ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ জরুরি: কাদের গনি চৌধুরী

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩২ পিএম
আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৫, ০৭:৫৩ পিএম
সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ জরুরি: কাদের গনি চৌধুরী
সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হলেও, এটি এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আইনি ও ক্ষমতামূখী সাংবাদিকতা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বড্ড অন্তরায় সৃষ্টি করছে। সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কোনো আইন নেই। এই যখন অবস্থা, তখন সাংবাদিকদের একটি অংশ সেলফ সেন্সরশিপে চলে গিয়ে নিজেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে। আমাদের প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকতা কি অপরাধ? জনস্বার্থে তথ্য অনুসন্ধান এবং তা প্রকাশ করতে গিয়ে কেন সাংবাদিকেরা ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন?’

শনিবার (৮ মার্চ) বিকেলে সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। 

সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সহকারি মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, বিএফইউজে নির্বাহী পরিষদ সদস্য মির্জা সেলিম রেজা, বগুড়া প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক ওয়াসিকুর রহমান বেচাল, সদস্য সচিব সবুর শাহ লোটাস, আবদুল ওয়াদুদ, মমিনুর রশিদ শাইন, আবদুর রহিম, সৈয়দ ফজলে রাব্বি ডলার, মতিউল ইসলাম সাদি, মাহফুজ মন্ডল মোস্তফা মোগল। 

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের সামনে যে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এ পেশার স্বাধীনতা।গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে সত্য তুলে ধরা যায় না। আর সত্য লিখা না গেলে বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকলে পাঠক বা দর্শক প্রত্যাখ্যান করে।

কাদের গনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের বিবেকের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ,তথ্য সন্ত্রাস পরিহার করে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে হবে। সঠিক তথ্য জেনে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করলে মানুষ বিভ্রান্ত হয়, সংবাদ মাধ্যমের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে। সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা। আজকের তথ্য-প্রযুক্তির যুগে ভুয়া খবর বা প্রোপাগান্ডা খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেকেই প্রকৃত সাংবাদিকতা এবং ভুয়া সংবাদ বিভ্রান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অনেক সংবাদমাধ্যম পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ প্রকাশ করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা অনেক সময় নিজেদের কাজের যথার্থতা প্রমাণে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। গুজব, মিথ্যা আর চেক অ্যান্ড ব্যালান্স ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য সমাজ তথা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা বাড়াচ্ছে। তাই সাংবাদিকদের আরও সচেতন হতে হবে।

বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তির কারণে ভয়ভীতি মাথায় রেখে সাংবাদিকদের কাজ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভাজনের কারণে সাংবাদিকরা এই ভয়-ভীতি থেকে নিজেদের বের করতে পারেন না। আগে ইউনিয়ন যখন একটা ছিল। চাকরি গেলে বা কোনো চাপের মুখে পড়লে বা প্রতিষ্ঠান পাওনা না দিলে, মালিকদের সঙ্গে দেন দরবারের জন্য, বা অধিকার নিশ্চিত করতে গেলে তার পাশে নেতারা আছেন, এই ভরসাটুকু পেলে পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যেতো। এখন অনৈক্যের কারণে ইউনিয়ন সেভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই সংকট উত্তরণের জন্য ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

সাংবাদিকদের এ নেতা বলেন, ‘আমরা-ওরা’, এসব বিভাজন আগের সাংবাদিকতায় ছিল না। ইদানিং এটা বড্ড বেড়ে গেছে। এক বলয়ের সাংবাদিকরা অন্য বলয়ের সঙ্গে এক টেবিলে বসেও না। ইদানীং সাংবাদিকদের প্রথমেই একটি জার্সি গায়ে দিতে হয়। অর্থাৎ তুমি সরকারি দলের কিংবা বিরোধী দলের এ রকম কিছু একটা হতে হবে। খুব কম সাংবাদিকই আজকে সাহস করে বলতে পারছেন- ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষক নই, আমার গায়ে কোনো জার্সি নেই, আমি কেবল দেশের সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধি’। আগেও সাংবাদিকরা রাজনৈতিক মতাদর্শ লালন করতেন, কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে থাকতেন পুরো নিরপেক্ষ। এখন সাংবাদিকদের কেউ কেউ দলদাসের ভূমিকায় অবতীর্ণ।

