ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর পূর্ণতা পায়নি চামড়া শিল্পনগরী শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর বর্ষা এলেই জলজট স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা মালেশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আশা আছে জটিলতাও নায়ক হতে প্রস্তুত এমবাপ্পে সাতসকালে ঢাকার বায়ুমান নিয়ে দুঃসংবাদ রোনালদোকে পাস দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়রা কি বাধ্য? বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, অনন্য এক ইতিহাসের সামনে ফরাসি মহাতারকা আজও মেসি জাদুর অপেক্ষায় বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, অনন্য এক ইতিহাসের সামনে ফরাসি তারকা নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালান জিয়াউল ৯২ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করে ইরানই বিজয়ী ঐতিহ্যের স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’ এখন ব্যাংকারদের গেস্ট হাউস নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রথম গোল করা কে এই ফিন সারম্যান? ২২ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২২ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল রূপবতী সাদা মথ গাছফড়িং ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুতদের নতুন চাকরি মিলছে না আর্জেন্টিনার সামনে এবার ইউরোপীয় পরীক্ষা, অঘটনের স্বপ্ন অস্ট্রিয়ার জয়ের খোঁজে জর্ডান-আলজেরিয়া ফিলাডেলফিয়ায় ফ্রান্স ও ইরাকের অসম লড়াই ২২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আরেকটি ঐতিহাসিক রাতের অপেক্ষায় কুরাসাও

স্বামীসহ সাবেক এমপি রুবিনার আয়কর নথি জব্দ

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
স্বামীসহ সাবেক এমপি রুবিনার আয়কর নথি জব্দ
সৈয়দা রুবিনা আক্তার

সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সৈয়দা রুবিনা আক্তার এবং তার স্বামী মোশাররফ হোসেন সরদারের আয়কর নথি জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। ‌ 

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুদকের করা পৃথক আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। 

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের উপ-পরিচালক রাসেদুল ইসলাম তাদের আয়কর নথি জব্দ করার আদেশ চেয়ে পৃথক আবেদন করেন।

রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে আবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৪ টাকা মূল্যের সম্পদ অসাধুভাবে অর্জন ও দখলে রাখেন। তার নিজের নামে ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে ১৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৯৬৪ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনও দুদকের তদন্তের আওতায় রয়েছে। এ কারণে তার শুরু থেকে সর্বশেষ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট নথি জব্দ করা প্রয়োজন।

তার স্বামী মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে আবেদনে বলা হয়, তিনি ও রুবিনা আক্তার একে অপরের সহায়তায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৮ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখল করেছেন। তার ব্যাংক হিসাবের ১৮ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৪০৪ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও সঠিক তদন্তের স্বার্থে জব্দের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

উজ্জ্বল/এসজি/

নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালান জিয়াউল

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালান জিয়াউল
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এক সেনাসদস্য বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ ১৫০-২০০ মানুষকে গুম ও হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস এক মামলায় দেওয়া জবানবন্দিতে গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এসব বর্ণনা দেন।

ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম-হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আদালতে এই জবানবন্দি দিয়েছেন ইমরুল কায়েস।

এই মামলার একমাত্র আসামি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের উপস্থিতিতে জবানবন্দি দেন সেনাসদস্য। চিফ প্রসিকিউটর জবানবন্দির বরাতে বলেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যকে ধরে এনে দুটি পদ্ধতিতে হত্যা করেছেন জিয়াউল আহসান। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি ঠেকিয়ে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিতেন। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন।

রাজধানীর বনানী থেকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম হন ইলিয়াস আলী। ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে সেনা পোশাক পরা ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে তিনি প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। র‌্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের ‘রানার’ হিসেবে তিনি নিয়োগ পান। রানার হিসেবে তিনি জিয়াউল আহসানের সঙ্গে থাকতেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘২০১২ সালের সম্ভবত ১৩ এপ্রিল হেডকোয়ার্টার থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়া স্যার, মেজর নওশাদ স্যার, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ স্যারসহ আমরা মহাখালী ফ্লাইওভারের নিকট যাই। কাকে গাড়িতে পিক করবে, তা আমি জানতাম না। জিয়া স্যার গাড়িতে বসে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলেন। টার্গেট কখন আসবে, তা জানার জন্য ফোন করছিলেন। একটা পর্যায়ে জানা যায় যে টার্গেট আসবে না। পরে সেখান থেকে জিয়া স্যারকে বাসায় নামিয়ে দিই এবং স্যারকে বলে পরের দিন সকালে আমি ৯ দিনের ছুটিতে যাই।’

তিনি জবানবন্দিতে বলেন, ‘ছুটিতে থাকা অবস্থায় মিডিয়ার মাধ্যমে আমি জানতে পারি যে ইলিয়াস আলী নামের একজন বিএনপি নেতাকে মহাখালী ওভারব্রিজের ওখান থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ৯ দিন ছুটি শেষে এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখে আমি কর্মস্থলে যোগদান করি। যোগদানের পর আমি র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে থমথমে পরিবেশ লক্ষ করি। অন্য সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারি, কোতের (অস্ত্রাগার) অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ জিয়া স্যার নষ্ট করে ফেলেন।’

সেনাসদস্য জবানবন্দিতে বলেন, “ওই সময় স্যারের ফোনে অন্য একটি কল এলে স্যার বলেন, ‘তুই রাখ, তারেক স্যার {সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক} ফোন দিয়েছেন।” জিয়া স্যার তারেক স্যারের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। অপর প্রান্তে কী বলেছে, আমি জানি না। তবে জিয়া স্যার অভিযোগের সুরে বলছিলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে! এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠায়ে দেন, এটাই আমার ভালো।’

চিফ প্রসিকিউটর বাংলাদেশ-ভারতজুড়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কিলিং নেটওয়ার্ক ছিল বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের অভিযোগে হওয়া মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন এই সেনাসদস্য।

সাক্ষ্যে তিনি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন। অর্থাৎ র‌্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। জাফলংয়ে যাওয়ার পর আরও দুজন আসামিকে নিয়ে আসেন ভারত থেকে আসা সাদাপোশাকের কিছু লোকজন। এরপর এসব আসামিকে বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। 

জবানবন্দির বরাতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জিয়াউল আহসান ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তায় মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেন। এভাবেই তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ভারতের লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো নিয়ে আসতেন। তারা কোনো দলের বা কোনো বাহিনীর হতে পারে। অর্থাৎ জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল। তবে ভারত থেকে সাদাপোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান বর্তমান সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। জবানবন্দিতে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমসহ ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন।

বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জবানবন্দিতে ৪৩ বছর বয়সী সাক্ষী ইমরুল কায়েস বলেন, “আমি ২০০১ সালের ৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করি। আমার চাকরির একটি পর্যায়ে ২০১০-১২ সাল পর্যন্ত র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে প্রেষণে কর্মরত ছিলাম। কর্মরত থাকা অবস্থায় র‌্যাব হেডকোয়ার্টার ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে চাকরি করি। আমি ২০১০ সালের ১০ আগস্ট র‌্যাবে পোস্টিং হয়ে আসি। আমরা যারা পোস্টিং হয়ে আসি প্রথমে আমাদের অ্যাডমিন উইংয়ে রাখা হয়।

