ঢাকা ২ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
একনেক সভায় পাঁচ প্রকল্প অনুমোদন জামালপুর সীমান্ত দিয়ে একজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধা বিশ্বকাপে নেইমারের খেলা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ‘হালান্ডের পায়ে বল বাড়িয়ে দাও’, শিষ্যদের নির্দেশ নরওয়ে কোচের ভোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় ঘেরাও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ম্যাচ শেষেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ, ক্ষোভ প্রকাশ ইরান কোচের স্পেনকে আটকে দেওয়া ভোজিনহার গল্প প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কৃতির প্রথম সিনেমা সৌদির চমকে পয়েন্ট হারাল উরুগুয়ে তবু আস্থায় অটল লা ফুয়েন্তে চাঁদপুরে ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা সেই ধাক্কা মনে রেখে আলজেরিয়াকে সমীহ করছে আর্জেন্টিনা শিক্ষার ৪ স্তম্ভে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর স্টারবাকসের বিতর্কিত প্রচারণা, ইতিহাস পাঠে কর্মীদের জন্য অর্ধদিবস বন্ধ সব শাখা শরীয়তপুরে বাল্যবিবাহ সম্পাদনের অভিযোগে কারাগারে কাজী অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন ভারতে ২২ জুন পর্যন্ত জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' ব্লক রোকনপুর সীমান্তে পুশইনে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি আটক হামের প্রাতিষ্ঠানিক গাইডলাইন আনল হলি ফ্যামিলি নিয়োগ দেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক সব রেকর্ড ভেঙে দিল ‘মাইকেল’ চাঁদপুুরে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান, আটক ২৭ আজকের মুদ্রা বাজার: ১৬ জুন ২০২৬ বাহুবলে কবরস্থানের রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অর্ধশতাধিক ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নেই সুনামির আশঙ্কা বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ মার্কিন-ইরান চুক্তির সমঝোতা হয়নি, জি- ৭ নেতাদের মধ্যে বাড়ছে প্রশ্ন মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রের সংকটের কথা অস্বীকার করলেন হেগসেথ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের রোমাঞ্চকর ড্র
Nagad desktop

নতুন সৌরজগতের জন্ম দেখলেন বিজ্ঞানীরা

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৩:২১ পিএম
নতুন সৌরজগতের জন্ম দেখলেন বিজ্ঞানীরা
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো একটি নতুন সৌরজগতের জন্ম হতে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তাঁরা এমন এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন, যেখানে একটি নবীন নক্ষত্রের চারপাশে গ্রহ তৈরির একেবারে প্রাথমিক উপাদানগুলো জমাট বাঁধতে শুরু করেছে।

কোনো সৌরজগতের গঠনের এত প্রাথমিক পর্যায় আগে কখনো দেখা যায়নি। যুগান্তকারী এই আবিষ্কার আমাদের নিজস্ব সৌরজগতসহ অন্যান্য সৌরজগত কীভাবে তৈরি হয়েছে, সে সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেরেল ভ্যান টি হফ এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি যেন সদ্যজাত সৌরজগতের একটি ছবি। আমরা এমন একটি সিস্টেম দেখছি, যা দেখতে অনেকটা আমাদের সৌরজগতের শুরুর সময়ের মতো।

নতুনভাবে জন্ম নিচ্ছে এই সৌরজগতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘এইচওপিএস-৩১৫’ নামের একটি নবীন নক্ষত্র, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি দেখতে অনেকটা আমাদের সূর্যের শৈশব পর্যায়ের মতো।

এ ধরনের নবীন নক্ষত্রের চারপাশে সাধারণত গ্যাস ও ধূলিকণায় গঠিত একটি বৃত্তাকার স্তর থাকে, যাকে ‘প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক’ বলা হয়। এই ধূলিকণা ও গ্যাসই ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে গ্রহের জন্ম দেয়। এত দিন বিজ্ঞানীরা এই ডিস্কে গঠিত বৃহৎ গ্রহ দেখতে পেয়েছেন। তবে এবার তাঁরা প্রথমবারের মতো গ্রহ গঠনের প্রাথমিক স্তরের কণাগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন।

এই গবেষণা বিষয়ক নিবন্ধটি সম্প্রতি ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

 

প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ
ছবি: মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিশাপাট গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি ছিল তার তীব্র ঝোঁক। পড়াশোনার পাশাপাশি অব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা ছিল তার নেশা। 

মোশাহিদ যখন দশম শ্রেণিতে পড়তেন তখন তার দাদার পুরানো নষ্ট ডিভিডি ভেঙে তার ড্রাইভ ব্যবহার করে মিনি সিএনসি প্লটার মেশিন তৈরি করেছিলেন। এটাই ছিল তার তৈরি করা প্রথম প্রজেক্ট। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মোশাহিদকে।

২০১৯ সালে হবিগঞ্জের জেকে অ্যান্ড এইচ কে হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২১ সালে শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১০০ শতাংশ স্কলারশিপ পেয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন।

এই ইউনিভাসিটির উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা বিভাগ থেকে ২০২৬ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মোশাহিদ নাসা (জিএলইই) মিশন প্রজেক্টের টিম বাংলাদেশের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।

এ ছাড়াও সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রজেক্টেও কাজ করেছেন।

হবিগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় আকৃষ্ট করতে উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে কাজ করছেন মোশাহিদ। তাই ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘শায়েস্তাগঞ্জ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট’, প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘রোবটিক্স শপ বিডি’, প্রশিক্ষণের জন্য ‘রোবটিক্স একাডেমি’ এবং তরুণদের ভাবনা তুলে ধরার জন্য ‘দৈনিক দুর্বার’ দৈনিক যুবকণ্ঠ ও ‘অদম্য ম্যাগাজিন’-এর মতো অনলাইন গণমাধ্যম। তার এই প্রতিটি উদ্যোগই একটি আরেকটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।

তার এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মোশাহিদ মজুমদার পেয়েছেন ‘জাতীয় ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’। এই অ্যাওয়ার্ড দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ যুব সম্মাননা।

মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিজ্ঞান আমার ধ্যানে জ্ঞানে। বিজ্ঞান নিয়ে উদ্ভাবন আমি সবসময় স্বপ্ন ছিল নিজের অঞ্চলের জন্য ও দেশের জন্য ভিন্ন কিছু করার। তাই আমি আমার গবেষণা ও উদ্ভাবন কোনো একক প্রজেক্ট বা একাডেমিক গবেষণাপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমার মূল উদ্ভাবন হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যা হবিগঞ্জ তথা বাংলাদেশের হাজারো তরুণকে বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করবে।’

বিজ্ঞানমেলা অংশগ্রহণের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন উল্লেখ করে মোশাহিদ বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকে আমি বিজ্ঞানমেলায় অংশগ্রহণ করি। আমি দেখলাম বিজ্ঞানমেলা এলেই কেবল স্কুলগুলোতে নামমাত্র অংশগ্রহণের জন্য তাড়াহুড়ো শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ইউটিউব থেকে ধারণা নকল করে কোনোমতে একটি প্রজেক্ট দাঁড় করায়। মেলার পর সেই চর্চার আর কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না। আমি চিন্তা করলাম এমন একটি স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সারা বছর বিজ্ঞান নিয়ে ভাবতে পারবে, গবেষণা করতে পারবে।’

এই ভাবনা থেকেই মোশাহিদ ২০১৯ সালে ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

সংগঠনটি শুরুর দিকের প্রতিকূলতা, সামাজিক ও পারিবারিক সংশয় থাকলেও কোনো কিছুই দমাতে পারেনি মোশাহিদ ও তার দলকে। তাদের নিরলস পরিশ্রমে ক্লাবটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১১ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা করা এই ক্লাব আজ ২৭ হাজারের বিশাল পরিবার। এই ক্লাবের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে হবিগঞ্জসহ দেশের ২৩৩টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

মোশাহিদ গর্বের সঙ্গে বলেন, এই বিজ্ঞান ক্লাবের হাত ধরেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বারবার উচ্চারিত হয়েছে আমার জেলা হবিগঞ্জের নাম। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের অধীনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ২৭ বারেরও বেশি বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে আমাদের ক্লাবটি। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বারবার প্রথম হয়ে ক্লাবের সদস্যরা প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরাও ইতিহাস গড়তে পারে।

তিনি বলেন, আমি শুধু ক্লাব নয়, শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স, প্রোগ্রামিং, ইলেকট্রনিক্স এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল বিষয়ে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করছে। ক্লাবের সদস্যরা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে।

উদ্ভাবনী বাংলাদেশ তৈরিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইনোভেশন কালচার বা উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা চাই,বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আমাদের আজকের এই কনিষ্ঠ বিজ্ঞানীরা। 

শাকিলা ববি/খাদিজা রুমি/

চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য
অ্যালুমিনিয়াম ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে চীন।

