি বেসরকারি কোম্পানি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ১৭ এপ্রিল তিনি আরও জানান, একটি বেসরকারি ইউনিট জেটচালিত শাহেদ ড্রোনও ভূপাতিত করেছে।
এই খাতে কাজ করতে আগ্রহীদের কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যার মধ্যে পলিগ্রাফ টেস্টও রয়েছে এবং তা প্রতি তিন মাসে পুনরায় করা হয়।
আরেকটি কোম্পানি গভার্ডিয়ার প্রশিক্ষণ দায়িত্বে থাকা রোমান করঝ জানান, নতুন একজন ড্রোন ইন্টারসেপ্টর পাইলটকে শূন্য থেকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রায় তিন সপ্তাহ লাগে। যারা পাইলট হতে পারেন না, তারা স্পটার বা টেকনিশিয়ান হিসেবে দলে যুক্ত হন।
গভারডিয়া মূলত অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবী বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট থেকে সদস্য নেয়, যাদের অনেকেরই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে। করঝ বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবী ইউনিটগুলোই আমাদের মূল শক্তি।’ ডিউটির সময়সূচিও নমনীয় রাখা হয়েছে, যাতে সদস্যরা প্রয়োজনে তাদের বেসামরিক কাজের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সূত্র: রয়টার্স