ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২ দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে দিনাজপুরে বেড়ার হোটেলে নিম্নমানের খাবারসহ একাধিক অভিযোগ ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু বিশ্বকাপ নিয়ে অনারের ক্যাম্পেইন, ফোন-ট্যাবলেটসহ পুরস্কার জেতার সুযোগ বিশ্বকাপের আগে জয়ের ধারায় ফিরল স্পেন ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ে অনার্স কোর্স টিভিতে আজকের খেলা
Nagad desktop

রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে মতবিরোধ

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০২:০৬ পিএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০২:০৮ পিএম
রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে মতবিরোধ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইস্যুতে সৃষ্ট মতবিরোধ ঘোচাতে শনিবার (২৬ অক্টোবর) ও আগের দিন শুক্রবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির ছাত্র নেতৃত্ব। এসব বৈঠকে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিষয়ে নানামুখী মতামত উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। 

নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, সাংবিধানিক সংকট এড়াতে রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে কঠোর অবস্থানে যেতে রাজি নয় বিএনপি। দলটি মনে করে, রাষ্ট্রপতিকে সরালে নানা ধরনের সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে এবং এতে নির্বাচন পিছিয়ে যাবে।

পক্ষান্তরে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলো রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিষয়ে প্রায় একমত। এই দলগুলো মনে করে, যেহেতু গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে এবং একধরনের বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়েছে, সেহেতু এই সরকারের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংবিধানের মিল নেই। সুতরাং শুধু রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে সাংবিধানিকভাবে অনড় থাকার যুক্তি নেই। ফলে তারা রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে সবকিছু ঢেলে সাজানোর পক্ষে।

অন্যদিকে বিএনপি মনে করে, রাষ্ট্রপতিকে সরানো হলে সাংবিধানিক সংকট দেখা দেবে। এতে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে এবং তৃতীয় শক্তির হস্তক্ষেপও অমূলক নয়। বিএনপি তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের পক্ষে। এ জন্য তারা রাষ্ট্রপতিকে তার পদে বহাল রাখতে চায়। তার পদে থাকার ন্যূনতম হলেও সাংবিধানিক ভিত্তি আছে বলে তারা মনে করে। তবে এর ঘোরতর বিরোধী অন্য দলগুলো। তারা মনে করে, রাষ্ট্রপতি তার পদে বহাল থাকলে কখনো কোনো সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগ সরকার বা শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নেবেন। রাষ্ট্রপতির ন্যূনতম এই সুযোগটি তারা সাংবিধানিকভাবে রাখতে রাজি নয়। বিপ্লবী সরকারের আদলে তারা আমূল পরির্বতন চায়। সে ক্ষেত্রে সংবিধানকে দূরে রাখার পক্ষে তারা। ইতোমধ্যে ছাত্র নেতৃত্বসহ কয়েকটি দল নতুন সংবিধান তৈরির কথাও বলেছে।

গতকাল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং পরদিন শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈঠক করেছে তারা। এ ছাড়া টেলিফোনে ছোট দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির অপসারণের ব্যাপারে মতামত নিচ্ছে ছাত্র নেতৃত্ব। এরও আগে উপদেষ্টা পরিষদে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে গতকাল দুপুরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে এই বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। পুরো ঘটনা বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
 
বিএনপির সঙ্গে ছাত্র নেতৃত্ব ও জাতীয় নাগরিক কমিটির বৈঠক 
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতৃত্ব ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। গতকাল বিকেল সোয়া ৫টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মূলত রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন ছাত্রনেতারা। তারা বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দালিলিক প্রমাণ নেই বলে রাষ্ট্রপতি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে একমত হয়ে এর সমাধান করতে হবে।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির প্রতি বিএনপির কোনো সহানুভূতি নেই। কিন্তু তাকে সরানোর পর কী পরিস্থিতি হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিএনপির।

বৈঠকের শেষে ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বিলুপ্তির প্রাথমিক ধাপে শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছি। কিন্তু ফ্যাসিবাদের পূর্ণাঙ্গ বিলুপ্তির পথে আরেকটি বাধা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। দুই দিন ধরে গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। এরই অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গেও আলোচনা করেছি। দ্বিতীয় স্বাধীনতা কীভাবে অক্ষুণ্ন রাখা যায়, রাষ্ট্রপতির অপসারণে কীভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে নিয়ে আসা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে জাতীয় ঐক্য কীভাবে ধরে রাখা যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের এই সংলাপ অব্যাহত থাকবে।’ 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমাদের মতামত শুনেছে। তারা বলেছে, এ ব্যাপারে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।’

জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই চলে যেতে হবে। আমরা এই দাবি নিয়ে মাঠে থাকব। ছাত্রদের পাশে আছি এবং থাকব।’

বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন; বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসুদ, রিফাত রশিদ প্রমুখ। 

চরমোনাই পীরের সঙ্গে বৈঠক 
গতকাল বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সঙ্গে বৈঠক করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। সূত্র জানায়, বৈঠকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর বিষয়ে ছাত্রদের দাবির সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন নীতিগতভাবে একমত বলে জানায়। কারণ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বলছে, রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে মিথ্যাচার করে তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। তিনি এই পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির অপসারণের পক্ষে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি ইস্যুর সমাধান চায় তারা।

বিদ্যমান সংবিধান বাতিল বা সংশোধন করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। কেউ কেউ বলেছেন, এই সংবিধান ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগ তাদের ইচ্ছামত এটি ব্যবহার করেছে। এই সংবিধান বাতিল করে তাই নতুন সংবিধান লিখতে হবে। তা ছাড়া রাষ্ট্রপতির অপসারণের পর করণীয় কী হবে, সেসব বিষয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আরও আলোচনা করে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সমাধান চায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটি। 

ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীর, প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

এবি পার্টির সঙ্গে বৈঠক 
এ ছাড়া আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। বৈঠকে এবি পার্টি রাষ্ট্রপতিকে সরানোর ব্যাপারে মত দিয়েছে। দলটি মনে করে, যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিপ্লবী সরকার। ফলে এখানে সাংবিধানিক কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধান মোতাবেক চলতে গেলে ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়বে। 

গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ 
রাষ্ট্রপতির অপসারণ বা পদত্যাগ ইস্যুতে নুরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রথমে ছাত্র নেতৃত্ব ও নাগরিক কমিটি রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ছিল না। কিন্তু যখনই বিএনপি বলল তারা দেশে সাংবিধানিক সংকট চায় না, তখনই তারা ৩৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। তারা মনে করে, বিএনপির সঙ্গে মিল রেখে চললে সবাই বিএনপি ভাবতে শুরু করবে। তারা সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণ ইস্যুর সমাধান চায়। তবে গণভবনের সামনে বিক্ষোভ হোক এটা ছাত্রনেতারা চান না।

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে নিয়োগ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। আর এই রাষ্ট্রপতির অধীনেই শপথ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়ার পর করণীয় কী হবে, কী ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কিন্তু সেই ধরনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখছি না।’

গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট ও গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈঠক আজ
আজ রবিবার সন্ধ্যায় গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট ও গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির বৈঠক হতে পারে। গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক খবরের কাগজকে বলেন, রাষ্ট্রপতি তার পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে পদের গুরুত্ব ও মর্যাদা তিনি রক্ষা করতে পারেননি। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। এই পদে তার থাকা চলে না। 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতিকে সাংবিধানিকভাবে সরানোর উপায় নেই। বিশেষ কোনো মহল ও গোষ্ঠীর সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া ঠিক হবে না। তার অপসারণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে একমত হতে হবে। যদি উনি সরে যান তাহলে কী সংকট দেখা দিতে পারে, তারও বিশ্লেষণ হওয়া প্রয়োজন।

সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সরকার ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার চাইছে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকুক, তাই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ সংশোধন করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ চাইলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, যেহেতু এটা নির্দলীয়ভাবে হচ্ছে।’

সরকার ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় ডিজেলের দাম বাড়ায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে পাঁচ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত আছে।’ 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের সব উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। দেশে মাত্র ৮টি উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল রয়েছে। সারা দেশে ইতোমধ্যে ৬৬৬টি খাল খনন করা হয়েছে।’

সীমান্তে পুশইন ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে পুশইন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। এটাতে বাংলাদেশ চাপে আছে, এমন মনে হচ্ছে না।’

সরকার চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কিনতে কাজ করছে বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। 

