ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খুলনায় মাটি খুঁড়ে ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার সবজির কেজি ১২০০, উপকারিতা কী? শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীর একাধিক জায়গায় সড়ক অবরোধ ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল মাঝ নদীতে আটকা হাতিয়ার ফেরি, ব্যাহত নৌ চলাচল নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে টাইফয়েডের টিকা, শুরু ১ আগস্ট সরকার স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে: প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ হাজার ৪৩৬ পরিবার স্বর্ণের দাম আরও কমল, ভরি কত? সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পদোন্নতি পাওয়া ১০১ যুগ্মসচিবের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন গুগলে ‘সেভেন আপ খাওয়া দল’ লিখলেই আসছে ব্রাজিলের নাম মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বউকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ স্বামীর হরমুজ প্রণালী মার্কিন ‘দখলে’, নিরাপত্তার বিপরীতে অর্থ নেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ ৯ টন জিরা জব্দ ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার পর নতুন প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি হাতিয়ার কৃষিতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা চলন্ত ট্রেনে ‘হানিমুন স্যুইট’! বরখাস্ত টিটিই ‎সাঁথিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে রফাদফা নরসিংদীতে বালু ব্যবসায়ীর কান কামড়ে দিলেন বিএনপি নেতা! সিলেট পরিবেশ উৎসবে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন গাজীপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা ‘চোরের দলের খেলা কবে’ সার্চ করলেই আসছে আর্জেন্টিনার ম্যাচ! কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো বিজেপি সাতক্ষীরায় পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ ৬ লাখ টাকার ঋণ ও বিকল রিকশা বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক দেশের ১৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস

কাঁকড়ার খাদ্য উদ্ভাবনে সফলতা

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩৪ এএম
কাঁকড়ার খাদ্য উদ্ভাবনে সফলতা
ঘেরে বা খাঁচায় চাষ করা কাঁকড়ার খাবার পর্যবেক্ষণ করছে নোবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের গবেষক দল। ছবি-সংগৃহীত

বাংলাদেশে কাঁকড়া উৎপাদনের ক্ষেত্রে চাষিদের দুই কারণে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়। একটি হলো কাঁকড়ার খাবার এবং অন্যটি কাঁকড়ার পোনা। উন্মুক্ত জলাশয়ে কাঁকড়া প্রকৃতিতে মাছজাতীয় যে খাবার পায় তা খেয়ে বেঁচে থাকে। আবার ঘেরে বা খাঁচায় চাষ করা কাঁকড়াগুলোকে স্বল্পমূল্যের শামুক, তেলাপিয়া ও সাগরের অন্যান্য মাছ খাবার হিসেবে দেওয়া হয়। কিন্তু খাবার হিসেবে মাছের ব্যবহার, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কষ্টসাধ্য। এতে করে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমেই বাড়ছে।

প্রাকৃতিক উপায়ে অতিমাত্রায় খাবার ও পোনা সংগ্রহের দরুন প্রকৃতিতে বৈষম্যের জন্য বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ সংকট নিরসনে তথা উৎপাদন বৃদ্ধিতে ঘেরে বা খাঁচায় চাষ করা কাঁকড়ার জন্য সম্পূরক খাবার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কী হতে পারে সে খাবার? এর অনুসন্ধান করতেই গবেষণা শুরু করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একদল গবেষক।

