লিজ-পিপিপির নামে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২৬টি পাটকলের ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যক্তি খাতে চলে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাট খাত চালু : সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ অভিযোগ করেন তারা।
সেমিনারে ২৬টি সরকারি পাটকলসহ দেশের ৭৭টি পাটকল পরিচালনা করতে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন বিজেএমসির বর্তমান কাঠামোকে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে নেতারা।
পরিষদের সমন্বয়ক হারুনুর রশিদ ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এ সভায় বক্তব্য রাখেন অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশাহিদা সুলতানা, শ্রমিকনেতা শামীম ইমাম।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমিকনেতা ক্বাফী রতন।
শামীম ইমাম বলেন, ‘ক্রমাগত লোকসানের যুক্তি দেখিয়ে ২০২০ সালের ২ জুলাই ২৬টি সরকারি পাটকল বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। এতে পাটকলে কর্মরত ৫১ হাজার পাটকল শ্রমিক বেকার হয়ে যান। ৪০ লাখ পাটচাষি ও পাটচাষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত চার কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধ পাটকলগুলো পাবলিক-প্রাইভেট সহযোগিতায় (পিপিপি) পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে লিজ বা পিপিপি পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছে জাতীয় শ্রমিক-কর্মচারী পরিষদ।
ক্বাফী রতন বলেন, ‘আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক-এডিবির ভুল প্রেসক্রিপশন, এদেশের লুটেরা সামাজিকভাবে দায়হীন শাসকশ্রেণির ভ্রান্ত নীতি, ব্যবস্থাপনার দক্ষতার অভাব, ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের দুর্নীতি; সর্বোপরি পুরাতন যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন না করে এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘লিজ বা পিপিপির মাধ্যমে সরকারি কলকারখানা চালানোর অতীত অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ। এটা লুটপাটের রাস্তা অবারিত করে দেবে। বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের ২০১০ সালের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেওয়া ৭৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১টিই বন্ধ হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সস্তায় জমি ও যন্ত্রপাতি লুটপাট করা হয়েছে অথবা পরিত্যক্ত জমি দেখিয়ে বিপুল ব্যাংক ঋণ নেওয়া হয়েছে।’
রতন বলেন, ‘২৬টি পাটকলের জায়গা-জমি-রাস্তা-গোডাউন-নদীর ঘাট এবং যন্ত্রপাতির বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। লোকসানের অজুহাতে জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে লিজ ও পিপিপির নামে রাষ্ট্রের এই সম্পদ তুলে দেওয়া হচ্ছে ব্যক্তির হাতে।’
বিজেএমসিতে দক্ষ ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরির পাশাপাশি বিজেএমসির দুর্নীতি ও লোকসানের দায়ে জড়িত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করার দাবি জানায় এ পরিষদ।
পরিষদের নেতারা বলেন, ‘বিজেএমসিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলোর পুরাতন যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে আধুনিক যন্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল গ্রহণ করতে হবে।’
শ্রমিকদের কাজের সুযোগ অব্যাহত রেখে চীনা প্রযুক্তির মাধ্যমে শত বছরের পুরোনো স্কটল্যান্ড টেকনোলজি পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আধুনিকায়নের পরামর্শও দেন তারা।
জয়ন্ত সাহা/পপি/অমিয়/