চীনের একটি গবেষণা দল অত্যাধুনিক ক্রায়োজেনিক বা অতিশীতল ফর্মিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেটের প্রপেল্যান্ট ট্যাংকের গম্বুজ অংশের বড় আকারের উৎপাদন সফলভাবে শুরু করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন সময় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, যা মহাকাশ শিল্পে একটি বড় অগ্রগতি।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে তালিয়ান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কারিগরি প্রকৌশল স্কুল। তারা বিশ্বের প্রথম বড় আকারের ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রেস তৈরি করেছে, যা দুই মিটারের বেশি ব্যাসের অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতুর একখণ্ড রকেট ট্যাংক ডোম তৈরিতে সক্ষম।
একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বর্তমানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১,০০০টি ট্যাংক ডোম উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে চীনের।
তালিয়ান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কারিগরি প্রকৌশল স্কুলের গবেষক ফান সিয়াওবো বলেন, ‘ক্রায়োজেনিক ফর্মিং-এর মূল চাবিকাঠি হলো বড় প্লেটগুলোকে ক্রায়োজেনিক জোনে শীতল করা। সরঞ্জামটি বড় আয়তনের তরল নাইট্রোজেনের দ্রুত পরিবহন ও সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে তাপমাত্রা, চাপসহ একাধিক প্যারামিটারের সমন্বিত লোডিং নিয়ন্ত্রণও সম্ভব করেছে। এটি মাইনাস ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ, শীতলীকরণ এবং বড় যন্ত্রাংশের স্থিতিশীল উৎপাদন সম্ভব করেছে।’
এই প্রযুক্তির মূল বিষয় হলো বৃহৎ ধাতব পাতকে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় নিয়ন্ত্রিতভাবে শীতল করা। ফলে আগে যেখানে একটি ট্যাংক ডোম তৈরি করতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগত, সেখানে এখন তা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
সাধারণভাবে ধাতু অত্যন্ত ঠান্ডায় ভঙ্গুর হয়ে যায়। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট অবস্থায় অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতু ক্রায়োজেনিক তাপমাত্রায় আরও নমনীয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এই বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেই দলটি প্রথমবারের মতো অ্যালুমিনিয়াম ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে।
এই প্রযুক্তিতে মাত্র ৪ মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম পাত থেকে এক ধাপে সম্পূর্ণ ট্যাংক ডোম তৈরি করা যায়। উৎপাদিত অংশে পুরুত্বের বিচ্যুতি ০.৩ মিলিমিটারেরও কম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অংশগুলো তৈরি হওয়ার পর আর কোনো ওয়েল্ডিং বা মিলিংয়ের প্রয়োজন হয় না। ফলে কাঠামো হয় আরও শক্তিশালী, হালকা এবং নির্ভরযোগ্য।
এই প্রযুক্তিতে তৈরি ট্যাংক ডোম ইতোমধ্যে চীনের লং মার্চ ১২ ও লং মার্চ ৭-এ রকেটের সফল মিশনে ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান ছি ছাং বলেন, এই প্রযুক্তিতে এমন  ট্যাঙ্ক ডোম তৈরি সম্ভব, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এটি বিমান, মানববিহীন ব্যবস্থা, নতুন শক্তিচালিত যানবাহন এবং উচ্চগতির রেল শিল্পেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই প্রযুক্তি শুধু মহাকাশ শিল্প নয়, বরং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: সিএমজি

উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক
ছবি সিএমজি


চীনের নিম্ন-আকাশ অর্থনীতি খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ইভিটিওএল উড়োজাহাজের ইঞ্জিন উৎপাদন লাইনে এসেছে। শুক্রবার পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের উসি শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইঞ্জিন সরবরাহ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অ্যারো ইঞ্জিন করপোরেশন অব চায়না এর অ্যারোইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এইই২৫ নামের এই বৈদ্যুতিক বিমান ইঞ্জিনটি টর্ক ঘনত্বের ক্ষেত্রে দেশের নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি টর্ক ঘনত্বের ফলে ইঞ্জিনের ওজন কম হয় এবং উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী বা পণ্য বহন করা সম্ভব হয়। 
এইই২৫ ইঞ্জিনটি বিমানের ব্যাটারিতে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক শক্তিকে রোটর সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি  ও থ্রাস্টে রূপান্তর করে।  
ইঞ্জিনটিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—মূল মোটর ও এর কন্ট্রোলার, কুলিং সিস্টেমের মোটর ও কন্ট্রোলার, এবং ভ্যারিয়েবল-পিচ অ্যাকচুয়েটর ও কন্ট্রোলার—একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে বিমান নির্মাতারা সহজে ইঞ্জিনটি স্থাপন করে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য চীনের বৈদ্যুতিক বিমান ও নগর আকাশ পরিবহন প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

সূত্র: সিএমজি

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি