পৃথিবী থেকে যাত্রার মাত্র ১৫ ঘণ্টায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছে চারজন নভোচারীকে বহনকারী যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ক্যাপসুল। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পর ক্যাপসুলটি সফলভাবে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছায়।
এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নাসার দুই নভোচারী জেনা কার্ডম্যান ও মাইক ফিনকে, জাপানের কিমিয়া ইউই ও রাশিয়ার ওলেগ প্লাতোনভ অংশ নিয়েছেন। নতুন এই দলটি আগামী ছয় মাস মহাকাশে অবস্থান করবেন। তারা গত মার্চ থেকে সেখানে অবস্থানরত নভোচারী দলের স্থান নেবেন। আগের দলটিকে চলতি সপ্তাহে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে স্পেসএক্স।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করার সময় মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে ক্যাপসুলটি সংযুক্ত (ডকিং) হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাইক ফিনকে রেডিওতে বার্তা পাঠান, ‘হ্যালো, মহাকাশ স্টেশন!’
মজার বিষয় হলো, এই চার নভোচারীর প্রত্যেকেই অন্য মিশনের জন্য নির্ধারিত ছিলেন। বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানের দুই নভোচারী মহাকাশ স্টেশনে আটকা পড়েন। এতে গত বছর জেনা কার্ডম্যানসহ একজন নভোচারীকে নির্ধারিত ফ্লাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে মাইক ফিনকে ও কিমিয়া ইউই পরবর্তী স্টারলাইনার মিশনের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্টারলাইনারের সব ফ্লাইট স্থগিত থাকায় তাদের এই স্পেসএক্স ফ্লাইটে যুক্ত করা হয়। রাশিয়ার ওলেগ প্লাতোনভ-ও অসুস্থতার কারণে কয়েক বছর আগে সয়ুজ রকেটের একটি অভিযান থেকে বাদ পড়েন।
নতুন দলের আগমনে মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীর সংখ্যা সাময়িকভাবে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। স্টেশনে পৌঁছানোর পর নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কার্ডম্যান বলেন, ‘স্পেস স্টেশনকে প্রথমবার চোখের সামনে দেখা সত্যিই অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর এক দৃশ্য ছিল।’
স্পেসএক্সের এই দ্রুতযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রেকর্ড হলেও, এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সবচেয়ে দ্রুত পৌঁছার রেকর্ড রাশিয়ার। মাত্র তিন ঘণ্টায় তাদের মহাকাশযান একবার স্টেশনে পৌঁছেছিল।
এবারের এই সফল মিশন স্পেসএক্স ও নাসার অংশীদারত্বে চালানো ধারাবাহিক অভিযানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। মহাকাশ গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তির ওপর নতুন আস্থা তৈরি করেছে এটি।


