যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি ও ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় নিয়ে তুমুল বিতর্কের জেরে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সাক্ষাৎকার মাঝপথেই বর্জন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। উইসকনসিনে গত শুক্রবার নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি গত রবিবার প্রচারিত হয়।
এনবিসির অভিজ্ঞ সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট আকস্মিকভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক প্রাইমারি ভোটের গণনা নিয়ে পুনরায় কারচুপির অভিযোগ তোলেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ দিন পরও ভোট গণনা শেষ না হওয়াকে তিনি ‘নির্বাচনে প্রতারণা হচ্ছে’ বলে দাবি করেন।
জবাবে ওয়েলকার বলেন, ‘এটি ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাভাবিক নির্বাচনি প্রক্রিয়া।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ওই রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ভালো করতে পারছেন না। যদিও বর্তমান জনমত জরিপ অনুযায়ী, নভেম্বরের মূল নির্বাচনে উত্তীর্ণ ডেমোক্র্যাট ফ্রন্টরানার জাভিয়ের বেসেরা ও রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ স্টিভ হিলটনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্বাভাস রয়েছে।
ওয়েলকারকে ‘প্রতারক’ ও ‘বোকা’ আখ্যা
গভর্নর নির্বাচনে জালিয়াতির পক্ষে ওয়েলকার যখন প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো প্রমাণ জানতে চান, তখন ট্রাম্প উল্টো এই বর্ষীয়ান সাংবাদিককে ‘প্রতারক’ বলে অভিযুক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা প্রতারক, ঠিক যেমন আপনি প্রতারক, আপনার সংবাদমাধ্যম প্রতারক। এবং মিট দ্য প্রেসও প্রতারক।’
ওয়েলকার তখন নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করেন এবং আরও প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি হয় প্রতারক, না হয় বোকা। এসব ফালতু জিনিস নিয়ে আপনি সরাসরি তাদের সুবিধা করে দিচ্ছেন। আপনি ভালো করেই জানেন যে এই নির্বাচনগুলোতে কারচুপি হয়েছে। আপনার নেটওয়ার্কও জানে যে সেগুলোতে কারচুপি হয়েছে।’
এরপর ট্রাম্প অতীতে বারবার বলা সেই মিথ্যা দাবিটি আবারও তোলেন, ‘২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনিই জয়ী হয়েছিলেন।’
ওয়েলকার পরে আরও প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে ট্রাম্প এনবিসিকে ‘প্রতারক’ বলা বজায় রাখেন ও সাক্ষাৎকারটি শেষ করে দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন এখানেই ইতি টানি, কারণ আমার যথেষ্ট হয়েছে।’ এই বলে তিনি নিজের মাইক্রোফোন খুলে ফেলেন এবং বলেন, ‘ধন্যবাদ, ডার্লিং। ভালো সময় কাটুক।’
ওয়েলকার যখন ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন যে তিনি এই সাক্ষাৎকারের জন্য উইসকনসিনে এসেছেন, তখন ট্রাম্প উত্তর দেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে এক ঘণ্টা ধরে বৃষ্টিতে বসে আছি। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছিল ও আমি আপনাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি। আপনার উচিত নিজের সংবাদমাধ্যমকে সংশোধন করা।’
৬ জানুয়ারির দাঙ্গাকারীদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গ
সাক্ষাৎকারের শুরুর দিকেও ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। ওয়েলকার তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অপরাধ স্বীকার করা ব্যক্তিরা ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-উইপোনাইজেশন’ তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন কি না।
কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন, দাঙ্গাকারীদের আসলে এফবিআই অ্যাজেন্টরাই মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ভয়েই তারা অপরাধ স্বীকারের চুক্তি (প্লে ডিল) করেছিল।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি জানেন কেন তারা দোষ স্বীকার করেছে? কারণ তাদের বলা হয়েছিল তারা ১৫ বছরের জন্য জেলে যাচ্ছে... কারণ তারা ভয় পেয়েছিল। তারা ভেঙে পড়েছিল। তাদের একটি ভবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’
তবে এ ধরনের ব্যক্তিরা করদাতাদের অর্থ সহায়তা পাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো জবাব দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
ট্রাম্পের এভাবে সাক্ষাৎকার ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে এনবিসি নিউজের এক প্রতিনিধির কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি গার্ডিয়ানের অনুরোধে কোনো সাড়া দেননি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান