ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নতুন ও প্রথম আয়কর রিটার্ন  দাখিলকারীর প্রতি পরামর্শ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জিএম কাদেরের নিন্দা ও উদ্বেগ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন—সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির সুযোগ সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেল না মিশর ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট জর্ডান ম্যাচে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্কালোনির লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ পোড়া ক্ষত সারাতে তেলাপিয়া মাছের চামড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি যাত্রীরা বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসামান্য গদ্যশৈলীর রূপকার

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক রাষ্ট্র সংস্কারে প্রস্তাব চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৪, ১১:০৪ পিএম
আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৪, ১১:৩৭ পিএম
রাষ্ট্র সংস্কারে প্রস্তাব চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
ছবি: পিআইডি

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে রাষ্ট্র সংস্কারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ স্পষ্ট করে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চায় না। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া হবে।

শনিবার (৩১ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ আশ্বাস দেন। 

বৈঠকে তার (প্রধান উপদেষ্টা) সঙ্গে একমত পোষণ করে গণফোরাম, জাতীয় পার্টি, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, তারা প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে একটা যৌক্তিক সময়েই নির্বাচন চান। এ জন্য তাদের তাড়াহুড়ো নেই। তবে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের কী কী সংস্কার আনতে চায় তারও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা জানা দরকার। এ বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি না থাকা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার প্রস্তাব দেন। 

শনিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার করা হয়, সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গণফোরাম, জাতীয় পার্টি, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ছাড়াও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলনসহ ১২-দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় কয়েকজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে চলে এসব বৈঠক। 

মতবিনিময়কালে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে মতামত প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রবীণ আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চান প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ ২০টি প্রস্তাব গণফোরামের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘সংস্কারের আগে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন নয়। সেটি ৬ মাস হোক, ৯ মাস পরে হোক। এলডিপির পক্ষ থেকে আমরা ৮৩টি সুপারিশ করেছি। এগুলো কোনো রাজনৈতিক ফায়দা বা নিজেদের সুবিধার জন্য করিনি।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করব, নিজের স্বার্থ ভুলে যান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ভুলে যান। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন, সে পরিকল্পনা করেন।’ 

বৈঠক শেষে বিকেলে হেফাজতে ইসলামের নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তি দুবারের বেশি নয়, সেই প্রস্তাব তারা দিয়েছেন। এ ছাড়া সংস্কার করে একটা যৌক্তিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন। 

ইসলামি দলগুলোর এমন প্রস্তাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একমত পোষণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর কালবিলম্ব না করে নির্বাচনের দিকে চলে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।

যৌক্তিক সময়টা কত দিনের- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মামুনুল হক বলেন, ‘যৌক্তিক সময়ের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সুনির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নিয়ে আমরা আলোচনা করিনি।’ 

প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিটি দল সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেছে জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘মৌলিকভাবে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার। দেশব্যাপী সব ভোটারের প্রতিনিধিত্ব যাতে জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করা যায়, সে ধরনের একটা মৌলিক পরিবর্তনের সংস্কারের প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার যে ব্যবস্থা এবং যেখান থেকেই স্বৈরতন্ত্রের উদ্ভব, এই জায়গায় যেন ভারসাম্য তৈরি করা হয়, সেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

মামুনুল হক বলেন, হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন আন্দোলনে বহু মামলা এবং শত শত ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন, অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের সন্ধানে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। যারা দায়ী, যারা নির্দেশদাতা তাদেরও যাতে বিচারের মুখোমুখি করা যায়, সে দাবি জানিয়েছেন তারা।

অনেক দল প্রস্তাব করেছে এক ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী নন- এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, ‘একবারের প্রধানমন্ত্রী যদি শেখ হাসিনার মতো হয়, আমরা তাকেও দেখতে চাই না। শুধু চেয়ারের পরিবর্তন হলে হবে না, আদর্শের পরিবর্তনও হতে হবে। আদর্শিক মানুষ যদি চেয়ারে না বসতে পারে, তবে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘হেফাজতের ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২১ সালের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এক মাসের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে এবং রায় কার্যকর করতে হবে।’ 

খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী খবরের কাগজকে বলেন, “একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র সংস্কার ও সব ক্ষেত্রে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির পথ চিরতরে বন্ধ করা, পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা, হেফাজতে ইসলামসহ ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টা এসব দাবি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং আসনভিত্তিক বিজয়ী সংসদ সদস্যদের বাইরে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব, নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা, বর্তমান সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরি এবং গণভোটের মাধ্যমে তা অনুমোদন, হাসিনাকে দ্রুত দেশে এনে বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা এবং তার দোসর, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনালে’ দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।”