কাঁকড়ার জন্য নতুন সম্পূরক খাবার তৈরির উদ্যোগ নেন তারা। দেশে প্রথমবারের মতো কাঁকড়ার এ সম্পূরক খাবার উদ্ভাবনে সফলতা পান নোবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন ও তার দল। নতুন উদ্ভাবিত খাবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামানুসারে রাখা হয় ‘এনএসটিইউ ক্র্যাব ফিড’। দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও ভিয়েতনামে কাঁকড়ার এ ধরনের খাবারের প্রচলন থাকলেও বাংলাদেশে এটাই প্রথম। বিভিন্ন আকারের কাঁকড়ার জন্য খাওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে ৪৫ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ এই খাবার। ঘেরে কিংবা খাঁচায় বেড়ে ওঠা কাঁকড়াদের খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এটি। এতে করে চাষিদের প্রকৃতি-নির্ভরতা অনেকটা কমেছে। পাশাপাশি বেড়েছে কাঁকড়ার উৎপাদন ও রপ্তানি।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ২০১৪ সাল থেকে ছোট-বড় সাইজের নরম খোলসযুক্ত (সফট শেল) কাঁকড়া হিমায়িত করে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। যার দরুন প্রকৃতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এবং নষ্ট হতে শুরু করেছে ইকোসিস্টেম। ছোট ছোট কাঁকড়াও রেহাই পাচ্ছে না রপ্তানি থেকে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২২ সালে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। এতে গবেষণা সহযোগী হিসেবে গ্লোন অ্যাগ্রোভেট, ইরওয়ান ট্রেডিং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়কে সংযুক্ত করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ঘেরে ও খাঁচায় কাঁকড়া চাষ সম্ভব এবং এদের সম্পূরক খাবার দিলে কাঙ্ক্ষিত পুষ্টিগুণও পাওয়া যায়। তাই বর্তমানে চাষিরা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সম্পূরক খাবারের মাধ্যমে কাঁকড়া উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন। নতুন উদ্ভাবিত খাবার কাঁকড়ার জন্য একটি উপযোগী খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

গবেষক ড. মামুন জানান, গবেষণার শুরুর দিকে কক্সবাজারে কাঁকড়ার প্রচলিত খাদ্যব্যবস্থা সম্পর্কে একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে বৃহৎ পরিসরে কক্সবাজার ও সাতক্ষীরার ৮০ জন চাষিকে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত চাষিদের হ্যাচারির কাঁকড়ার পোনা, সম্পূরক খাবার ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়। তাদের মাধ্যমে ঘেরে ও খাঁচায় উৎপাদিত কাঁকড়ার খাবারের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি মা কাঁকড়ার লালন, স্বজাতি ভক্ষণ প্রতিরোধে শেল্টার ব্যবহারকরণ, মজুত ঘনত্ব ইত্যাদি নিরীক্ষণ করা হয়। বর্তমানে একই বিভাগের সাতজন শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কাঁকড়ার আরও বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। তারা শস্য বহুমুখীকরণ অর্থাৎ ‘কাঁকড়া, চিংড়ি ও সাদা মাছের পলিকালচার’ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ ক্ষেত্রে গবেষক দল বিভিন্ন উদ্যোক্তা, হ্যাচারি মানিক, ফিড ইন্ডাস্ট্রিসহ সংশ্লিষ্টদের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য উন্মুক্ত, যা মৎস্য খাতকে গতিশীল করবে।

লেখক পরিচিতি: সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ), নোবিপ্রবি।

তামাটে পাতার মাঝে আগুনের শিখা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
তামাটে পাতার মাঝে আগুনের শিখা
ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের নার্সারিতে ফ্লেম ভায়োলেট।      ছবি: লেখক

প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি ফ্লেম ভায়োলেট। এই উদ্ভিদের প্রধান আকর্ষণ হলো এর পাতা এবং ফুলের চমৎকার রঙের বৈপরীত্য। এর বৈজ্ঞানিক নাম Episcia cupreata. এটি Gesneriaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। চিরসবুজ বহুবর্ষজীবী বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ। এটি মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের (বিশেষ করে কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা) আদি নিবাসী উদ্ভিদ। এর নজরকাড়া পাতার বুনন এবং জ্বলজ্বলে আগুনের মতো লাল-কমলা ফুলের কারণে এটি বিশ্বজুড়ে ইনডোর প্ল্যান্ট বা গৃহসজ্জার উদ্ভিদ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গত ৩০ জুন ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের বাংলাদেশ নার্সারিতে এই উদ্ভিদের দেখা পাই।

