ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্বপ্নের রাজপুত্র ইয়ামাল শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল আইপিডিসি সজীবতার গান গেয়ে এল বর্ষা বন্ধ চিনিকল চালুর উদ্যােগ ১৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ১৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা বাজেট প্রস্তাবের পর শেয়ারবাজারে উত্থান চমৎকার জয়ফুল মথ টাকা সাদা করার সুবিধা আছে, না নেই! সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও ট্রিলিয়নিয়ার হলেও ইলন মাস্ক থাকেন ৪০০ ফুটের ছোট্ট বাড়িতে সোনালি দিনের খোঁজে স্পেন একসময়ের দাতা এখন গ্রহীতা নীল হাঙরের নাবিক রায়ান মেন্দেস লা রোজার সামনে রূপকথার নায়ক! ১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পেছনে যুদ্ধ, সামনে বিশ্বকাপ মরুর সাহস, উরুগুয়ের ইতিহাস দুর্দান্ত বেলজিয়ামের সামনে সালাহর মিসর নেদারল্যান্ডসকে জিততে দিল না জাপান প্রথম ম্যাচে যে রেকর্ড ডাকছে মেসিকে
Nagad desktop

নির্বাচনি রোডম্যাপ চায় দলগুলো

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ১০:১৫ এএম
আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৩৫ এএম
নির্বাচনি রোডম্যাপ চায় দলগুলো
সরকারি বাসভবন যমুনায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ করে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতারা।

তারা বলছেন, আজ হোক, কাল হোক জাতীয় নির্বাচনে যেতে হবে। যত দ্রুত সংস্কারকাজ করে নির্বাচন দেওয়া হবে, ততই তা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ভালো এবং রাজনীতি ও দলের জন্যও ভালো হবে।

শনিবার (৫ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় বেলা আড়াইটা থেকে বিএনপির সঙ্গে প্রথম সংলাপ শুরু হয়।

প্রতিটি দল ও জোটের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী চলে এ সংলাপ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ১৮টি রাজনৈতিক দলের এটি তৃতীয় দফার সংলাপ।

সংলাপে রাজনৈতিক দলের আমন্ত্রিত নেতারা জানান, প্রথমত তারা প্রধান উপদেষ্টার কথা শোনেন। পরে তারা রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ বিষয়ে সরকারের মনোভাব এবং তাদের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেছেন, সংলাপের সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে সব রাজনৈতিক দল সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে ছয় কমিশন।

নির্বাচনের রোডম্যাপ চায় বিএনপি

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেয়। বেলা আড়াইটার দিকে দলটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করে এবং ঘণ্টাব্যাপী হয় আলোচনা।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ জানতে চেয়েছি আমরা। অন্তর্বর্তী সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকারও নির্বাচন।’ এটি প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল ছাড়াও সংলাপে অংশ নেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংস্কার করতে হবে। এ ছাড়া আগামী নির্বাচন কবে হবে তার একটা রোডম্যাপ দিতে বলেছি। বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি যেন সংস্কার কমিটিতে না আসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এনআইডি কার্ড হস্তান্তরে আইন বাতিল এবং ইউনিয়ন পরিষদ বাতিলের দাবি জানিয়েছি। পাতানো নির্বাচন করার দায়ে বিগত তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনারদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের মূল হোতা বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনার দাবি জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে স্বৈরাচারের নিয়োগ করা দোসররা এখনো রয়েছেন। তাদের অবিলম্বে সরিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে বসানোর কথা বলেছি। বিতর্কিত জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সরিয়ে দেওয়া এবং নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কথা বলেছি। গত ১৫ বছরে যাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, তাদের পদোন্নতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিচার বিভাগে ৩০ জন বিচারপতি ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নিয়োগ করা। দলকানা এসব বিচারপতিকে দ্রুত অপসারণ দাবি জানিয়েছি। নতুন পিপি ও জিপি নিয়োগ করার কথা বলেছি। এ ছাড়া শেখ হাসিনার পতনের পর যারা সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাদের আবারও জামিন দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। দুর্নীতিবাজ এমপি-মন্ত্রী-আমলারা কীভাবে বিদেশ পালাচ্ছেন, তা খুঁজে বের করতে এবং স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে বসে যে ষড়যন্ত্র করছেন- এ ব্যাপারে ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। গুমের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জাতিসংঘের টিমকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার ও নিশ্চিতকরণে প্রস্তাব করেছি।’

নির্বাচনের আগে সংস্কার জরুরি: জামায়াত

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, আ ন ম শামসুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যমুনায় প্রবেশ করেন। বৈঠক শেষে জামায়াতের আমির জানান, সংস্কার ও নির্বাচন- এই দুটি রোডম্যাপ দিয়েছে জামায়াত। ভোটের আগে সংস্কার, এরপর নির্বাচন। এ জন্য অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। কারণ নির্বাচনের আগে সংস্কার বেশি জরুরি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দেশ শাসনের জন্য আসেনি। তারা দেশে শাসনের সুষ্ঠু পথ বিনির্মাণের জন্য এসেছে। আমরা আশা করব, বর্তমান সরকার কোনো পক্ষ-বিপক্ষের মানসিকতা না নিয়ে দেশকে একটি ভালো জায়গায় নিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে সক্ষম হবে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী ৯ অক্টোবর রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। আমরা সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চাই, সেটা কতদিনের তা আমরা জানাব।’

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব ইসলামী আন্দোলনের
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পিআর পদ্ধতিতে (সংখ্যানুপাতিক হারে) জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আরও ৯টি সংস্কার কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। এগুলো হলো- আইনবিষয়ক সংস্কার কমিশন, নাগরিক সেবাবিষয়ক সংস্কার কমিশন, পররাষ্ট্রবিষয়ক সংস্কার কমিশন, শিক্ষাবিষয়ক সংস্কার কমিশন, বাকস্বাধীনতাবিষয়ক সংস্কার কমিশন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্কার কমিশন, শ্রমজীবীবিষয়ক সংস্কার কমিশন, সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক সংস্কার কমিশন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সংস্কার কমিশন।

বিকেল ৫টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীরের নেতৃত্বে দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ অংশ নেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘খুনি, অর্থ পাচারকারী, দাগি অপরাধীরা কীভাবে দেশ থেকে পালাল? আপনারা কেন তাদের দেশত্যাগের সুযোগ করে দিয়েছেন। যতটুকু সময় লাগে সংস্কারকাজ শেষ করে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। স্বৈরাচার খুনিরা যেন কোনোভাবে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হতে না পারে, সে ব্যবস্থা করে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে।’

মামলা প্রত্যাহার ও সংস্কারকাজ দ্রুত করার তাগিদ হেফাজতের
বৈঠকে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা তিন শতাধিক মামলা প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্র সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা শায়খ সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, আবদুল বাসেত আজাদ, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মহিউদ্দীন রব্বানী, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রমুখ।

২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার; নতুন শিক্ষানীতি ব্যবস্থায় কমিটিতে দুজন বিশেষজ্ঞ আলেম-ওলামায়ে অন্তর্ভুক্ত; শিক্ষা কমিশনের প্রধানকে সরিয়ে দেওয়া, বায়তুল মোকাররমে খতিব নিয়োগে পরামর্শ করা, দ্রব্যমূল্য কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দুই-তিন মাসের মধ্যে নতুন পুলিশ নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।

নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার শেষে দ্রুত রোডম্যাপ চায় বাম জোট
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করার মাধ্যমেও গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে তারা প্রস্তাবে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং সমন্বয়ক ও বাসদ-মার্কসবাদী দলের সমন্বয়ক মাসুদ রানা নেতৃত্বে ৯ জনের একটি প্রতিনিধিদল।

লিখিত প্রস্তাবে জোট নেতারা বলেন, ‘সভায় ছয়টি কমিশনের কাজের অগ্রগতি এবং কমিশনের প্রধানদের নিয়ে, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কমিশনপ্রধান নিয়ে বিতর্ক এবং সন্দেহ অনভিপ্রেত।’ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংবিধান যতটুকু সংশোধন দরকার, ততটুকু সংশোধন করার উদ্যোগ, নির্বাচনের রোডম্যাপ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিন্ডিকেট ভাঙা, সমতল ও পাহাড়ের জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের ঘটনার বিচার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার দাবি জানান।

দুই বছরের মধ্য নির্বাচনসহ ১৩ প্রস্তাব এবি পার্টির
সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ১১টি দাবি জানিয়েছে এবি পার্টি। দাবিগুলো হলো- আগামী দুই মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশকে সক্রিয় করা, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, আইন, স্বাস্থ্যসহ যেসব মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়, সেখানে দায়িত্বে রদবদল আনা, অবিলম্বে গণতদন্ত কমিশন গঠন করে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সব নৃশংসতা জাতির সামনে তুলে ধরা এবং শহিদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। গণহত্যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগী ব্যক্তি, সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের বিচারের জন্য ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’-এর পাশাপাশি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করা, রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-জনতার ঐক্যকে সুসংহত করতে একটি ‘শক্তিশালী সমন্বয় টিম’ গঠন করা, দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা।