তিনি বলেন, নিজেদের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা মর্যাদা হারাচ্ছেন। যখন কোনো একজন ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, তিনি তখন সে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। কিন্তু যখন কোনো সাংবাদিক কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন, তখন তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নন। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে মিডিয়ার প্রতিনিধি। আমরা যেন সাংবাদিক থাকি, কর্মচারী হয়ে না যাই। আগে সাংবাদিকরা কাউকে স্যার বলতো না, তোষামোদী করতো না। এখন এই তোষামোদী বেড়ে গেছে। মালিক পক্ষ ও সম্পাদকদের স্যার বলতে বলতে এখন ফেনা তুলে ফেলেন সাংবাদিকরা। অর্থাৎ আমরা মিডিয়া প্রতিনিধি না থেকে কর্মচারী হয়ে যাচ্ছি। সাংবাদিকের কাজ সত্যকে খুঁজে বের করা এবং সে সত্যকে রক্ষা করা। সত্য না থাকলে আস্থা থাকে না; আর আস্থার অভাব হলে গণতন্ত্র থাকে না। ক্ষমতাশালীদের  অপকর্মগুলো সাংবাদিকরা তুলে না ধরলে এসব অপকর্মের লাগাম টানার কাজটি করবেন কী করে। তাহলে তো অপকর্ম বাড়তেই থাকবে। সমাজ ভেঙ্গে পড়বে।

সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা সম্পর্কে কাদের গণি বলেন, এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সাংবাদিকরা দমে যেতে পারেন না। সাংবাদিকদের মোটা বেতন নেই, ঈদ-পূজোয় বোনাসের নিশ্চয়তা নেই, অবসরের পর নিশ্চিন্ত জীবনযাপনের মতো পেনশন নেই, ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে দেওয়া ছুটি তো নেই-ই। কয়েকটা দিন ছুটি নিয়ে পরিবারকে নিয়ে একটু ঘুরে বেড়ানোরও কোনো সুযোগ নেই। উৎসবের দিনেও সংবাদ সংগ্রহে কিংবা প্রচার-প্রকাশে ব্যস্ত থাকতে হয়। তারপরও নিরলসভাবে কাজ করে যান সাংবাদিকরা।

তিনি বলেন, ইতিহাসের ছত্রে ছত্রে যেখানেই রাষ্ট্রের দমন-পীড়ন কিংবা অত্যাচার হয়েছে, সেখানেই চিন্তাশীল মানুষদের প্রতিরোধ এসেছে। সাংবাদিকরা এ চিন্তাশীলদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন সমাজের বুকে। তাই তাদের কাজে থাকে সুন্দর আর সত্য সৃষ্টির গভীর উন্মাদনা। পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন কিছু জানার, জানাবার, নতুন কিছু শেখার এবং অন্য কিছু করার ভীষণ রকম তাগিদও আছে সাংবাদিকতায়। সে তাগিদেই সব ঝুঁকি, সব কষ্ট এড়িয়ে দুঃসাহস দেখাতে পারেন সাংবাদিকরা। সত্য অনুসন্ধানে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে তাদের অদম্য মানসিকতার সব চাহিদা। এজন্য সাংবাদিকদের বলা হয়, সমাজের ওয়াচডগ।

মাহফুজ

রামিসাসহ সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
রামিসাসহ সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র। একই সঙ্গে রামিসাসহ এ পর্যন্ত সংঘটিত সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। 

রবিবার (২৪ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনএসকে) আয়োজিত প্রতিবাদী মানববন্ধন থেকে তারা এসব দাবি জানান। কর্মসূচির স্লোগান ছিল-'কোনো প্রতিশ্রুতি চাই না, WE WANT JUSTICE'।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু।

এ সময় তিনি বলেন, গত ৫ মাসে দেশে ১১৮ শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৭ শিশু। এসব ঘটনায় শিশুদের নিয়ে তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকরা উদ্বিঘ্ন। এমন পরিস্থিতিতে রামিসা, ইরাসহ সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচার আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

নাঈম/

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই
ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক, এনটিভি ও দৈনিক জনকণ্ঠের সাবেক জেলা প্রতিনিধি ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুরারোগ্য ক্যানসার আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ বাদ জোহর ফেনীর ঐতিহাসিক মিজান ময়দানে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। 

ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ফেনীর জনপদে সাংবাদিকতা করেছেন। তার মৃত্যুতে জেলার সাংবাদিক, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। 

তোফায়েল আহাম্মদ/খাদিজা রুমি/

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক
পুরস্কারপ্রাপ্ত সাত সাংবাদিক। ছবি: বিজ্ঞপ্তি
দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাতের ওপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ পেয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাত সাংবাদিক।
 