এর পাতাগুলো ডিম্বাকৃতির, কিছুটা খসখসে এবং মখমলের মতো নরম রোমশ (velvety) ভাবযুক্ত। পাতার রং জাতভেদে গাঢ় তামাটে (coppery-green), ব্রোঞ্জ, বা বেগুনি-সবুজ হতে পারে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, পাতার শিরাগুলো হালকা সবুজ বা রূপালি-সাদা রঙের হয়ে থাকে, যা পাতায় একটি চমৎকার ধাতব বা মেটালিক আভা তৈরি করে।

বসন্ত থেকে শরৎকাল পর্যন্ত এই গাছে ফুল ফোটে। ফুলগুলো আকারে ছোট এবং ট্রাম্পেট বা চোঙাকৃতির হয়ে থাকে। পাপড়ির রং সাধারণত টকটকে লাল বা কমলা-লাল হয় এবং ফুলের ভেতরের অংশ বা হলদেটে গলাটি প্রায়ই ছিটছিট দাগযুক্ত থাকে। তামাটে পাতার পটভূমিতে এই উজ্জ্বল লাল ফুলগুলো যেন আগুনের শিখার মতো জ্বলে ওঠে, আর এ কারণেই এর নাম হয়েছে ‘ফ্লেম ভায়োলেট’।

এ গাছটি আকারে বেশ ছোট ও ঝোপালো হয় (উচ্চতায় সাধারণত ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি)। তবে এটি রানার বা লতানো কাণ্ডের (stolons) সাহায্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঝুলন্ত টবে রাখলে এর লতাগুলো নিচের দিকে ঝুলে পড়ে এক অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করে।

নান্দনিক সৌন্দর্য ছাড়াও ঘরোয়া পরিবেশে এবং উদ্যানবিদ্যায় ফ্লেম ভায়োলেটের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ঝুলন্ত ঝুড়ি (hanging baskets), টেরারিয়াম (terrarium) এবং ঘরের জানালার পাশে রাখার জন্য এটি একটি আদর্শ উদ্ভিদ। এর রঙিন পাতা ঘরের ভেতরের একঘেয়েমি দূর করে একধরনের ক্রান্তীয় বা ট্রপিক্যাল আবহ তৈরি করে। ল্যান্ডস্কেপিংয়ের ক্ষেত্রে ছায়াযুক্ত স্থানে গ্রাউন্ড কাভার (মাটি ঢেকে রাখার উদ্ভিদ) হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য ইনডোর প্ল্যান্টের মতো ফ্লেম ভায়োলেটও ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে। তা ছাড়া ঘরে সবুজের ছোঁয়া ও রঙিন ফুলের উপস্থিতি মানসিক চাপ কমাতে এবং কাজের মনোযোগ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

উদ্যানপ্রেমীদের কাছে এটি জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এর সহজ বংশবিস্তার প্রক্রিয়া। এর রানার বা লতা কেটে খুব সহজেই নতুন চারা তৈরি করা যায়, যা নতুন বাগানকারীদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

ফ্লেম ভায়োলেট আর্দ্র এবং উষ্ণ পরিবেশ পছন্দ করে। একে সরাসরি তীব্র সূর্যের আলো থেকে দূরে রেখে উজ্জ্বল, পরোক্ষ আলোতে (indirect light) রাখা উচিত। টবের মাটি সব সময় হালকা আর্দ্র রাখতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি জমে শিকড় পচে না যায়। ঘরের শুষ্ক বাতাস এড়াতে এর চারপাশে কিছুটা আর্দ্রতা বজায় রাখলে গাছটি দীর্ঘকাল তার সতেজতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখে। স্বল্প পরিসরে এবং কম যত্নে ঘরের কোণে প্রকৃতির রং ছড়িয়ে দিতে ফ্লেম ভায়োলেটের জুড়ি মেলা ভার।

লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ 

অপরূপা প্রজাপতি নীল পুনম

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
অপরূপা প্রজাপতি নীল পুনম
ক্যাপশন: সাভারে দেখা নীল পুনম প্রজাপতি ছবি: লেখক

