ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপ জয়ে যে দলকে এগিয়ে রাখলেন ইব্রাহিমোভিচ দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা বিশ্ব বাবা দিবস আজ ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে? লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

মুহাম্মদ আল-বাকরি তার ধর্ষণের তারিখটি স্পষ্টভাবে মনে রেখেছেন। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল। পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরের ছুটি চলছিল। গাজার সরকারি এই কর্মচারীকে এর এক মাস আগে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি সেনারা। তাকে মারধর, নির্যাতন, বেঁধে রাখা এবং অপমানজনক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল।

সেদিন তার চারপাশে ঘিরে ছিল ইসরায়েলি সেনারা এবং তাদের প্রশিক্ষিত কুকুর। তিনি বলেন, ‘ডান পাশে ছয়জন সৈন্য, বাম পাশে ছয়জন সৈন্য ছিল। তারা নাম জিজ্ঞেস করত। যদি বলতাম ‘মুহাম্মদ’, তারা বলত, ‘না, বল তোমার নাম হারামজাদা।’

আল-বাকরি জানান, তার সঙ্গে আরও সাতজন বন্দি ছিলেন। সবাইকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাদের পোশাক খুলে নেওয়ার পর ধর্ষণ করা হয়। আমরা চিৎকার করে বলছিলাম, ‘হে আল্লাহ, হে সৃষ্টিকর্তা’, কিন্তু তারা শুধু হাসছিল এবং ভিডিও ধারণ করছিল।”

আল-বাকরি আরও বলেন, কারারক্ষীরা যৌন নির্যাতনের সময় কুকুরও ব্যবহার করত। তিনি বলেন, ‘কুকুরগুলো কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে আমাদের ওপর হামলা করে। কোনো দয়া ছিল না। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট আমরা এই যৌন নির্যাতন ও মারধরের শিকার হয়েছিলাম। পরে তারা আমাদের কাপড় পরতে বলে আবার কারাগারে নিয়ে যায়।’

আল-বাকরি সেই সব বন্দির মধ্যে একজন, যারা ‘বডিজ অব এভিডেন্স: ইসরায়েলস ডার্কেস্ট ওয়েপন’ অনুষ্ঠানের জন্য আল-জাজিরাকে বিস্তারিত সাক্ষ্য দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকরা, জাতিসংঘ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানেজে বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ব্যবহার ব্যাপক এবং সুসংগঠিত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন প্যালেসটাইনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (পিসিএইচআপর) এবং ইউরো-মেড মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থাও এমন বহু সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেছে, যেখানে বন্দিরা ইসরায়েলি সেনাদের কুকুর দিয়ে যৌন নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়; এর ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। আল-জাজিরার অনুসন্ধান এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ধর্ষণকে উল্লেখযোগ্যভাবে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ইসরায়েল। 

২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল পদ্ধতিগতভাবে যৌন, প্রজননসংক্রান্ত এবং অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ব করেছে।

মে মাসে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের ‘সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার কালো তালিকা’য় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বিৎসেলেম এবং ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র—সবাই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যৌন সহিংসতার বিস্তৃত সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বন্দিদের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বেশি।

এদের অনেককে ইসরায়েলের প্রশাসনিক আটকব্যবস্থার আওতায় কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কোনো ইসরায়েলি সৈন্য বা কারারক্ষীকে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নেগেভ মরুভূমির স্দে তেইমান আটক শিবিরে এক বন্দিকে ধর্ষণের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর ইসরায়েল ১০ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আটক করেছিল। কিন্তু ডানপন্থি বিক্ষোভকারীরা, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্যও ছিলেন, অভিযুক্তদের মুক্ত করার জন্য আটক কেন্দ্রটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে।

গত জুলাইয়ে ইসরায়েল ওই রক্ষীদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়। ভিডিওটি ফাঁস করার অভিযোগে নারী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমিকেও পরে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সৈন্যদের ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ করাকে দেশের প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘সবচেয়ে গুরুতর জনসংযোগ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেন।

জাতিসংঘের রিপোর্টার ফ্রানচেস্কা আলবানেজ বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্য শুধু শারীরিক কষ্ট দেওয়া নয়, বরং তাদের ব্যক্তিসত্তা ও আত্মমর্যাদাবোধকে ধ্বংস করা।

তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের মধ্যে, বিশেষ করে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন মানুষের মানসিক জগৎকে ধ্বংস করে দেয়। এতে একজন মানুষের নিজের জীবন পুনর্গঠন করা এবং স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

গণহত্যা ও ধর্ষণের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকা
মজুর হিসেবে কাজ করা আইয়ুব (ছদ্মনাম) আল-জাজিরা বলেন, কখনো ভাবেননি যে তার জীবন অন্যদের কাছে বিশেষ কিছু। আল-বাকরির মতো তিনিও ছিলেন গাজার এক সাধারণ মধ্যবয়সী পারিবারিক মানুষ। নিজের চেয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর পরিবারের নিরাপত্তাই ছিল তার প্রধান চিন্তা।

কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের জীবন বদলে যায়। আল-বাকরির মতো আইয়ুবও স্পষ্টভাবে নিজের ধর্ষণের স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘নারী সৈন্যরা আমার কক্ষে প্রবেশ করে আমার দুই হাত পেছনে নিয়ে লোহার হাতকড়া পরাল। তারপর পায়ের হাতকড়া খুলে অন্য হাতকড়া পরাল। এরপর আমার সব কাপড় খুলে নেয়। সৈন্যরা তার ঘাড় ও পিঠের ওপর বুট চেপে ধরে রেখেছিল। এরপর নারী সৈন্যরা বিভিন্ন কৃত্রিম বস্তু ব্যবহার করে তাকে ধর্ষণ করে। চারপাশে থাকা সৈন্যরা হাততালি দিচ্ছিল এবং ভিডিও ধারণ করছিল।

প্রতিশোধের উন্মত্ততা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার ঘটনা ইসরায়েলি সমাজকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। আইয়ুব বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তাকে চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল, মারধর করা হয়েছিল এবং পদদলিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাকে ৭ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

মানবিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়া
পর্যবেক্ষকদের মতে, যেসব ইসরায়েলি সৈন্যের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই এমন একটি সামাজিক পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের সমমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি দুর্বল।

দায়মুক্তির সংস্কৃতি
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের একটি সুস্পষ্ট ধারা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে কার্যকর আইনি শাস্তি কিংবা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়নি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জাতিসংঘ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করতে চাইলে ইসরায়েল তাতে বাধা দেয়। জাতিসংঘের মতে, জোরপূর্বক নগ্ন করা, ধর্ষণের হুমকি দেওয়া এবং যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে হামলা চালানো- এসব কর্মকাণ্ড ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে প্রায় নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে গত বুধবার নৈশভোজে বসার ঠিক আগমুহূর্তে এক নাটকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার স্বাগতিক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও নিজের উপদেষ্টাদের চমকে দিয়ে একটি আকস্মিক দাবি তোলেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি তিনি এখনই এবং এই স্থানেই সই করতে চান।

প্রাসাদে আসার পথেই ট্রাম্পের শীর্ষ কূটনীতিক খবর পেয়েছিলেন যে চুক্তির নথিটি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এই চুক্তি সইয়ের জন্য দুই দিন পর সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের একটি পাহাড় চূড়ার রিসোর্টে জমকালো অনুষ্ঠানের কথা ছিল। আমেরিকার প্রধান আলোচক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর করতে অনড় ছিলেন। ম্যাখোঁ তখন দ্রুত এর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

ভার্সাইয়ের হল অব মিররসে দুই প্রেসিডেন্ট যখন হাঁটছিলেন, তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে চুক্তির খসড়া প্রিন্ট করার জন্য একটি প্রিন্টার খুঁজছিলেন। পরবর্তী সময়ে গত শুক্রবারের সেই লুসার্ন অনুষ্ঠানটি আর আলোর মুখ দেখেনি। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে ইরান আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে জেডি ভ্যান্স তার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে সই হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই চুক্তি এখন বেশ ভঙ্গুর অবস্থায় পড়েছে।

সমালোচনার মুখে ট্রাম্প
এই চুক্তির পরবর্তী ধাপ শুরু করতে ট্রাম্প ও ভ্যান্স মরিয়া হয়ে রয়েছেন। এই ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি নেওয়া হবে। তবে এই চুক্তির কারণে ট্রাম্প নিজের সমর্থকদের কাছ থেকেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকেই একে ইরানের কাছে মার্কিন আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন।

সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার গত বৃহস্পতিবার বলেন, এই চুক্তির ছয় নম্বর অনুচ্ছেদে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও অনেক বড় অঙ্কের অর্থ।

সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে বৈঠক করিনি, ইরান করেছে। ওরা শেষ! আমরা ৬০ দিনের প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যাব। তারা কোনো টাকা পাচ্ছে না, ১০ সেন্টও না!’

যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে ভয়
কয়েক মাসের যুদ্ধ শেষে এই ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক ট্রাম্পের জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। উপদেষ্টারা সতর্ক করেছিলেন যে, বিশ্বের তেলের মজুত কমছে। এ ছাড়া সামনে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, অর্থনৈতিক কারণেই তিনি এই চুক্তিতে সই করেছেন। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের মতো হতে চাননি, যার আমলে গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দা শুরু হয়েছিল।

গ্রুপ অব সেভেন (জি-৭) সম্মেলন শেষে বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।’

সেই রাতেই রাত ১১টার পর ভার্সাইয়ের লোয়ার গ্যালারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প শার্পি কলম দিয়ে চুক্তিতে সই করেন। টেবিলের চারপাশে তখন গ্লাস ও প্লেটের আওয়াজ হচ্ছিল। ট্রাম্প তার ডিনার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি, এটি মোটেও সহজ ছিল না।’

ম্যাখোঁ তখন ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘ব্রাভো’। এরপর সেই নথির একটি ছবি তুলে ইরানে পাঠানো হয়।

নাটকীয়তায় ভরা এক প্রক্রিয়া
এই চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ বিশৃঙ্খল এবং নাটকীয়তায় ভরা। ট্রাম্প নিজেই অনেক সময় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। কখনো তিনি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন, আবার কখনো ইরানকে লাল রেখা পার না করার জন্য হামলার হুমকি দিয়েছেন।

চুক্তি সইয়ের পরও এর মূল পাঠ কয়েক দিন গোপন রাখা হয়েছিল। ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেছিলেন যে, ইরানিরা তাদের অভ্যন্তরীণ কারণে কিছুটা সময় চায়। পরবর্তী সময়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছে এটি পড়ে শোনান। কর্মকর্তারা জানান, মূল নথির বাইরেও কিছু ‘ভদ্রলোকের চুক্তি’ বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে, যা তাদের আস্থা জুগিয়েছে। 

জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা স্মারক, ভদ্রলোকের চুক্তি কিংবা চূড়ান্ত চুক্তি—লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান, মুখের কথার কোনো মূল্য নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো যাচাইকরণ।

যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার ব্যাকুলতা
হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টারা আগে ভেবেছিলেন গ্রীষ্মের বড় ইভেন্ট যেমন—বিশ্বকাপ, ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউজের সাউথ লনে ইউএফসি ফাইট ও আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিনের আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের বিমান হামলার সিদ্ধান্ত তার প্রেসিডেন্সির ওপর বড় ছায়া ফেলেছিল।

হোয়াইট হাউজের রাজনৈতিক দল, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট সবাই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। জুনের শুরুতে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের রূপরেখা নিয়ে একটি সাধারণ চুক্তির সিদ্ধান্ত নেন।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা দল প্রতিদিন বৈঠকে বসত। সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দিহান ছিলেন। রুবিও, ভ্যান্স, উইটকফ ও কুশনারের মনেও সন্দেহ ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের তাড়াহুড়োর কারণে সবাই একমত হন। একজন কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা এই বিষয়টির অবসান ঘটাতে চাই।’

ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা ও ইরানের শর্ত

ইরানের সঙ্গে আলোচনা ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছ থেকে বার্তা পেতে দীর্ঘ সময় লাগত। কারণ তিনি নিজের অবস্থান লুকাতে বার্তাবাহক ব্যবহার করতেন।

এরই মধ্যে ৮ জুন একটি মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের সঙ্গে ইরানি ড্রোনের সংঘর্ষ হয়। ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা হামলার নির্দেশ দেন। পরে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা জানান, ইরান আলোচনা করতে আগ্রহী। ট্রাম্প হামলা বন্ধ করেন।

