মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে শনিবার (১৭ মে)।
মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান শনিবার রায়ের দিন ধার্য করেছেন।
রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশা করছেন প্রসিকিউশন ও মামলার বাদী।
গত ৫ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় তৃতীয় শ্রেণির আট বছরের শিশু আছিয়া। এ ঘটনার পর মাগুরা ছাড়াও সারা দেশে শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে স্কুল-কলেজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন। ধর্ষণের ঘটনার পর শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটি মারা যায়।
গত ৮ মার্চ শিশুটির বোনের শ্বশুর, দুলাভাই, দুলাভাইয়ের ভাই ও মাকে আসামি করে সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন শিশুটির মা।
মামলার পর পুলিশ মূল আসামি হিটু শেখকে রিমান্ডে নেয়। গত ১৫ মার্চ মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন হিটু শেখ। ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তিনি একাই জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত বাকি তিনজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ১৩ এপ্রিল।
মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার শুরু হয় ২৩ এপ্রিল। ছুটির দিন বাদে চলে টানা সাক্ষ্যগ্রহণ। আটদিনে মোট ২৯ সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের শনাক্ত করা ও দুই দিনের যুক্তিতর্ক মিলিয়ে ১৭ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।
এ মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মেডিকেল এভিডেন্স ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল প্রসিকিউটর অ্যাডভাইজর এহসানুল হক সমাজী। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। এ ধরনের অপরাধ যাতে আর না ঘটে, এ রায় সেটার একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।’
সরকার দ্রুত এই মামলার কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মামলার বাদী ও শিশুটির মা। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।