এ বছরের মে মাসের ঘটনা। রোদ দেখে এক দিন বাড়ি থেকে বের হলাম। সাভার যেতে যেতে বেলা বেড়ে গেল। রোদটা বেশ চড়িয়ে উঠেছে। যেতে যেতে পথে ক্যান্টনমেন্টের পাশে ডিসি নার্সারিতে ঢুকে পড়লাম। ওখানে গেলে মাঝে মাঝে কিছু নতুন গাছপালা দেখা যায়। উদ্দেশ্য হচ্ছে সেগুলোর খোঁজ নেওয়া আর ছবি তোলা। অনেক গাছেই ফুল ফুটেছে। সেসব ফুলে মধু খেয়ে বেড়াচ্ছে প্রজাপতিরা। এগুলোর ছবি তোলা বড্ড মুশকিল। দুই সেকেন্ড সময়ও ফুলে থিতু হয়ে বসে না।

চোখ পড়ল একটা গাছের তলায়। মাটির কাছাকাছি একটা গাছের পাতার ওপর ঘাপটি মেরে ডানা মেলে বসে আছে এক কৃষ্ণসুন্দরী। অপরূপা সে, যেন তার কালো ডানা থেকে নীল অভ্রের ছটা ঠিকরে বের হচ্ছে। ছবি তোলার বেশ ভালো পজিশনও পাওয়া গেল। ছবি তোলার পর তাকে শনাক্ত করা গেল, প্রজাপতির নাম নীল পুনম। যে প্রজাপতির ছবি তুললাম, সেটি মেয়ে প্রজাপতি। পুরুষটার ডানায় নীল দাগগুলো বড় হয়, বিশেষ করে পেছনের ডানা জোড়ায় দুটি বড় নীলাভ সাদা ছোপ থাকে।

নীল পুনম প্রজাপতির ইংরেজি নাম ব্লু মুন বাটারফ্লাই বা গ্রেট এগফ্লাই, প্রজাতিগত নাম Hypolimnas bolina, লেপিডোপ্টেরা বর্গের নিমফালিডি গোত্রের পোকা। প্রজাতিগত নামের শেষাংশ বোলিনা এসেছে গ্রিক পুরাণের একটি চরিত্র থেকে। গ্রিক ভুগোলবিদ পসানিয়াসের বিবরণ অনুযায়ী, বোলিনা ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের আচাইয়া অঞ্চলের একজন সুন্দরী কুমারী। সূর্য ও আলোর দেবতা অ্যাপোলো তার প্রেমে পড়েন। কিন্তু বোলিনা সে প্রণয় নিবেদন ফিরিয়ে দেন ও অ্যাপোলের হাত থেকে বাঁচতে তিনি সাগরে ঝাঁপ দেন। তখন অ্যাপোলো তাকে জলপরীতে রূপান্তর করেন। নীল পুনমের ডানা যেন সেই জলপরীর ডানার মতো!

এরা এ দেশে এসেছে মাদাগাস্কার ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। তবে এখন এশিয়ার অনেক দেশেই এদের দেখা যায়। এ দেশের প্রায় সর্বত্র এদের দেখা যায়। সাধারণত ঘন ও স্যাঁতসেঁতে ঝোপঝাড়, ফুলের বাগান, বন ও বনের প্রান্তে এলাকা, আবাসিক এলাকা প্রভৃতি স্থানে এদের দেখা যায়। এরা সোজাসুজি ওড়ে। ফুলের মধু পান করার সময় এরা ডানা চারটি আধা ভাঁজ করে রাখে। ডানা প্রসারিত করলে সেসব ডানার এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তের বিস্তার হয় ৭০ থেকে ৮৫ মিলিমিটার।