নতুন ইসি গঠন এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ চায় গণতন্ত্র মঞ্চ
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার দাবি জানিয়েছে ৬-দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ।

শনিবার বিকেল ৫টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী হয় এ সংলাপ। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য কমানো, শিল্প অঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলনে অস্থিরতা কমাতে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ সংলাপে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সাইফুল হক বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা বলেছি, একটি সফল নির্বাচন করতে পারলে তাদের যাত্রা সফল হবে। যদি তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশ ব্যর্থ হবে। তাই নির্বাচনের রোডম্যাপের ব্যাপারে তাদের মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’

গণ অধিকার পরিষদের দুই অংশ
শনিবার রাত সোয়া ৮টায় সভাপতি নুরুল হক নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের নেতৃত্বে গণ অধিকার পরিষদের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়। এর আগে পৌনে ৮টার দিকে গণ অধিকার পরিষদের আরেক অংশের প্রধান উপদেষ্টা ড. রেজা কিবরিয়া, আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব ফারুকের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেয়। তারা গণহত্যাকারী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

আগাম অবহিত করার পরও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. জাহেদ। 

সোমবার (১৫ জুন) থেকে দিল্লিতে দুই দিনের ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। এতে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকের খবরে জানা গেছে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে উপদেষ্টার অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে রহস্যজনক কারণে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। 

তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। এমন পরিস্থিতিকে আত্মসম্মানে আঘাত হিসেবে দেখে পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন জাহেদ উর রহমান। 

পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

রাতেই তিনি তৃতীয় একটি দেশ হয়ে দেশে ফিরে আসার ফ্লাইট ধরেন। সোমবার দুপুরের আগেই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা
ছবি: সংগৃহীত

একসময়ের মহাপ্রতাপশালী হিসেবে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ব্যাপক পরিচিত। যিনি বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময়ে অনেকের কাছেই ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। বলা হয়ে থাকে– বেনজীর আহমেদ সে সময়ের অনেক মন্ত্রীর চেয়েও ক্ষমতাধর ছিলেন। সেই বেনজীর আহমেদ এবার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ‘ইন্টারপোল’ এর সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিদেশে পলাতক বা আত্মগোপনে থাকা অন্য আসামিরাও এখন আতঙ্কে ভুগছেন বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

রবিবার (১৪ জুন) ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটের ‘রেড নোটিশ’ তালিকায় সারা বিশ্বের ৬ হাজার ৪৪২ জন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামির নাম, ছবি ও বয়সসহ প্রাথমিক তথ্য দেখা গেছে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি রয়েছেন ৫৯ জন। সাম্প্রতিক সময়ে এ তালিকায় নতুন মাত্র কয়েকজন যুক্ত হলেও অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে ওই ওয়েবসাইটের রেড নোটিশের তালিকায় প্রদর্শিত হয়ে আসছেন।

যদিও এই রেড নোটিশের তালিকায় গতকাল পর্যন্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের নাম বা ছবি কোনো কিছুই দেখা যায়নি। তবে ইন্টারপোলের কাছে ‘অফিশিয়ালি’ বাংলাদেশ পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা চেয়েছিল বলে জানা গেছে। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের একজন এআইজি খবরের কাগজকে বলেন, ইন্টারপোলের পলিসি অনুসারে কিছু ক্ষেত্রে কোনো আসামির নাম বা ছবি তালিকায় না রেখে অপ্রকাশিত রাখা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদ ইন্টারপোলের রেড নোটিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তার নাম বা ছবি দেখা যায়নি।

এ কারণে দুবাইয়ে ‘বিপুল অর্থসম্পদ’ বিনিয়োগের তথ্য থাকা বেনজীর আহমেদ সেখানে গ্রেপ্তার হওয়ায় অন্য আলোচিত আসামিদের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইন্টারপোলের তালিকায় থাকা বা পলাতক হিসেবে বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে থাকা গুরুতর ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলার আসামিরা অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত বলে মনে করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের আসামি যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে ভীতি বা আতঙ্ক কাজ করবে। অনেকেই যারা আত্মগোপনে রয়েছেন, তারা একই জায়গায় বেশি দিন থাকবেন না। তারা গ্রেপ্তার এড়াতে অবস্থান পাল্টাবেন–এগুলো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ‘আমি মনে করি, এই ধরনের (বেনজীর) আসামি যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, ক্ষমতার চেয়ারে বসে রাষ্ট্রকে বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন– তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি। কেননা, শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে তা অন্যদের জন্য সতর্ক বার্তা বা শিক্ষণীয় হবে।

