বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে রাষ্ট্র সংস্কারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ স্পষ্ট করে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চায় না। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া হবে।
শনিবার (৩১ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ আশ্বাস দেন।
বৈঠকে তার (প্রধান উপদেষ্টা) সঙ্গে একমত পোষণ করে গণফোরাম, জাতীয় পার্টি, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, তারা প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে একটা যৌক্তিক সময়েই নির্বাচন চান। এ জন্য তাদের তাড়াহুড়ো নেই। তবে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের কী কী সংস্কার আনতে চায় তারও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা জানা দরকার। এ বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি না থাকা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার প্রস্তাব দেন।
শনিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার করা হয়, সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গণফোরাম, জাতীয় পার্টি, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ছাড়াও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলনসহ ১২-দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় কয়েকজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে চলে এসব বৈঠক।
মতবিনিময়কালে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে মতামত প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রবীণ আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চান প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ ২০টি প্রস্তাব গণফোরামের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘সংস্কারের আগে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন নয়। সেটি ৬ মাস হোক, ৯ মাস পরে হোক। এলডিপির পক্ষ থেকে আমরা ৮৩টি সুপারিশ করেছি। এগুলো কোনো রাজনৈতিক ফায়দা বা নিজেদের সুবিধার জন্য করিনি।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করব, নিজের স্বার্থ ভুলে যান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ভুলে যান। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন, সে পরিকল্পনা করেন।’
বৈঠক শেষে বিকেলে হেফাজতে ইসলামের নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তি দুবারের বেশি নয়, সেই প্রস্তাব তারা দিয়েছেন। এ ছাড়া সংস্কার করে একটা যৌক্তিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন।
ইসলামি দলগুলোর এমন প্রস্তাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একমত পোষণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর কালবিলম্ব না করে নির্বাচনের দিকে চলে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
যৌক্তিক সময়টা কত দিনের- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মামুনুল হক বলেন, ‘যৌক্তিক সময়ের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সুনির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নিয়ে আমরা আলোচনা করিনি।’
প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিটি দল সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেছে জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘মৌলিকভাবে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার। দেশব্যাপী সব ভোটারের প্রতিনিধিত্ব যাতে জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করা যায়, সে ধরনের একটা মৌলিক পরিবর্তনের সংস্কারের প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার যে ব্যবস্থা এবং যেখান থেকেই স্বৈরতন্ত্রের উদ্ভব, এই জায়গায় যেন ভারসাম্য তৈরি করা হয়, সেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মামুনুল হক বলেন, হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন আন্দোলনে বহু মামলা এবং শত শত ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন, অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের সন্ধানে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। যারা দায়ী, যারা নির্দেশদাতা তাদেরও যাতে বিচারের মুখোমুখি করা যায়, সে দাবি জানিয়েছেন তারা।
অনেক দল প্রস্তাব করেছে এক ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী নন- এমন প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, ‘একবারের প্রধানমন্ত্রী যদি শেখ হাসিনার মতো হয়, আমরা তাকেও দেখতে চাই না। শুধু চেয়ারের পরিবর্তন হলে হবে না, আদর্শের পরিবর্তনও হতে হবে। আদর্শিক মানুষ যদি চেয়ারে না বসতে পারে, তবে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘হেফাজতের ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২১ সালের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এক মাসের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে এবং রায় কার্যকর করতে হবে।’
খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী খবরের কাগজকে বলেন, “একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র সংস্কার ও সব ক্ষেত্রে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির পথ চিরতরে বন্ধ করা, পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা, হেফাজতে ইসলামসহ ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টা এসব দাবি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং আসনভিত্তিক বিজয়ী সংসদ সদস্যদের বাইরে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব, নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা, বর্তমান সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরি এবং গণভোটের মাধ্যমে তা অনুমোদন, হাসিনাকে দ্রুত দেশে এনে বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা এবং তার দোসর, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনালে’ দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।”
এ ছাড়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহিদদের ‘জাতীয় বীর’ উপাধি এবং নিহত ও আহতদের দ্রুত তালিকা প্রণয়নসহ তাদের পুনর্বাসন, সাংবিধানিক সব বিভাগকে দ্রুত সংস্কারের আওতায় এনে মানুষের কল্যাণে কর্মক্ষম করে তুলতে হবে। ভারতের সম্পাদিত সব চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল বা ধারা সংশোধন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের অপ্রকাশিত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং নতুন তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা ও আয়নাঘরের গুম ও খুনের যথাযথ বিচার; প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা প্রভৃতি দাবি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগসহ সরকারি কর্মকর্তা যারা সংবিধান ও শপথ লঙ্ঘন করেছেন তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, হেফাজতে ইসলামের পক্ষে মহাসচিব সাজিদুর রহমান, মনির হোসাইন কাসেমী ও আজিজুল হক ইসলামাবাদী, খেলাফত মজলিসের পক্ষে সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেন, যোগ্যদের দিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছি। এসব জায়গায় একটা স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগে নির্বাচন হলে আবারও আগের সেই পরিবেশের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন, স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনাল গঠন করে জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ১৩ দফা দাবি প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়া হয়।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় তিন শতাধিক মামলা আমরা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। সেই মামলাগুলো নির্বাহী আদেশ এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে প্রত্যাহারের ব্যবস্থার কথা বলেছি।’
জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানোর সমালোচনা করে ১২-দলীয় ঐক্যজোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, এই জি এম কাদের গং ছলে-বলে-কৌশলে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শহিদ আবু সাঈদ নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিহত মুগ্ধর স্মৃতি ধরে রাখতে উত্তরাকে মুগ্ধনগর করতে প্রস্তাব করেছি।’
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম। তারা বলেন, রাষ্ট্রের কী কী সংস্কার প্রয়োজন তা এখনো রাজনৈতিক দলগুলো দেয়নি। রাষ্ট্রীয় ও প্রতিষ্ঠান কাঠামোতে কতটা এবং কী সংস্কার লাগবে, বিচার বিভাগের কতটা সংস্কার লাগবে, সংবিধান নতুনভাবে লিখতে হবে, নাকি সংবিধানের বিশেষ কিছু ধারাতে পরিবর্তন আনতে হবে, সেসব নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।
তারা জানান, বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমাতে হবে, ক্ষমতায় ভারসাম্য নিয়ে আসতে হবে। আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের সংস্কারের কথা বলেছেন। শিক্ষানীতির আমূল পরিবর্তনের কথা বলেছেন। ইসলামিক দলগুলোর ওপর করা মামলা এক মাসের মধ্যে তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিছু কিছু তদন্ত আবারও নতুনভাবে করার কথা বলেছেন রাজনৈতিক নেতারা। বিশেষভাবে হেফাজতের ঘটনায় নিহত এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশের সফরে এলে প্রতিবাদ করতে গিয়ে যারা নিহত হন, এসব ঘটনার তদন্ত আবারও করতে বলেছেন।
তারা আরও বলেন, সংস্কার প্রস্তাবের ওপর নির্ভর করবে এই সরকার কতদিন দায়িত্বে থাকবে। একটি শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড় করিয়ে নির্বাচন দেওয়ার কথাও বলেছে রাজনৈতিক দলগুলো। বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া সংস্কার প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে সংস্কার বিষয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা।
শফিকুল আলম বলেন, ছাত্ররা রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলছেন। এই মেরামত কীভাবে হবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত দিয়েছে, কেউ কেউ পরে মতামত জানানোর কথা বলেছেন। ক্ষমতায় বসার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। এর আগে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়।
শুক্রবার বেলা ৩টায় শুরু হয় খেলাফত মজলিসের দুই অংশের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভা। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আলোচনায় অংশ নেয়। বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, বাংলাদেশ জাসদ, ১২-দলীয় জোট, গণফোরামও বৈঠকে অংশ নিয়েছে।