বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে জেলা জুড়ে সড়কপথ অবরোধ ও হরতাল শুরু হয়েছে। এতে বাগেরহাট জেলার অন্য সব স্থানের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা স্বতস্ফূর্তভাবে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন।
পূর্ব নির্ধারিত সময় রবিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৮টায় খুলনা বাগেরহাট মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া, কাটাখালি, মোল্লাহাট সেতু, বাগেরহাট পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার, খুলনা মোংলা মহাসড়কের ফয়লা, মোংলা বাসস্ট্যান্ডসহ জেলার অন্তত দশটি স্থানে সড়কের উপর গাড়ি ও বেঞ্চ রেখে অবরোধ করছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতা-কর্মীরা।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সমন্বয়ক এম এ সালাম বলেন, আমরা আজ পুরো বাগেরহাটকে শাটডাউন করে দিয়েছি। আমাদের মংলা সমুদ্রবন্দর বন্ধ, জজকোর্ট বন্ধ, স্কুল-কলেজ বন্ধ। আমরা হরতাল এবং অবরোধ পালন করছি। আজ বাগেরহাট জেলা কার্যত বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
তিনি বলেন, 'আমরা যে চারটি সংসদীয় আসনের দাবিতে আন্দোলন করছে কালকে তার শুনানি রয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই এই দাবি কালকে মেনে নিতে হবে। কারণ এটি শুধু একটি দলের বা একটি অঞ্চলের দাবি নয় এটি বাগেরহাটের প্রতিটি মানুষের প্রাণের দাবি।'
তিনি আরও বলেন, '১৯৭০ সালে বাগেরহাটে যে জনসংখ্যা ছিল আজ তা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই হিসেবে আমাদের আরও আসন পাওয়া উচিত। কেবল চারটি আসন নয়, যুক্তিযুক্তভাবে আমাদের পাঁচটি আসন দাবি করার অধিকার রয়েছে। বাগেরহাটে রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্রবন্দর। এখানে রয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যের ষাটগম্বুজ মসজিদ। সারা দেশের ৭০ শতাংশ চিংড়ি উৎপাদিত হয় এই জেলায়। এত সম্ভাবনাময় একটি জেলাকে যদি তার ন্যায্য আসন ফিরিয়ে না দেওয়া হয়, তবে এসব সম্পদ ও উৎপাদন একে একে বন্ধ হয়ে যাবে।'
এম এ সালাম বলেন, 'আমরা আন্দোলন থেকে পিছু হটব না। এই দাবি বাগেরহাটের মানুষের অস্তিত্বের দাবি, সম্মানের দাবি, ন্যায্য অধিকারের দাবি। চারটি আসন ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত বাগেরহাট অচল থাকবে, সংগ্রাম চলবে।'
বাগেরহাট সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামাতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ ইউনুস বলেন, বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে আমরা গত ৩০ জুলাই তিনটি আসনের প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকে বাগেরহাটে আন্দোলন করে আসছি। কখনো সংবাদ সম্মেলন, কখনো রাজপথ অবরোধ আবার নির্বাচন অফিসে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এরপরেও নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তাব থেকে ফিরে আসেনি। যার কারণে আমরা আজকে সর্বত্র অবরোধ ও হরতালের ডাক দিয়েছি। জেলার সর্বস্তরের জনগণ আমাদের দাবির স্বপক্ষে অবস্থান নিয়ে হরতাল ও অবরোধ সফল করছেন। কোনো দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলছে না। মোংলা বন্দর এলাকারও বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, যান চলাচল বন্ধ। আশা করি নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবি মেনে নিবে। তা না হলে এর থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।'
গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি বাগেরহাট জেলার চারটি আসন কমিয়ে তিনটি আসন করার প্রস্তাব দিলে জেলার সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই প্রস্তাব বাতিল ও চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আসন কমানো অথবা বহাল রাখার বিষয়ে ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রিফাত/মেহেদী/