একই সঙ্গে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জায়গাগুলো আরও মজবুত হবে। ফলে বিদেশে গ্রেপ্তারেই যেন সবকিছু থমকে না থাকে। দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আইনানুসারে যথাযথ বিচার বা শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল এই প্রক্রিয়ার সার্বিক সুফল পাওয়া যাবে।

এ প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা ক্ষমতার চেয়ারে বসে বেপরোয়া দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা বা অপেশাদার আচরণ করেন–এমন কর্মকর্তাদের জন্য সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তারের ঘটনাটি অবশ্যই শিক্ষণীয়।

যদিও এমন বিভিন্ন ঘটনা থেকেও অনেকে শিক্ষা নেন না। তার পরও পুলিশ, প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রেই কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সরকারের জবাবদিহিমূলক কঠোর অবস্থান জারি রাখতে হবে। এতে সরকারের সঙ্গে জনগণের সুসম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইজিপি (মহাপরিদর্শক) আব্দুল কাইয়ুম খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিটি সরকারি চাকরিতে বা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্ধারিত রুলস বা বিধিবিধান রয়েছে। কিন্তু অনেকেই সেটি মনে রাখেন না। চেয়ার পেলেই অনেকেই হয়ে যান লাগামছাড়া। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অপেশাদার আচরণ তাদের এমনভাবে বাড়তে থাকে, যা সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কিন্তু সবার মনে রাখা দরকার, কোনো চেয়ার বা ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। সেটা মাথায় রেখে শুধু পুলিশ কর্মকর্তা নন, যেকোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যতে অসম্মানজনক পরিণতির শিকার হতে না হয়।

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘রেড নোটিশ’ বা লাল সংকেতের তালিকাটি হচ্ছে–বিশ্বব্যাপী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে এবং প্রত্যর্পণ, আত্মসমর্পণ বা অনুরূপ আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে সাময়িকভাবে গ্রেপ্তার করার একটি অনুরোধ। তবে রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মূলত অনুরোধকারী সদস্য দেশ বা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল দ্বারা ‘ওয়ান্টেড’। সদস্য দেশগুলো কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাদের নিজস্ব আইন প্রয়োগ করে। অধিকাংশ রেড নোটিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ।

গতকাল পর্যন্ত ইন্টারপোলের রেড নোটিশের তালিকায় থাকা ৫৯ জন বাংলাদেশি হলেন–

রাজু ঢালি (৪২), মো. মিলন (৩৭), লিটন ব্যাপারী (৪৭), রবিউল ইসলাম রবিউল ওরফে আরাভ খান (৩৮), জাফর ইকবাল (৪৪), তানজিরুল (৪১), স্বপন (৩৪), নজরুল ইসলাম মোল্লা (৪৯), মিন্টু মিয়া (৪৭), ওয়াসিম (৪১), খোরশেদ আলম (৪৩), গিয়াস উদ্দিন (৫৬), অশোক কুমার দাস (৪৫), মিজান মিয়া (৪৮), কুমার চন্দ্র রায় (৪৬), রাতুল আহমেদ বাবু (৪৫), মো. সিরাজ মোস্তফা লালু (৩০), জাহিদ হোসাইন খোকন (৮৪), মো. সাঈদ হোসাইন ওরফে হোসেন (৭৪), মো. হাছান আলী সাঈদ ওরফে সৈয়দ মো. হাছান আলী (৭৮), আজিজুর রহমান (৫০), অজয় বিশ্বাস (৪৪), তরিকুল ইসলাম (৩৯), এন এ হানিফ (৪১), আলাউদ্দিন মোহাম্মদ (৫৩), মোহাম্মদ সবুজ ফকির (৫১), মোহাম্মদ মনির ভুঁইয়া (৬২), শফিকুল (৫৮), আমান উল্লাহ শফিক (৪৪) আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার (৭৯), জাহিদুল ইসলাম (৭০), সাজ্জাদ হোসাইন খান (৪৭), মো. নাঈম খান ইকরাম (৫৭), কালা জাহাঙ্গীর ওরফে ফেরদৌস (৪৮), মো. ইউসুফ (৭৯), আব্দুল আলিম শরীফ (৫৬), আহমেদ মজনু (৫৩), নুরুল দিপু (৪৯), মুহাম্মদ ফজলুল আমিন জাভেদ (৩৮), এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী (৭৫), খন্দকার আবদুর রশিদ (৭৯), নাজমুল হোসেন আনসার (৭৩), শরিফুল হক ডালিম (৮০), আহমেদ শরিফুল হোসেন (৮৩), মুসলেম উদ্দিন খান (৮৮), এ এম রাশেদ চৌধুরী (৭৯), চৌধুরী মোহাম্মদ আতাউর রহমান (৬৪), আলহাজ মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন মিয়া (৫৩), সালাউদ্দিন মিন্টু (৪৬), গোলাম ফারুক অভি (৬০), হারুন শেখ (৫৫), তৌফিক আলম (৫১), আহমেদ জাফর (৫৬), রফিকুল ইসলাম (৫৫), জিসান আহমেদ (৫৬), আমীনুর রসুল (৬৮), নবী হোসেন (৫৬), প্রকাশ কুমার বিশ্বাস (৫৩) এবং আব্দুল জব্বার (৫৪)।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় তিন মাস ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে এই পদে নিয়োগ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে নতুন সরকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম। দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)। সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ কার্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সচিব পদ শূন্য থাকলেও কার্যালয়ের কার্যক্রম থেমে নেই। তবে পূর্ণকালীন সচিব না থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নথি নিষ্পত্তি এবং সমন্বয়মূলক কিছু কর্মকাণ্ডে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত সময় লাগছে। মুখ্য সচিব অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদটি কেবল একটি প্রশাসনিক পদ নয়; এটি সরকারের কেন্দ্রীয় সমন্বয় ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। মুখ্য সচিব নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো তদারকি করলেও সচিবের ওপর দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প তদারকি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যবস্থাপনা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার বড় দায়িত্ব থাকে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ পদ শূন্য থাকাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না অনেক কর্মকর্তা।