জিনগত পলিমরফিজম ও ফেনোটাইপিক প্লাস্টিসিটির কারণে স্ত্রী নীল পুনম প্রজাপতি ব্যাপকভাবে পরিবর্তনশীল বা বহুরূপী স্বভাবের হয়। এই পরিবর্তনের চিহ্ন প্রথম প্রকাশিত হয় পৃষ্ঠদেশে, সেখানে সাদা ও নীল দাগগুলো পরিবর্তিত হয়। কিন্তু স্ত্রীদের নিচের বা অঙ্কীয় দেশের চেহারা পুরুষের মতো একই থাকে। শীতল দিনে রং বেশি গাঢ় হয়। স্ত্রী প্রজাপতির আকার পুরুষের চেয়ে একটু বড় হয়। গাঢ় কালো রঙের প্রতিটি ডানার মাঝখানে একটি করে সাদাটে ছোপ থাকে, যার কিনারা থেকে নীল দ্যুতি বের হয়। সামনের ডানায় এক সারি সাদা ছোট বৃত্ত থাকে। পক্ষান্তরে পুরুষ নীল পুনম হয় একরূপী। ডানার পৃষ্ঠদেশ কুচকুচে কালো, তাতে সুস্পষ্ট তিনটি ছোপ বা দাগ থাকে, সামনের ডানায় থাকে দুটি ও পেছনের ডানায় থাকে একটি। 

স্ত্রী নীল পুনম পাতার নিচের দিকে ফ্যাকাশে ও স্বচ্ছ কাচের মতো সবুজাভ গম্বুজাকৃতির ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বের হওয়ার পর এরা প্রায় ১৪ থেকে ২৪ দিন পর্যন্ত বাচ্চা বা কীড়া (Caterpillar) অবস্থায় থাকে। এই সময়ে এরা মূলত উদ্ভিদের কচি পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে। বেড়েলা, বড় নুনিয়া, পর্তুলিকা, মিষ্টিআলু ও তুঁত ইত্যাদি গাছ এদের প্রধান আশ্রয়স্থল এবং খাবার উৎস। স্ত্রী নীল পুনম প্রজাপতি বেশ মাতৃত্বপরায়ণ, তাদের মধ্যে চরম মাতৃত্ব স্বভাব দেখা যায়। কোথাও ডিম পাড়ল–এ নিয়ে সাধারণত অন্য প্রজাপতিরা তার কোনো খোঁজখবর রাখে না। কিন্তু নীল পুনম প্রজাপতি ডিম পাড়ার আগে ভালো করে দেখে নেয় যে সে পাতায় কোনো পিঁপড়ে আছে কি না। ডিম ফুটে বাচ্চা বের না হওয়া পর্যন্ত ওরা সক্রিয়ভাবে ডিমগুলো পাহারা দেয়।

ডিমগুলোর ওপর তারা একধরনের সুরক্ষামূলক ছাতা তৈরি করে, যা তাদের সন্তানদের বিভিন্ন পরজীবী বোলতার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। অন্য দিকে পুরুষ প্রজাপতিরা নিজেদের এলাকা নিয়ে অত্যন্ত রক্ষণশীল স্বভাবের হয়। তারা হয় প্রচণ্ড ঝগড়াটে ও আক্রমণাত্মক। তার এলাকায় অন্য প্রজাপতি ঢুকে পড়লে তাদের দাবড়িয়ে তাড়িয়ে দেয়। এমনকি অন্য কোনো প্রাণী বা মানুষ দেখলেও তারা সতর্কভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করে। ওদের আর একটা বেশ মজার স্বভাব আছে। প্রজাপতিরা সাধারণত ফুলের মধু ও শিশির খায়। এরাও খায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নীল পুনম প্রজাপতি তা খায় না, ওরা খায় মানুষের কপালের ঘাম ও প্রাণীর মূত্র। ফুলে এদের সহজে দেখা যায় না।

পুরুষ নীল পুনম প্রজাপতির জীবন সত্যিই অদ্ভুত ও ট্র্যাজিক। এরা ফুলের মধুর চেয়ে পচা ফলমূল, ভেজা মাটি বা পচনশীল উপাদান থেকে পুষ্টি উপাদান বেশি গ্রহণ করে। তার ওপর এদের বড় শত্রু ওলবাকিয়া নামের একটি বিশেষ ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়াটি পুরুষ প্রজাপতিদের বংশই ধ্বংস করে দেয়। প্রজাপতি ডিম পাড়ার পর যেসব ডিম থেকে পুরুষ ছানা জন্ম নেওয়ার কথা, ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া শুধু সেসব ডিমেই সংক্রমণ ঘটায়। এর ফলে পুরুষ প্রজাপতিগুলো ডিম ফুটে বের হওয়ার আগেই মারা যায়। সত্যিই অবিশ্বাস্য ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়ার কর্মকাণ্ড।