পরবর্তীকালে র‌্যাবের বিভিন্ন ইউনিট বা সংস্থায় বদলি করা হয়। আমি বদলির অপেক্ষায় ছিলাম। এ অবস্থায় সিভিল পোশাকে তৎকালীন লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান স্যার (বর্তমানে অব. মেজর জেনারেল) র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে আসেন। তিনি আমার পূর্বপরিচিত ছিলেন। ২০০৪ সালে আমি তার অধীনে আর্মি কমান্ডো কোর্স করি। তখন উনি কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নে আমি তার অধীনে কর্মরত ছিলাম। তা ছাড়া তখন তিনি আমাদের ব্যাটালিয়নে ক্যানটিন অফিসার ছিলেন। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো ছিল। দেখা হওয়ার পর স্যার আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কিরে ইমরুল তুই এখানে?’ আমি স্যারকে তখন বলি, ‘স্যার আমার র‌্যাবে পোস্টিং হয়েছে।’ স্যার জিজ্ঞেস করলেন, কোথা থেকে আমার পোস্টিং হয়েছে? আমি বললাম, স্যার আমার ১২ ল্যান্সার থেকে পোস্টিং হয়েছে। তখন স্যার আমার নাম ও নম্বর দিতে বলেন। আমি আমার নাম ও নম্বর স্যারকে দিই। তার দুই-তিন দিন পরেই র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে পোস্টিং হয়।”

“এরপর আমি ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের স্বাভাবিক ডিউটি যেমন–স্ট্যান্ডবাই প্যাট্রল, এয়ারপোর্ট ডিউটি, র‌্যাবের বিভিন্ন ইউনিটে যেখানে আমরা সংযুক্ত থাকি সেখানে ডিউটি করতে থাকি। আমি মোহাম্মদপুর ক্যাম্পে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় সিনিয়র ডিএডি (নাম মনে নেই) আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘ইমরুল তোমাকে ডাইরেক্টর ইন্টেলিজেন্সের রানার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ যা র‌্যাবে বডিগার্ড হিসেবে বলা হয়। জিয়াউল স্যারের রানার থাকা অবস্থায় আমার কাজ ছিল–সব সময় স্যারের সঙ্গে থাকা এবং স্যার যেখানে প্রয়োজন মনে করতেন, সেখানে আমাকে নিয়ে যেতেন। স্যারের সঙ্গে আমি বিভিন্ন জায়গায় যেমন জাফলং বর্ডার, ডিজিএফআই অফিস, আর্মি হেডকোয়ার্টার, ডিবির প্রধান কার্যালয় (তখন ডিবির প্রধান ছিলেন মনির স্যার) ইত্যাদিতে যেতাম। মাঝে মাঝে সচিবালয়ে যেতাম।

এ ছাড়া স্যার বিভিন্ন ব্যক্তির বাসায় যেতেন। তার মধ্যে মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিকীর (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিকিউরিটি চিফ অ্যাডভাইজার) বাসায় যেতেন। আমিও স্যারের সঙ্গে যেতাম। তারেক সিদ্দিকী স্যারের সঙ্গে জিয়া স্যারের ভালো সম্পর্ক ছিল। তারেক সিদ্দিকী স্যারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আমার স্যারের ভালো সম্পর্ক ছিল। জিয়া স্যার যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতেন, তখন তার গাড়িতে অস্ত্র-অ্যামুনিশন থাকত, কিন্তু জিয়া স্যারের গাড়ি বিধায় তা তল্লাশি করা হতো না। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি যেমন–মাহবুবুল হক হানিফ, আমির হোসেন আমু এবং জাহাঙ্গীর কবীর নানকের সঙ্গেও জিয়া স্যারের ভালো সম্পর্ক ছিল। স্যার তাদের বাসায় যেতেন।”

সাক্ষী আরও বলেন, “রানার হিসেবে যোগদান করার ২০-২৫ দিন পর রাত আনুমানিক ১২টা, সাড়ে ১২টার দিকে স্যার আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘কই তুই?’ আমি বলি, আমি লাইনে আছি। স্যার তখন আমাকে র‌্যাব-১-এর সামনে যেতে বলেন। ওখানে যাওয়ার পর দেখি দুটি কালো রঙের হাইএইস মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে আছে। স্যার আমাকে একটি মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। আমি সেই গাড়িটিতে উঠি। ওই গাড়িতে জিয়া স্যার বসে ছিলেন।

গাড়িতে ওঠার পর স্যার আমাকে বলেন, পেছনে একটি বস্তা আছে, বস্তাটি ফেলে দিতে হবে। ওই গাড়িতে র‌্যাব-১-এর সিও রাশেদ স্যার এবং ক্যাপ্টেন কাউসার স্যার ছিলেন। আরও দুজন ছিলেন আমি তাদের চিনি না। রাত আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে র‌্যাব-১ থেকে বের হয়ে জসীম উদ্দিন (উত্তরার) হয়ে টঙ্গীর দিকে আহসান উল্লাহ ওভারব্রিজের ওপর দিয়ে ডান দিকে মোড় নিয়ে বেশ কিছু দূর যাই। যাওয়ার পর সেখানে একটি রেলক্রসিং পড়ে, রাস্তার দুই পাশে গাছগাছালি ছিল, সেখানে আমাদের গাড়িগুলো থামে। তখন জিয়া স্যার আমাকে বলেন যে ‘ইমরুল ডিক্কিটা খোল, বস্তাটা বের কর।’ আমি ডিক্কি খুলে বস্তা নামানোর উদ্দেশ্যে হাত দিলে দেখি সেটি বস্তা না, বরং একটা ডেড বডি ছিল এবং ঠাণ্ডা ছিল। প্রথম অবস্থায় আমি ভয় পেয়ে যাই। আমার সঙ্গে যারা ছিল, তাদের সহায়তায় বডিটা রেললাইনের পাশে নিয়ে রাখি। স্যার সেখানে দাঁড়ানো ছিল। বডিটা সেখানে রেখে আমি মাইক্রোতে চলে আসি। তখন দেখি যে জিয়া স্যারসহ সেখানে থাকা অন্যরা বডিটা রেললাইনের ওপরে রাখেন এবং তারা গাড়িতে ফিরে আসেন। তার কিছুক্ষণ পর একটি ট্রেন এসে চলে যায়। তারপর আমরা ওখান থেকে চলে আসি।”

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘লাইনে ফিরে আসার পর পাঁচ-সাত দিন আমি অস্বাভাবিক ছিলাম। নিজের কাছে খুব খারাপ লাগছিল যে আমি কোথায় এলাম, কীভাবে চাকরি করব। আমি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছিলাম না। এই ঘটনার কিছুদিন পর আমি জিয়াউল আহসান স্যারের সঙ্গে কয়েকবার সুন্দরবন অপারেশনে যাই। তার মধ্যে একটি অপারেশনের কথা আমার মনে আছে। আমরা বোটে করে সুন্দরবন অপারেশনস্থলে যাই। ওই সময় সেখানে নদীর ভাটা ছিল। আমাদের সঙ্গে র‌্যাব-৮-এর সদস্যরাও ছিলেন। আমাদের বোট থামার পর জঙ্গলের ভেতর থেকে দু-তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পাই। আমাদের ফায়ার করার নির্দেশ দেওয়া হলে আমরা র‌্যাব ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা এবং র‌্যাব-৮-এর সদস্যরা ফায়ার করি। ভাটা থাকার কারণে কাদায় আমাদের হাঁটু পর্যন্ত দেবে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে আমাদের ফায়ার বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

সেখানে জিয়াউল আহসান স্যার, র‌্যাবের এডিজি (অপস) মুজিব স্যার, কমান্ডার সোহায়েল স্যার এবং মিডিয়ার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আমরা জঙ্গলের ভেতরের দিকে যাই এবং দেখি সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দু-তিনটি লাশ পড়ে আছে। গাছের ডালপালা দিয়ে সেখানে একটি হাঁটার রাস্তা দেখতে পাই। রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ছোট ছোট ঘর ছিল। সেখানে জলদস্যুরা বসতে পারত। সবগুলো ঘরই গাছের ডাল দিয়ে তৈরি ছিল। একটি গাছের ওপর একটি ওপি (অবজারভেশন পোস্ট), যার চারপাশে বুলেটপ্রুফ পাত লাগানো ছিল দেখতে পাই। এ ছাড়া আমরা দুটি বোট দেখতে পাই। বোটগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্যাদি ছিল যেমন–সিগারেট, মদের বোতল, বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও একটি ছাগলও ছিল। ছাগলটি আমরা দুপুরের খাবারের সময় জবাই করে খেয়েছিলাম। এই অপারেশনটি আমার কাছে একটি সাজানো অপারেশন মনে হয়েছিল।’

সাক্ষ্যে তিনি বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামে একটি অপারেশন পরিচালনা করা হয় পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরার জন্য। ওই সময় জিয়াউল আহসান স্যার ৮-১০ জন লোককে হত্যা করেন। যাদের হত্যা করেছেন তারা বিডিআর সদস্য ছিল এবং আমাদের অফিসারদের এরা হত্যা করেছে বলে জিয়া স্যার বলেছেন। এই লোকগুলোকে দুভাবে হত্যা করা হয়েছে। একটি ছিল ইনজেকশন পুশ করে এবং আরেকটি ছিল পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে আর্মি ক্যাম্প আছে, তার ভেতর দিয়ে বোটে করে নদীতে নিয়ে সিমেন্ট ভরা একটি বস্তা নিচে রাখা হতো, তার ওপর যে ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে, তাকে রাখা হতো, তার ওপর আরেকটি সিমেন্ট ভরা বস্তা রেখে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে ফেলা হতো। পরে মাথায় গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।”

সেনাসদস্য বলেন, “২০১১ সালের রমজান মাসের শেষের দিকে আমি লাইনে ছিলাম। একদিন ইফতারের পূর্বমুহূর্তে জিয়াউল আহসান স্যার ফোন দিয়ে আমাকে ক্যামেরা নিয়ে উত্তরা নর্থ টাওয়ারের ওখানে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে আমি স্যারকে পাইনি। একটু পরে জিয়া স্যার ফোন দিয়ে আমাকে আরেকটু সামনে যেতে বলেন। ওই দিন আমি ইফতার করতে পারিনি। নর্থ টাওয়ার থেকে সামনে গিয়ে দেখি চারজন লোককে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা নাকি ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। এই অপারেশনটা সাজানো ছিল।

২০১২ সালের প্রথমদিকে তিনটি মাইক্রোতে করে আমরা ১১ জন আসামি নিয়ে জিয়াউল স্যারের নেতৃত্বে পোস্তগোলা আর্মি ক্যাম্পের ওখানে যাই। সেখানে ওই ১১ জন আসামিকে বোটে ওঠানো হয়। জিয়া স্যার কাছে ডাকলে গিয়ে দেখি–এই বোটটি সেই বোট, যেটি সুন্দরবন অপারেশনে জলদস্যুরা ব্যবহার করেছিল। তখন হঠাৎ করে একজন আসামি পানিতে ঝাঁপ দেয়। জিয়া স্যার আমাকে বলেন, ‘ইমরুল ধর ধর।’ স্যারের আদেশে আমি পানিতে ঝাঁপ দিয়ে ওই আসামিকে ধরি। রশির সাহায্যে আমাকে এবং ওই আসামিকে বোটে ওঠানো হয়। ওই সময় অন্ধকার ছিল। আমি আসামিকে চিনতে পারিনি। তবে তার বয়স আনুমানিক ২৫-২৬ বছর হবে। নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আমি অনেক ময়লা পানি খেয়েছি। পরে আমি বমি করি এবং দুর্বল হয়ে যাই। বোটটি নদীর মাঝখানে নিয়ে পূর্বের ন্যায় এই ১১ জনকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। ওই অপারেশনে জিয়া স্যার, মেজর নওশাদ স্যার, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ স্যার, কমান্ডার সোহায়েল স্যার, এডিজি (অপস) মুজিব স্যার ছিলেন। অপারেশন শেষে আমরা লাইনে চলে আসি।”

তিনি বলেন, ‘২০১২ সালের মাঝামাঝি র‌্যাব-১-এর টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামি নিয়ে আমরা জিয়া স্যারের নেতৃত্বে জাফলং বর্ডারে যাই। দুজন আসামিরই হাত বাঁধা এবং মাথায় জমটুপি পরানো ছিল। আনুমানিক রাত ২টা বা আড়াইটার দিকে আমরা সেখানে পৌঁছাই। সেখানে ভারত থেকে দুজন আসামি নিয়ে সিভিল পোশাকে চার-পাঁচজন লোক এসে তাদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমাদের কাছে থাকা দুজনকে তাদের কাছে হস্তান্তর করি। ভারত থেকে প্রাপ্ত দুজন আসামি নিয়ে আমরা জিয়া স্যারের নেতৃত্বে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করি। জাফলং বর্ডার থেকে আনুমানিক ২৫-৩০ কিলোমিটার আসার পর গাড়ি থেকে একজন আসামিকে নামানো হয় এবং জিয়াউল আহসান স্যার তাকে গুলি করে রাস্তার পাশে ফেলে দেন। ওই সময় স্যারের নির্দেশে আমি এবং অন্য একজন গাড়ির সামনে এবং পেছনে সিকিউরিটি হিসেবে দাঁড়াই। অন্য আসামিকে নিয়ে রওনা করে ১০-১৫ কিলোমিটার যাওয়ার পর একইভাবে তাকে জিয়াউল আহসান স্যার গুলি করে হত্যা করেন।’

‘তার বেশ কিছুদিন পর র‌্যাব-৪-এর সেইফ হাউস থেকে দুজন আসামিকে দুইটা মাইক্রোতে নেওয়া হয়। আনুমানিক আধা ঘণ্টা চলার পর গাড়িটি তিন মাথার মোড়ে এক জায়গায় থামানো হয়।’

সাক্ষী পরে ট্রাইব্যুনালের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘গাড়ি দুটি থামানো হয়। আমি যে গাড়িতে ছিলাম সে গাড়ি থেকে একজন আসামিকে নামানো হয়। আমি গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। জিয়াউল আহসান স্যার ওই আসামিকে নিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। ওই আসামির মাথায় অনেক চুল থাকার কারণে মাথায় আগুন ধরে গিয়েছিল। তা দেখে উপস্থিত সবাই হাসাহাসি করছিল। ওই আসামির হাত এবং চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। আসামিকে হত্যা করার পর আমরা গিয়ে স্যারের নির্দেশে গামছাগুলো খুলে নিয়ে এসে গাড়িতে বসি। আমাদের গাড়ি নিয়ে র‌্যাব-৪-এ চলে যেতে বলেন। জিয়া স্যার অপর আসামিকে নিয়ে চলে যান। জিয়া স্যার যখন র‌্যাব-৪-এ ফেরত আসেন, তখন ওই আসামি তার সঙ্গে ছিল না। কিছু কিছু অপারেশন স্যার আমার অগোচরে করতেন। যেটাতে তিনি প্রয়োজন মনে করতেন, সেটাতে আমাকে নিয়ে যেতেন।’

“এই ঘটনার এক-দুই সপ্তাহ পর আমি লাইনে ক্যারম খেলছিলাম, তখন জিয়াউল আহসান স্যার আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘র‌্যাব-১-এর সামনে একটা মাইক্রোবাস দাঁড়ানো আছে, সেখানে গিয়ে ওই গাড়িতে ওঠো।’ আমি স্যারের আদেশ শুনে গাড়িতে গিয়ে উঠি এবং দেখতে পাই মেজর নওশাদ স্যার গাড়িতে বসা আছেন এবং দুজন আসামি (পরে বলেন) টার্গেট জমটুপি পরা অবস্থায় গাড়ির ভেতরে বসে আছে। কিছুক্ষণ পর জিয়াউল আহসান স্যার রাস্তার অপর পার্শ্বের একটি প্রাইভেট কারে এসে নামেন। তারপর রাস্তা পার হয়ে আমাদের গাড়িতে এসে ওঠেন। আমরা যাত্রা শুরু করে টঙ্গী হয়ে আহসান উল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভার হয়ে কাঁচপুর ব্রিজের ওপরে গিয়ে দাঁড়াই। তখন জিয়া স্যার আমাকে বলেন, ‘ইমরুল নামো।’ আমি স্যারের আদেশ অনুযায়ী গাড়ির পাশেই দাঁড়াই গার্ড দেওয়ার জন্য। তখন জিয়া স্যার একজন টার্গেটকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর দুটি গুলি করেন এবং ব্রিজ থেকে যখন ফেলে দেন, তখন টার্গেটের লুঙ্গি খুলে দেন। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেখান থেকে টার্গেটকে নদীর পানিতে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল। তখন একইভাবে মেজর নওশাদ স্যার পরবর্তী টার্গেটকেও গুলি করে হত্যা করেন এবং লুঙ্গি খুলে পানিতে ফেলে দেন।”

‘এই ঘটনা ছাড়াও আমি বেশ কয়েকবার জিয়াউল আহসান স্যারের সঙ্গে বরিশালে গিয়েছিলাম এবং র‌্যাব-৮-এর সহযোগিতায় পাথরঘাটায় চরদুয়ানি বাজার থেকে বলেশ্বর নদীর ভেতরে সাগরের মোহনায় গিয়ে কখনো দুজন, কখনো তিনজন, কখনো চারজন টার্গেটকে পূর্বের ন্যায় হত্যা করে অর্থাৎ সিমেন্টের বস্তা বেঁধে গুলি করে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হতো। বস্তা বেঁধে লাশ পানিতে ফেলার পূর্বে ওই টার্গেটগুলোর পেট কমান্ডো নাইফ দিয়ে চিরে ফেলা হতো।’

‘জিয়াউল আহসান স্যারের সঙ্গে আমি এক বছর তিন-চার মাস বডিগার্ড বা রানার হিসেবে থাকা অবস্থায় আমি লক্ষ করি যে, তিনি বিভিন্নভাবে আসামিকে গুম করতেন। তিনি র‌্যাব-১-এর টিএফআই সেল থেকে আসা ব্যক্তিদের বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করতেন। এই বিভিন্ন পন্থার মধ্যে ছিল গুলি এবং ইনজেকশন। পূর্বের বর্ণিত ঘটনা ছাড়াও আরও ১০-১২ জন ব্যক্তিকে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করেছেন। এই ইনজেকশন প্রয়োগ করার কাজটি কখনো টিএফআই সেলের ভেতরে, কখনো গাড়িতে সংঘটিত হতো। আমি র‌্যাব থেকে চলে যাওয়ার পরে আগের মতো স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি নাই (সাক্ষী এ পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন)। আমি দেশের জন্য শপথ গ্রহণ করেছি, প্রশিক্ষণও নিয়েছি; তবে তা কখনোই দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য নয়। আমি রানার হিসেবে তার সঙ্গে দেখেছি, তিনি ওই সময়ে ১৫০-২০০ জন মানুষকে বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করেছেন। আমি বিবেকের তাড়নায় এবং সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে জবানবন্দি প্রদান করেছি। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। কোনো সৈনিককে কখনোই যেন আমার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।’

সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে ইমরুল কায়েস বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা একাধিকবার আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। বর্তমানে আমি ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত। আমি সাক্ষ্য দিয়েছি, এখন আমি নিরাপত্তা চাই।’

শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডে

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডে
সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চার দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 

শুনানির আগে সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। 

আসামিকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পর। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা থাকলেও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভিসা ও অন্যান্য খরচের কথা বলে ভিসা প্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়। রিক্রুটেড শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতিসাধন করে বিভিন্ন ধাপে অবৈধভাবে ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করেন। আদায় করা ওই অর্থ অবৈধ পন্থায় ছদ্মাবৃত্ত, হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করতে আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

আদালতে প্রথমে রিমান্ডে নেওয়ার আবদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে শুনানি করেন দুদকের প্রসিকিউটর। 

অন্যদিকে প্রতিহিংসা ও আক্রোশের শিকার দাবি করে রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিন চান আসামির আইনজীবী। 

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন বিচারক। 

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও দুর্নীতি দমন প্রতিরোধসহ দণ্ডবিধি আইনে দায়ের করা এ  মামলায় গত ১৮ মে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। 

গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। 

গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এরপর থেকে দুদকের দায়ের করা অপর একটি মামলাসহ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হত্যার ঘটনার পৃথক চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। 

সর্বশেষ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকে কারাগারে ছিলেন। 

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেসময় নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন।  গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।

জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/

শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু: রিমান্ডে প্রকৌশলী সবিবুর ও তার স্ত্রী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু: রিমান্ডে প্রকৌশলী সবিবুর ও তার স্ত্রী
শিশু গৃহকর্মী হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ফারাহ নুসরাত। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডিতে রিক্তা মণি নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে ভবন থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ফারাহ নুসরাতকে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২১ জুন) আদালতের প্রসিকিউশন সূত্র এ তথ্য জানায় । 

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা  উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহনেওয়াজ বাপ্পি  তাদের ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা  প্রয়োজন। পরে আসামিদের রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালতে ওই আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে  শুনানি করে। 

গত শুক্রবার রাতে নিজ বাসা থেকে সবিবুর রহমান ও ফারাহ নুসরাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের একটি বহুতল ভবনে রিক্তামণির মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। 

পরে নিহত শিশুটির বাবা মো. শাহিন ধানমন্ডি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। 

জলিল উজ্জ্বল/আজহার

সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৭ বার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৭ বার
সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি। ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা রেকর্ড ১২৭ বারের মতো পেছানো হলো। আদালত আগামী ২২ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ দিন ধার্য করেন।

মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে টাস্কফোর্সের তদন্ত

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘদিন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এই মামলার তদন্ত করলেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের এক আদেশে র‍্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে মামলার তদন্তভার অর্পণ করেন এবং ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

বারবার বাড়ছে উচ্চ আদালতের সময়সীমা

হাইকোর্টের দেওয়া প্রথম ৬ মাসের সময়সীমা শেষ হলে, তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ আরও ৯ মাস সময় চেয়ে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল আদালত আরও ৬ মাস সময় মঞ্জুর করে আদেশের জন্য ওই বছরের ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। কিন্তু সেই বর্ধিত সময়েও প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি টাস্কফোর্স।

এরপর গত বছরের (২০২৫) ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট মামলার তদন্ত শেষ করতে বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে আরও ৬ মাস করে সময় বাড়িয়ে দেন। তবে বারবার সময় বৃদ্ধির পরও এখনো রহস্যের জট খোলেনি এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের।

আজহার/

সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জোবায়ের। ছবি: সংগৃহীত

সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ পরোয়ানা জারি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কলাবাগান থানায় বিশ্বাসভঙ্গ ও ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলায় গত ১৩ মে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। 

সমনে তাদের স্ব-শরীরে হাজির হয়ে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। আদেশ মতে ধার্য তারিখে আইনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 

পরোয়ানার আওতায় থাকা অন্যরা হলেন, জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী, দুই সন্তান সারাফ নাওয়ার জয়ীতা, আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন এবং সানি চৌধুরী। 

জলিল উজ্জ্বল/নাঈম