প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার এমন একজন কর্মকর্তাকে খুঁজছে, যিনি দক্ষতা, সততা, পেশাদারত্ব এবং প্রশাসনিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পদায়নে শুধু জ্যেষ্ঠতাই নয়, বরং অতীত কর্মজীবন, পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং সরকারের আস্থার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে বলে মনে করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তারা জানান, গত কয়েক মাসে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের অভ্যন্তরে গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

অতীতে বিতর্ক বা পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্টদের কর্মজীবনের নানা দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদায়নকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার অপেক্ষাকৃত বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শুধু তদবির বা লবিংয়ের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের সুযোগ আগের তুলনায় অনেক সীমিত বলে তারা মনে করেন।

এদিকে সচিব পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় মুখ্য সচিবের ওপর বাড়তি কাজের চাপ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বের পরিধি এমনিতেই ব্যাপক। এর সঙ্গে সচিবের দায়িত্বের অতিরিক্ত অংশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাড়তি চাপে রয়েছেন মুখ্য সচিব। এতে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ এই পদের শূন্যতা সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের গতিকে শ্লথ করে দিতে পারে। প্রশাসনসংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে এবং সমন্বয়মূলক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। 

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদে নিয়োগের আলোচনায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম বিবেচনায় থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। 

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলেও এতে খুব বেশি অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কারণ সেখানে মুখ্য সচিব, যুগ্ম সচিব, পিএস রয়েছেন। তারা সবাই প্রশাসনের কর্মকর্তা। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সচিবালয়ে অফিস করছেন, তাই সেখানে হাতের কাছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবও রয়েছেন। আমি মনে করি, হঠাৎ করে বা তড়িঘড়ি করে এই পদে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে বিব্রত হওয়ার চেয়ে একটু দেখেশুনে অপেক্ষা করে যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়াই শ্রেয়তর হবে।

খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:০৭ এএম
খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান
ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা বিকাশে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

 রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে অবহেলা ও অযত্নে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। একটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের পেছনে থাকে দীর্ঘ সময়ের গবেষণা, চিন্তা ও সৃজনশীল প্রচেষ্টা। শিক্ষার্থীদের সেই শ্রম ও মেধার প্রতিফলনই প্রদর্শিত হয়েছে এ আয়োজনের প্রতিটি প্রকল্পে।

তিনি আরও বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতা দেশের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে। কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষাকে আনন্দময়, সৃজনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ করতে হবে। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

প্রতিযোগিতায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রথম, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ দ্বিতীয় এবং হলিক্রস উচ্চবিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন সদস্য ছিল। জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় মোট ১৮৫ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজনটি করে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

এসএন/

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের লোগো।

আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মৃত্তিকা সাহা/নাঈম