অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘অতীতের কথা বাদ দিয়ে এমন একটা ব্যবস্থা করে যেতে চাই, যাতে জাতি চিরদিন মনে রাখে। দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় এমন সব মৌলিক পরিবর্তন করতে চাই, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়।’
বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নির্বাচন ভবনে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। এর আগে ড. বদিউল আলম সংস্কার কমিশনের সদস্যদের নিয়ে নির্বাচন ভবনের চতুর্থ তলায় আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের প্রথম বৈঠক করেন।
জানা যায়, বুধবার থেকে সাবেক নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিবের অফিস কক্ষকে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন প্রধানের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়। কমিশনের সদস্যরাও ইসি ভবনেই নিয়মিত অফিস করবেন। কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঙ্গে দেখা করতে যান ইসি সচিব শফিউল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সাংবাদিকদের ড. বদিউল আলম বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে সংবিধান, অনেক আইন ও বিধি-বিধান যুক্ত। সংবিধানে নির্বাচনসংক্রান্ত যেসব বিধান আছে, প্রথমে সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) সবকটি বিধিবিধান পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হবে। সেখানে কোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন দরকার কি-না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তারপর প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো নির্বাচন কমিশন। এই প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে আরও নিরপেক্ষ কার্যকরী করা যায়, সঠিক ব্যক্তিদের কীভাবে নিয়োগ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ থাকবে।
ইসি ছাড়াও নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে উল্লেখ করে কমিশন প্রধান বলেন, সেসব প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে নিরপেক্ষ ও কার্যকর করা যায়, সঠিক ব্যক্তিদের নিয়োগ করা যায়, এ বিষয়েও সুপারিশের চেষ্টা করা হবে। তারপর নির্বাচনে যারা অংশীজন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেবে কমিশন।
সংস্কারের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গেও যতটুকু সম্ভব আলোচনা করা হবে জানিয়ে ড. বদিউল আলম বলেন, ‘নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন পদ্ধতি পর্যালোচনা করব। আমরা অতীতের নির্বাচনগুলো খতিয়ে দেখে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করব এবং পার্শ্ববর্তী দেশের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চেষ্টা করব। সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ ও প্রস্তাব নেওয়া হবে। তবে কোন পদ্ধতিতে এটি হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। এভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর আমরা প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দেব। এগুলো আমরা প্রাথমিকভাবে চিন্তা করেছি।’
সংস্কার কমিশন সম্পর্কে ড. বদিউল আলম বলেন, ‘এই কমিশনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিশনের কাজের ওপর পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি হবে ও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। এই কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচনব্যবস্থা একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব। এই দায়িত্বটা সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করব। আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করব; যাতে শহিদদের রক্তের ঋণ আমরা শোধ করতে পারি। আপনাদের সবার সহায়তা চাই।’
নির্বাচন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা তথ্য ছড়ানোর পরিবর্তে আলো ছড়াতে সহায়তা করবেন। আগে আমরা বক্তা ছিলাম, এখন আমরা শ্রোতা। আপনাদের কাছ থেকে নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা শুনতে চাই। এই কমিশনের মোট ৮ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে একজন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আমরা কাজ করার জন্য আপনাদের অভিজ্ঞতা ও আইডিয়া গ্রহণ করব। বিশেষ করে যারা নির্বাচনবিষয়ক সাংবাদিকতা করেন, তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।’