একসময় নরসিংদীর মেঘনা তীরের জমি ছিল পরিত্যক্ত। কেউ চাষাবাদ করতেন না। এখন সেই জমিতে সোনা ফলছে। কেউ সেখানে ফলাচ্ছেন শস্য। আবার কেউ গড়ে তুলছেন কৃষি পর্যটন। এমন একটি কৃষি পর্যটন হলো ‘সূর্যমুখী গ্যালারি ভিউ’।
ভ্রমণপিপাসু পল্লি চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম মাসুম গড়ে তুলেছেন এটি। দর্শকদের সেখানে রীতিমতো টিকিট কেটে উপভোগ করতে হয় সূর্যমুখীর মুগ্ধতা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নরসিংদী পৌর শহরের নাগরিয়াকান্দি সেতুসংলগ্ন মেঘনা তীরবর্তী বিশাল এলাকাজুড়ে সূর্যমুখীর বাগান গড়ে উঠেছে। দৃষ্টিনন্দন গেটের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানো হয়েছে। বাগানে প্রবেশ করতে কাউন্টার থেকে ৩০ টাকার টিকিট কিনতে হয়। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা সূর্যমুখী বাগানে প্রবেশ করে উচ্ছ্বসিত।
দর্শনার্থীরা মেঘনা তীরে গ্যালারি ভিউ সূর্যমুখীর বাগানকে ‘দেশসেরা’ বলে অভিহিত করছেন। তাদের কেউ এখানে এসেছেন প্রিয়জনের সঙ্গে। আবার কেউ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে। তরুণ-তরুণীরা প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে নিজেদের মুঠোফোনে সেলফিবন্দি করে রাখছেন। পড়ন্ত বিকেলে সবুজ প্রকৃতির মাঝে হলুদের ছোঁয়া আর শীতের উষ্ণতা আরও মনোমুগ্ধ করে তুলেছে তাদের।
ঢাকা থেকে দুই বন্ধু ও পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন ফাহিজা নামে এক গৃহিণী। তিনি বলেন, ‘মনোমুগ্ধকর পরিবেশ ও সৌন্দর্য দেখে খুবই ভালো লেগেছে।’ তবে ভালো খাবার হোটেল ও শৌচাগার না থাকায় তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
বাগানটির প্রবেশ মুখে কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করছেন জমির মালিক ও সূর্যমুখী বাগানের পরিচালক মাহাবুবুর রহমান। তিনি বলেন, এ বছর বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে বাগানটি। এক টিকিটে দুটি জোনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন দর্শানার্থীরা। দেশি ফুলের ‘আপন’ হাউসটি এবার সাজানো হয়েছে টিউলিপ দিয়ে। তাই এবার গতবারের চেয়ে দর্শানার্থী বেশি।
বাগানটির উদ্যোক্তা ও পল্লি চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘আমি একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। আমরা দর্শনার্থীদের ব্যতিক্রমী কিছু উপহার দিতে চাই। পরিত্যক্ত জমিতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সুর্যমুখী বাগান করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের আগ্রহের কারণে বাগানটিকে বিনোদন কেন্দ্রে রূপ দেওয়া হয়েছে। বাগানটির অন্যতম আর্কষণ হলো নদীর পাড়, যা অন্য কোথাও নেই। এবার ১৫ বিঘা জমিতে বাগান করা হয়েছে। সূর্যমুখী বাগানের পাশাপাশি রয়েছে টিউলিপসহ দেশীয় ফুলের আপন হাউস। এখানে প্রতিদিন হাজারের ওপরে দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন। ছুটির দিনে পাঁচ হাজার পেরিয়ে যায় দর্শনার্থী।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজিজুর রহমান বলেন, এ বছর নরসিংদী জেলায় ২৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী বীজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ২০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে নাগরিয়াকান্দির স্থানীয় উদ্যোক্তারা ২২ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। এটি কৃষি পর্যটন হিসেবে গড়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, মানবদেহে বেশ উপকারী সূর্যমুখী তেল। বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষ করে অনেক কৃষক লাভবান হচ্ছেন। আবার ভ্রমণপিপাসুদেরও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সূর্যমুখীর বাগান।