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কনফারেন্সরুমে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
 
প্রিন্ট বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের সুকান্ত হালদার, দ্য ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম ও এম মুনির হোসেন। 
 
টেলিভিশন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর দেলাওয়ার হোসেন দোলন ও একাত্তর টিভির রাকিব হোসেন।
 
অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন জাগো নিউজ ২৪-এর নাজমুল হোসেন ও একুশে পত্রিকা ডটকমের শরিফুল রুকন।
 
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।
 
প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
 
দেশের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতে অবদান রাখা সাংবাদিকদের সম্মাননা জানাতে প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করেছে দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ।
 
এ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৫ সালে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পখাতের ওপর প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন বিভাগে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিন সদস্যের জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের মাধ্যমে সেরা সাত সাংবাদিককে নির্বাচিত করা হয়।
 
জুরিবোর্ডের সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বম্বে সুইটস এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার খুরশিদ আহমেদ ফরহাদ এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
 
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষি-শিল্পের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণ গ্রুপকে ধন্যবাদ এ উদ্যোগের জন্য। এ ধরনের আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা। দেশের জিডিপি, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে কৃষির অবদান উল্লেখযোগ্য”।
 
পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি অন্যান্য সাংবাদিকদেরও কৃষি অর্থনীতি ও কৃষি-শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আরও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার আহ্বান জানান। তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব প্রতিবেদন সংকলন করে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে সুপারিশ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সাংবাদিকদের নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে।
 
অনুষ্ঠানে ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। কৃষি নির্ভরশীল দেশে এ খাত সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে দেশের অথনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে ও পোশাক শিল্পের পর রপ্তানিতে বড় খাত হয়ে উঠতে পারে।
 
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদানের লক্ষ্য সাংবাদিকদের বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করা। আমাদের আসিয়ানভুক্ত দেশ থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়ার মতো কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি নিয়ে কাজের দারুণ সুযোগ রয়েছে।”
 
তিনি আরও বলেন, “কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের সাংবাদিকদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা আজ অত্যন্ত আনন্দিত। সাংবাদিকরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। তাদের লেখনি সবসময় আমাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের উপর প্রতিবেদনে যেমন কৃষক উপকৃত হন, তেমনি দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হন, পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বাজারজাতকরণে ও রপ্তানির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করা হলে এ খাত উপকৃত হবে।” ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।
 
আমান/

হরিণাকুণ্ডুতে সাংবাদিককে হাতুড়ি দিয়ে হাত-পা ভেঙে গুরুতর জখম

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
হরিণাকুণ্ডুতে সাংবাদিককে হাতুড়ি দিয়ে হাত-পা ভেঙে গুরুতর জখম
দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সবুজ শাহরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার স্থানীয় উপজেলা প্রতিনিধি সবুজ শাহরিয়ারের ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীরা তাকে হাতুড়িপেটা করে তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে দিয়েছে এবং তার মাথায় গুরুতর আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করেছে।

বুধবার (৩ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার জোড়াদহ ইউনিয়নের বেলতলা গ্রামের সজিব ও ইসরাবের চায়ের দোকানের সামনে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিকের ভাই সেলিম জানান, বুধবার রাতে তার ভাই সবুজ শাহরিয়ার বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বেলতলা গ্রামের সজিব ও ইসরাবের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে বাবু চেয়ারম্যানের ক্যাডার রকি, সুজন, সার্জন ও সোহেলসহ ৭/৮ জন সাংবাদিক সবুজ শাহরিয়ার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এতে তার একটি হাত ও পা ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর জখম হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১১টার দিকে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। জোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) জাহিদুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

একজন সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সহকর্মীরা অভিযোগ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন বা কোনো সংবাদের জের ধরে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

আহত সাংবাদিক সবুজ শাহরিয়ারের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে রাতেই তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু করেছেন।

মাহফুজুর রহমান/নাঈম

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:১০ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ
সম্পাদক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমান

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং সম্পাদকদের পেশাগত স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল বা এনইসি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২জুন) দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদকরা এই কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানকে আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, সংগ্রাম সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, লোকসমাজ সম্পাদক শান্তনু ইসলাম সুমিত, ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর ও জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর।

বৈঠকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের সম্পাদকদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।