এরপর ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে (১৪ জুন) বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় আবারও সংকট তৈরি হয়। ট্রাম্প একে নেতানিয়াহুর চুক্তি ভণ্ডুল করার চেষ্টা হিসেবে দেখেন ও ফোনে নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় গালমন্দ করেন। কাতারিদের ১৭ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর ইরান ইসরায়েলের দিকে তাক করা ব্যালেস্টিক মিসাইল সরিয়ে নেয়।

তবে ইরান একটি শর্তে অনড় ছিল। তারা ট্রাম্পের জন্মদিনের দিন এই চুক্তির ঘোষণা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে মধ্যস্থতাকারীরা একটি অভিনব উপায় বের করেন। তেহরান সময় রাত ১২টার পর এই চুক্তি ঘোষণা করা হয়, যখন ওয়াশিংটনে ট্রাম্প তার জন্মদিনের কেজ ফাইটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সূত্র: সিএনএন

লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে চালানো প্রাণঘাতী হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড বলেছে, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা লঙ্ঘনের শামিল।

শনিবার (২০ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে এটি আমাদের প্রথম পদক্ষেপ। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তাদের বাধ্যবাধকতা পালনে বাধ্য করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।

তবে ইরানের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনে তাৎক্ষণিক কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসএন/

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও থামেনি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও থামেনি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে তারা এসব অভিযান চালিয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অবাধ চলাচল’ মেনে নেবে না।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবানন এবং বেকা অঞ্চলে একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলা হয়, যা হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনা কবে শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে সংঘাত অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

বিবিসি/এসএন

সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যেতেই পারে। কিন্তু শুধুমাত্র সম্পর্ক ভেঙে গেছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেই তাকে ধর্ষণ বলা যায় না। সম্প্রতি এক ধর্ষণ মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে চলা ওই মামলার বিচারপ্রক্রিয়াও বাতিল করে দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি বিবেককুমার সিং তার ৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগকারিণী যদি প্রতিবারই নিজের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যায় না। 

আদালতের মতে, মামলার নথি ও প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

আদালত আরও জানায়, শুধুমাত্র বিয়ে হয়নি বলেই ধর্ষণের অভিযোগ করা হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। 

এই পরিস্থিতিতে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার এবং সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করে আদালত।

কী ছিল মামলার ঘটনা?

২০১৯ সালে এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে গেলে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় তাকে থাকার জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। সেই সূত্রে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তরুণীর দাবি ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু যখনই তিনি বিয়ের কথা তুলতেন, তখন তাকে মারধর করা হতো। পাশাপাশি, একসঙ্গে থাকার সময় তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেলও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০২০ সালে পুলিশ চার্জশিট জমা দেয় এবং ২০২১ সালে নিম্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে অভিযুক্ত ওই মামলা খারিজের আবেদন নিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

শুনানির সময় তরুণী আদালতকে জানান, ধর্ষণের অভিযোগ করার পর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের একটি ‘প্রতীকী বিয়ে’ও হয়েছিল। এই তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত মন্তব্য করে, অভিযুক্তকে বিয়েতে রাজি করানোর উদ্দেশ্যেই ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষায় তরুণীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে মারধরের অভিযোগেরও প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি বলে আদালত উল্লেখ করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনাকে তখনই ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যখন প্রমাণিত হবে যে অভিযুক্ত শুরু থেকেই বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা রাখতেন না এবং শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বর্তমান মামলায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালত জানিয়েছে। বরং পাঁচ বছর ধরে চলা সম্পর্কের ভিত্তিতে আদালতের মত, এটি ছিল দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, যা পরে ভেঙে যায়।

ফলে আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে না হওয়া বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণ হিসেবে দেখা যাবে না। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি, প্রমাণ এবং অভিযুক্তের উদ্দেশ্য বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সূত্র: এইসময়

অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লুর এইচ৫ স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসটি এখন বিশ্বের সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। 

কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি অভিবাসী সামুদ্রিক পাখি—ব্রাউন স্কুয়ার মধ্যে রোগটি পাওয়া গেছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনাতেও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাসটি হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম।

কলিন্স বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, যদিও এটি হতাশাজনক। বর্তমানে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এ ঘটনাটি উদ্বেগজনক এবং আমার সরকার রোগটির বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/