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহিদদের ‘জাতীয় বীর’ উপাধি এবং নিহত ও আহতদের দ্রুত তালিকা প্রণয়নসহ তাদের পুনর্বাসন, সাংবিধানিক সব বিভাগকে দ্রুত সংস্কারের আওতায় এনে মানুষের কল্যাণে কর্মক্ষম করে তুলতে হবে। ভারতের সম্পাদিত সব চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল বা ধারা সংশোধন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের অপ্রকাশিত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং নতুন তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা ও আয়নাঘরের গুম ও খুনের যথাযথ বিচার; প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা প্রভৃতি দাবি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগসহ সরকারি কর্মকর্তা যারা সংবিধান ও শপথ লঙ্ঘন করেছেন তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, হেফাজতে ইসলামের পক্ষে মহাসচিব সাজিদুর রহমান, মনির হোসাইন কাসেমী ও আজিজুল হক ইসলামাবাদী, খেলাফত মজলিসের পক্ষে সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেন, যোগ্যদের দিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছি। এসব জায়গায় একটা স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগে নির্বাচন হলে আবারও আগের সেই পরিবেশের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন, স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনাল গঠন করে জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ১৩ দফা দাবি প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়া হয়।

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় তিন শতাধিক মামলা আমরা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। সেই মামলাগুলো নির্বাহী আদেশ এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে প্রত্যাহারের ব্যবস্থার কথা বলেছি।’

জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানোর সমালোচনা করে ১২-দলীয় ঐক্যজোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, এই জি এম কাদের গং ছলে-বলে-কৌশলে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শহিদ আবু সাঈদ নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিহত মুগ্ধর স্মৃতি ধরে রাখতে উত্তরাকে মুগ্ধনগর করতে প্রস্তাব করেছি।’ 

বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম। তারা বলেন, রাষ্ট্রের কী কী সংস্কার প্রয়োজন তা এখনো রাজনৈতিক দলগুলো দেয়নি। রাষ্ট্রীয় ও প্রতিষ্ঠান কাঠামোতে কতটা এবং কী সংস্কার লাগবে, বিচার বিভাগের কতটা সংস্কার লাগবে, সংবিধান নতুনভাবে লিখতে হবে, নাকি সংবিধানের বিশেষ কিছু ধারাতে পরিবর্তন আনতে হবে, সেসব নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

তারা জানান, বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমাতে হবে, ক্ষমতায় ভারসাম্য নিয়ে আসতে হবে। আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের সংস্কারের কথা বলেছেন। শিক্ষানীতির আমূল পরিবর্তনের কথা বলেছেন। ইসলামিক দলগুলোর ওপর করা মামলা এক মাসের মধ্যে তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিছু কিছু তদন্ত আবারও নতুনভাবে করার কথা বলেছেন রাজনৈতিক নেতারা। বিশেষভাবে হেফাজতের ঘটনায় নিহত এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশের সফরে এলে প্রতিবাদ করতে গিয়ে যারা নিহত হন, এসব ঘটনার তদন্ত আবারও করতে বলেছেন। 

তারা আরও বলেন, সংস্কার প্রস্তাবের ওপর নির্ভর করবে এই সরকার কতদিন দায়িত্বে থাকবে। একটি শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড় করিয়ে নির্বাচন দেওয়ার কথাও বলেছে রাজনৈতিক দলগুলো। বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া সংস্কার প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে সংস্কার বিষয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। 

শফিকুল আলম বলেন, ছাত্ররা রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলছেন। এই মেরামত কীভাবে হবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত দিয়েছে, কেউ কেউ পরে মতামত জানানোর কথা বলেছেন। ক্ষমতায় বসার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। এর আগে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়।

শুক্রবার বেলা ৩টায় শুরু হয় খেলাফত মজলিসের দুই অংশের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভা। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আলোচনায় অংশ নেয়। বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, বাংলাদেশ জাসদ, ১২-দলীয় জোট, গণফোরামও বৈঠকে অংশ নিয়েছে।

ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
ছবি: খবরের কাগজ

পরীক্ষায় নকলের কৌশল সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিব, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর দ্রুত কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় ফাঁকা রাখলে শিক্ষার্থীরা কোচিংনির্ভর হয়ে পড়তে পারে, তাই ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা কাঠামোকে সময়োপযোগী করতে পাঠ্যক্রম ও সিলেবাস নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের তথ্যভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মূল্যবোধসম্পন্ন এবং বাস্তবজীবনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণের পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব শিক্ষা বোর্ডের উত্তরপত্র থেকে নমুনা ভিত্তিকভাবে খাতা পুনরায় যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি। এতে নম্বর প্রদানে কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বর্তমানে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

সভায় তিনি আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য কমিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই মানদণ্ডে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও যুগোপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এসএন/

মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনও রাষ্ট্রীয় কাজ নেই এবং সংসদীয় কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকা অত্যন্ত জরুরি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে শুরু থেকেই স্পিকার সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, কোনও মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকেন না।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সেসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সরাসরি শোনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যদি নিয়মিত উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা কমে যায় এবং জবাবদিহিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলার বিষয়েও প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অধিবেশন চলাকালে অনেক সময় কয়েকজন সদস্যকে ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা করতে দেখা যায়। এতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুসরণ করতেও অন্য সদস্যদের অসুবিধা হয়। একদিকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে আলাদা বৈঠকের মতো পরিবেশ তৈরি হওয়া সংসদের শৃঙ্খলা ও ডিসেন্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জবাবে স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থেকে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শোনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমি আবারও তাগিদ দিচ্ছি— কোনও রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে।”

স্পিকার আরও বলেন, মন্ত্রীদের উচিত যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা, নিজ নিজ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে ছোট ছোট দলে আলোচনা, আসন ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কথাবার্তা বলা এবং এমনকি ‘ফ্লোর ক্রসিং’-এর ঘটনাও তার নজরে এসেছে। তিনি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ আসনে বসে কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, সোমবার জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকায় কয়েকজন মন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে পয়েন্ট অব অর্ডার নিষ্পত্তির পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।

এলিস/নাঈম

গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচিত বক্তব্য ও গুজব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তবে এসব বিষয়কে পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতাভুক্ত নয় উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, গুজব কিংবা বিচারাধীন বিষয় নিয়ে সংসদের মূল্যবান সময় ব্যয় করা যাবে না।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন  পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়গুলো উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তিনি বলেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সংসদের অভিজ্ঞ সদস্য। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা, শপথ গ্রহণসংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং কবে সংসদে যোগ দিতে পারবেন— এ বিষয়ে সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি সরকারদলীয় দুই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আলোচিত ঋণখেলাপি ও মামলাসংক্রান্ত বিষয়গুলোর বর্তমান অবস্থাও জানতে চান। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য এবং শরীফ ওসমান হাদিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিচারসংক্রান্ত আলোচনা ও গুজবের বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

জবাবে স্পিকার বলেন, মির্জা আব্বাস ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে যথাসময়ে সংসদে যোগ দেবেন।

গুজব ও বিচারাধীন বিষয় প্রসঙ্গে স্পিকার আরও বলেন, “কে কী বলেছে বা কার সম্পর্কে কী বলা হয়েছে এসব নিয়ে জাতীয় সংসদের সময় নষ্ট করা যায় না। যেসব বিষয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, সেসব বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে। কারও সংসদ সদস্যপদ নিয়ে সাংবিধানিক বা আইনি কোনও সিদ্ধান্ত হলে সংসদকে যথাসময়ে তা অবহিত করা হবে।”

এ সময় চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং গুজব নিয়ে সংসদে আলোচনা করার সুযোগ নেই। পয়েন্ট অব অর্ডারের নামে যাতে সংসদের মূল্যবান সময় অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে ব্যয় না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

পরে স্পিকার সংসদ সদস্যদের চলমান ও সংসদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের আহ্বান জানান এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংসদের সময় ব্যয় না করার পরামর্শ দেন।

এলিস/নাঈম

চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। ছবি: সংগৃহীত

চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি অবৈধ মজুতদার ও বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি জানান, নিম্নআয়ের ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল যথাসময়ে ও সঠিকভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ জন্য খাদ্যবান্ধব ডাটাবেজের মাধ্যমে চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাই সহজ হবে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা নির্ধারিত সময়ে খাদ্য সহায়তা পাবেন এবং বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।

সংসদে দেওয়া তথ্যে তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের মানুষের চাপ কমাতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে কার্যকর রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজারে চালের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।

এলিস/এসএন

অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং প্রধানমন্ত্রী | ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে আলোইস জভিংগি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা প্রদান করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোইস জভিংগি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি করবে।

তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/