সালমান/ 

এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি এক লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রা‌শিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে‌ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। রুশ কর্তৃপক্ষ এ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রাশিয়ায় কাজ করছেন। সেখানে জনশক্তি রপ্তানি এক লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা দ্রুত এ বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়। উভয়পক্ষ শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও উভয়পক্ষ একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধের দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর জোর দেন।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সহযো‌গিতা নিয়ে আলোচনা হ‌য়। কৃষি ও স্বাস্থ্যে এআই-এর প্রয়োগের বিষয়ে রা‌শিয়ার একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসার বিষয়ে সম্মতি জানায়।

খ‌লিলুর রহমান তিন দিনের সফরে বর্তমানে রা‌শিয়ায় রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সঙ্গে রয়েছেন।

অমিয়/

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা
ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভাটি শুরু হয়।

পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া একনেক সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে ১২টি প্রকল্প তোলা হবে। যেখানে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। অবকাঠামো উন্নয়ন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সেবা, তথ্য প্রযুক্তি, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ জ্বালানি, সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পগুলো প্রস্তুত করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

এবারের একনেক সভার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন চীন সফরের আগেই প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৮০০ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক জোন স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন পেতে পারে এ সভায়।

এ ছাড়া শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২ নামে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব উঠছে একনেকে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগামী জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে সময় ধরা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৩৪৪ কোটি টাকা।

আজকের একনেক বৈঠকে আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণসহ আরও কয়েকটি বড় প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সালমান/

বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ ৯ জুন। বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং প্রাত্যহিক জীবনের পণ্য ও সেবার নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং আস্থার ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরাই এই দিবসের মূল লক্ষ্য। 

২০০৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (আইএএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশনের (আইএলএসি) যৌথ সাধারণ সভায় এই দিবসটি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০৮ সালের ৯ জুন প্রথম বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস পালন করা হয়। আজ দিবসটি পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (BAB) বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন: অ্যাক্রেডিটেশনের শক্তি।’

এদিকে দিবসটি পালন উপলক্ষে গতকাল সোমবার বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন কেবল একটি সনদ বা স্বীকৃতি নয়, বরং এটি দেশের শিল্প খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। 

তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাক্রেডিটেশন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য ও সেবার গুণগত মান যাচাই করে। বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। এই প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।’

বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। বর্তমানের ভোক্তারা অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু পণ্যের গুণগত মানই নয়, বরং উৎপাদনের নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নেন।’

বাণীতে বলা হয়, বিএবি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বর্তমানে পাঁচটি ক্ষেত্রভিত্তিক স্কিমের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি দেশে ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক সংস্থাকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করেছে, যা বাংলাদেশের পণ্য ও সেবাকে বিশ্ববাজারে আরও গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে।

টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, কোনো তদন্তের মাধ্যমে নয়। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই করে বক্তব্য দেয় না।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গত রবিবার প্রকাশিত টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৯ জন নারী ও শিশু।

প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সামনে টিআইবির রিপোর্টটি নেই। আমরা মাসভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করি। ডাকাতি, হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়। সম্প্রতি আমি আরেকটি প্রতিবেদন দেখেছি, যেখানে ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমান সময়ে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দেখা গেছে।’

টিআইবির মূল্যায়নকে সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে–এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। তারা মূলত পত্রিকার কাটিংয়ের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করে, কোনো তদন্ত করে না। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা যাচাই-বাছাই করে বক্তব্য দেয় না। আমাদের কাছে পুলিশের সংগ্রহ করা তথ্য রয়েছে, যা জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা হয়। এগুলোই প্রকৃত তথ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদপত্রে অনেক খবর প্রকাশিত হয়। তবে প্রতিটি সংবাদ শতভাগ সঠিক, এমন বলা যাবে না। আমরা প্রকাশিত সংবাদগুলো পর্যালোচনা করি ও প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে তদন্তের জন্য পাঠাই। টিআইবির রিপোর্টও পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

পুলিশের তদন্ত ব্যয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন তদন্ত কর্মকর্তা একটি মামলায় মাত্র ৬ হাজার টাকা পান, যা পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও পুলিশি টহলের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা চেষ্টা করব।’

পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে ও অনেক ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান।

পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর মূল্যায়ন জনগণ ও গণমাধ্যমই করবে। আমরা পুলিশকে একটি জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তরের চেষ্টা করছি। ভালো কাজের স্বীকৃতি ও অনিয়মের জন্য শাস্তি–এই নীতিতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’