সম্প্রতি গবেষকরা এসব দেখতে পেয়েছেন। তবে তারা এটিও দেখতে পেয়েছেন যে সামোয়া দ্বীপপুঞ্জের নীল পুনম প্রজাপতিরা ওলবাকিয়ার এই পুরুষ হত্যার বিরুদ্ধে এক অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। প্রজাপতিদের দেহে একটি বিশেষ দমনকারী জিন বিবর্তিত হয়েছে, যা ওলবাকিয়ার এই ক্ষতিকর প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং ওলবাকিয়া থাকা সত্ত্বেও পুরুষ ভ্রূণগুলো সফলভাবে বেঁচে থাকতে ও ফুটে বের হতে পারে।

লেখক: কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ

টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতির মৃত্যু

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতির মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হাতিটি ১৯ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছে।

শনিবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা দিকে পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া এলাকার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ের পাদদেশে হাতিটির মৃত্যু হয়।

বর্তমানে বন বিভাগের সদস্যরা হাতিটির মরদেহ পুঁতে ফেলার উদ্দেশ্য কাজ করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে খাবারের সন্ধানে পাহাড়ি এলাকায় আসে হাতিটি। টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ১০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে যায়। এতে হাতিটির পেটের নিচের অংশসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক থেকে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি দল এনে হাতিটির চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হাতিটি দেখতে আসা ইমরান হোসেন জানান, হাতিটিকে বাঁচানোর জন্য বন বিভাগের লোকজন চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মতে, হাতিটির শরীরের আঘাত খুবই গুরুতর হওয়ায় মারা যায়। কিন্তু তারা একটি বন্য প্রাণীর হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করছেন।

টেকনাফ উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, শুক্রবার দুপুরে পাহাড় থেকে পড়ে আহত হওয়ার পর থেকেই বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেছেন। পরে ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

 টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, আহত হাতিটির পেছনের দুটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ছাড়া পেটেও গুরুতর আঘাত ছিল। দুর্গম অবস্থানের কারণে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।

তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে একটি টিম ময়নাতদন্তের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত শেষে সৎকার করা হবে।

শাহীন/খাদিজা রুমি/

গাজীপুরে জখম হাতির চিকিৎসায় থাই বিশেষজ্ঞ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ এএম
গাজীপুরে জখম হাতির চিকিৎসায় থাই বিশেষজ্ঞ
ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুর সাফারি পার্কে ‘জয়িতা’ নামের একটি হাতির আক্রমণে অপর হাতি ‘রাজু বাহাদুর’ গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, হাতিটির উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশীয় মেডিকেল বোর্ডের পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয়েছে।

চলতি বছরের ২৪ মে গাজীপুর সাফারি পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী রাজু বাহাদুরের উপর হামলা করে চার বছর বয়সী হাতি জয়িতা। আক্রমণে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে গেছে।

সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকার নাইন বলেন, হামলার শিকার হাতি রাজু বাহাদুর পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ছিল। পার্কে থাকা অন্য একটি হাতি থেকে চার বছর আগে জয়িতার জন্ম হয়। বাচ্চা হাতি হওয়ায় জয়িতাকে শেকলে বেঁধে রাখা হতো না। গত ২৪ মে সকালে শেকলে বাঁধা রাজু বাহাদুরের উপর হঠাৎ করে আক্রমণ করে জয়িতা। শেকলে বাঁধা রাজু বাহাদুরের সামনে দুটি পা দুদিকে ছড়িয়ে যায়। এতে একটি পা ভেঙে গেছে। অন্য একটি পায়েও আঘাত পেয়েছে। বর্তমানে রাজু বাহাদুর দাঁড়াতে পারছে না। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড। ধীরে ধীরে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় থাইল্যান্ড থেকে আনা হয় চিকিৎসক। বর্তমানে থাইল্যান্ড থেকে আসা মেডিকেল টিমের পরামর্শ ও দেশের মেডিকেল বোর্ডের যৌথ তত্ত্বাবধানে রাজু বাহাদুরের চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়েছে।

পার্কের একটি সূত্র জানায়, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বিগত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে নারায়নগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ‘রাজু বাহাদুর’ নামের এই হাতিটিকে উদ্ধার করে। জনৈক এক ব্যক্তি হাতিটি দিয়ে বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার হচ্ছিল। খবর পেয়ে বন বিভাগ হাতিটি উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কের হাতিশালায় নিয়ে আসে। উদ্ধারের সময় রাজু বাহাদুরের বয়স ছিল ৯ বছর। তবে এখন এর বয়স ১০ বছরের বেশি।

পলাশ প্রধান/খাদিজা রুমি/

ডাবল পাপড়ির অলকানন্দা ফুল

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
ডাবল পাপড়ির অলকানন্দা ফুল
জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ফোটা ডাবল পাপড়ির অলকানন্দা ফুল। ছবি: লেখক

গরমকাল ফুরিয়ে যায় যায়। এ সময় হঠাৎ একটা ফুল দেখে মনে হলো তার ফোটা বোধহয় শুরু হয়েছে। এ যেন ‘তোমার হলো শুরু/ আমার হলো সারা’ অবস্থা। গ্রীষ্ম ফুরালেও ফুল ফুরায় না। অলকানন্দা ফুলেরা গ্রীষ্মকালেও ফোটে। তবে বর্ষাকালে ওরা যেন নবধারা জলে স্নান সেরে হয়ে ওঠে দারুণ স্নিগ্ধ ও সুন্দরী। হলদে ঘণ্টার মতো ফুল ফুটে লতানো গাছটি যেন চারপাশ আলোকিত করে তোলে। অলকানন্দার এ রূপ এ দেশে দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখে আসছি।

কিন্তু এমন একটা রূপ অলকানন্দার দেখব তা ছিল কল্পনারও অতীত। মাইকের চোঙা বা ঘণ্টার মতো অলকানন্দা ফুলগুলো ফোটে এক সারি পাপড়ি নিয়ে। জাত ও প্রজাতিভেদে তার আকার ও আকৃতি হয় ভিন্ন। রং প্রধানত হলুদ হলেও এখন এ দেশে অন্তত পাঁচ রঙের অলকানন্দা ফুল দেখা যাচ্ছে–হলুদ, সাদা, ঘিয়া, মেরুন ও গোলাপি। তাই বলে ডাবল পাপড়ির অলকানন্দা? ঘন পাপড়িগুলো এমনভাবে রয়েছে যেন গোলাপ ফুল। গত ১৩ জুন মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের নার্সারির ভেতরে একটা গাছে সে রকম কিছু ডাবল পাপড়ির অলকানন্দা ফুল দেখলাম। মালিরা বললেন, এ জাতের গাছ আগে ছিল না, নতুন এসেছে। বৃক্ষমেলায় নেওয়ার জন্য টব রেডি করছি।

অ্যাপোসাইনেসি গোত্রের অ্যালামান্ডাগণের উদ্ভিদগুলো এ দেশে সাধারণভাবে বাংলায় অলকানন্দা নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ১৭৭১ সালে সুইডিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াস অ্যালামান্ডা-গণকে শ্রেণিবিন্যস্ত ও বর্ণনা করেন। তিনি সুইস উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক ফ্রেডেরিক লুই অ্যালামান্ডের (১৭৩৬-১৮০৯) সম্মানে এ গণের নামকরণ করেন অ্যালামান্ডা। ‘উইলিয়ামসি’ নামটি ১৮৯১ সালে ব্রিটিশ উদ্যানতত্ত্ব বিষয়ক প্রকাশনা ‘গার্ডেন’-এ প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়। সে সময় এই ফুল ইংল্যান্ডে প্রবেশ করে। পরে বিশ শতকের প্রথম দিকে উদ্ভিদবিজ্ঞানী এল এইচ বেইলি একে অ্যালামান্ডা ক্যাথার্টিকা ভার উইলিয়ামসি নামে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্বতন্ত্র জাত হিসেবে স্বীকৃতি দেন। 

অ্যালামান্ডা-গণে সারা পৃথিবীতে ১২ থেকে ১৫টি প্রজাতির গাছ রয়েছে। বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত প্রজাতি পাওয়া গেছে দুটি। গাছটি এসেছে ব্রাজিল থেকে। বিদেশি সেই ফুলকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় অলকানন্দা নাম দিয়ে আপন করে নিয়েছেন- ‘রাত্রিজাগর রজনীগন্ধা-/ করবী রূপসীর অলকানন্দা-/ গোলাপে গোলাপে মিলিয়া মিলিয়া রচিবে মিলনের পালা।’ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা কালজয়ী আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানেও অলকানন্দার উল্লেখ পাওয়া যায়- ‘পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা অলকানন্দা যেন,/ এমন সময় ঝড় এলো, এক ঝড় এলো খ্যাপা বুনো।’ কিন্তু কবিদের এই অলকানন্দাই আসল হলদে অলকানন্দা। ডাবল পাপড়ির অলকানন্দা ফুলও হলুদ, তবে যেন একটু বেশি হলুদ, সুমিষ্ট ঘ্রাণ আর ব্যতিক্রমী রূপ যেন অলকানন্দাদের জগতে তাকে আলাদা আসন দিয়েছে। ডাবল অলকানন্দার ইংরেজি নাম রাখা হয়েছে গোল্ডেন ট্রাম্পিট ভাইন, প্রজাতিগত নাম Allamanda cathartica var. williamsii. কেউ কেউ একে পৃথক প্রজাতি হিসেবে অ্যালামান্ডা উইলিয়ামসি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কিউ সায়েন্সের ‘প্ল্যান্টস অব দ্য অনলাইন’ অনুসারে একে স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বরং তাকে ১৯৩৩ সালে অ্যালামান্ডা ক্যাথার্টিকার একটি জাত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অন্য অলকানন্দা গাছের মতো এটিও লতানে গুল্ম প্রকৃতির চিরসবুজ গাছ। পাতা সবুজ, চকচকে, উজ্বল, আয়তাকার থেকে বর্শাকৃতি, দৈর্ঘ্য ৬ থেকে ১২ সেন্টিমিটার, অগ্রভাগ তীক্ষ্ণ।

এ গাছের ডাল ভাঙলে সাদা দুধের মতো কষ বা রস বের হয়। এই কষ অনেক সময় ত্বকে লাগলে ত্বক চুলকায়। তাই গাছ ছাঁটার সময় সতর্ক থাকতে হয়। আধো-ছায়া জায়গায় এ গাছ ভালো জন্মে। নিয়মিত পানি দিতে হয়। প্রায় সারা বছরই ফুল ফোটে, তবে বর্ষাকালে বেশি ফোটে। ফুল ঘণ্টাকৃতির হলেও তার পাপড়ি থাকে দুই স্তরে সাজানো। বাইরের স্তরে পাঁচটি পাপড়ির অগ্রপ্রান্ত বিযুক্ত, ভেতরের স্তরে থাকা পাপড়িগুলো গুচ্ছিত ও কুঁচকানো। পাপড়ির রং উজ্জ্বল হলুদ বা কমলা-হলুদ, সুগন্ধ আছে। পূর্ণ ফোটা ফুলের পাপড়ির বিস্তার প্রায় তিন ইঞ্চি। বাগানের যে অংশের মাটি স্যাঁতসেঁতে বা ভেজা ও কিছুটা ছায়াময় থাকে সেখানে এ গাছ লাগানো যায়। লতাকে কোনো অবলম্বনে বাইয়ে দিলে ঝোপ করতে পারে। বড় পাত্র বা ড্রামে লাগালে প্রতি বছর গাছ ছাঁটতে হয়। না হলে গাছের লতা বা ডালপালা ছড়িয়ে বেয়াড়া ও বেঢপ হয়ে পড়ে। শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে গাছ ছাঁটা ভালো। কেটে ফেলা শক্ত কাঠের ডাল কাটিং করে চারা তৈরি করা যায়। যেকোনো বাগানে ডাবল অলকানন্দা বৈচিত্র্য আনতে পারে।